টিকিটের দাম উসুল, বেশি ডিমান্ড থাকলে হৃদয় খোঁড়ার পরিশ্রম দরকার

0
205

prasenjitপ্রসেনজিৎ চক্রবর্তী

‘আমার কাছে এখনো পড়ে আছে/তোমার প্রিয় হারিয়ে যাওয়া চাবি/কেমন করে তোরঙ্গ আজ খোল’ —  প্রশ্নের উত্তরটা ঋতুপর্ণা পেয়ে গিয়েছিলেন সিনেমার প্রায় শুরুতেই। উত্তরটা দিয়েছিলেন তিনি, ‘প্রাক্তন’ ছবির জন্য যদি কোনও এক জন অভিনেতা পুরস্কার পান, সেটা যিনি পাবেন – সেই অপরাজিতা আঢ্য। তার পর গড়িয়ে গেল জল, যেমন গড়ায়। যা যা মশলা লাগে ছবি হিট করাতে, এমনিতে সবই ভাঁড়ারে মজুত রাখেন শিবপ্রসাদ-নন্দিতা। তার ওপর এমন অ্যাম্বিশাস প্রোজেক্ট। প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণা জুটির সেই মারকাটারি সময়ে যাঁরা নাক সিঁটকিয়ে ও-রস থেকে বঞ্চিত থেকেছেন, তাঁদেরও হলে টেনে নিয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ বলে কথা। পরিচালকদ্বয় কোনও কার্পণ্য করেননি। কোথাও কোথাও একটু বেশি মশলা হয়েছে বটে। সে তো ওঁদের থাকেই। ওটুকু মানিয়ে গুছিয়ে নিতে হবে। চরিত্র নির্মাণ, কাহিনি-চিত্রনাট্যের বাঁধন প্রায় নিখুঁত। সংলাপও যেমনটি চাই। প্রেডিক্টেবিলিটি আর আনপ্রেডিক্টেবিলিটির মিশেলটাও আড়াই ঘণ্টা ধরে নজর কাড়ে। সিনেমা যেমন হওয়ার কথা কিংবা জীবন।

প্রসেনজিতের সেই সেরা সময়ে, ঋতুপর্ণাকে ইন্ডাস্ট্রির বাইরে করে দিয়েছিলেন বুম্বাদা। সে সময় তো তিনিই ইন্ডাস্ট্রি ছিলেন। তার পর প্রায় অসাধ্য সাধন করে ঋতু ফিরে এসেছেন, নিজেকে পুনর্প্রতিষ্ঠিত করেছেন টালিগঞ্জে। কী করে পেরেছেন, তার প্রধান কারণটা ‘প্রাক্তন’ দেখলে মালুম হবে। গোটা ছবিতে অভিনয়ের দিক থেকে প্রসেনজিৎকে বলে বলে দশ গোল দিয়েছেন তিনি। প্রসেনজিতের দাঁত চেপে ডায়লগ বলা তো বরাবরই অসহ্য, কিন্তু রেগুলার সিচুয়েশনে তার এক্সপ্রেশনগুলোও যে তামাদি হয়ে গিয়েছে, বারবার তা নজরে পড়েছে। শুধু দীর্ঘদিন পর তাঁর ও ঋতুপর্ণার কথোপকথনের জায়গাটা বড় ন্যাচারাল লাগে। লাগবে না-ই বা কেন, শুধু ওটুকুর জন্যই তো এত আয়োজন।

বিজ্ঞাপন

সমস্যা হল, সেফ খেলতে গিয়ে ট্রেন জার্নির মতো আধার, অতগুলো চরিত্র নিয়েও হাত খুলে খেললেন না পরিচালকরা। সৌমিত্র-সাবিত্রীর মতো অভিনেতারা থেকে গেলেন স্রেফ আলঙ্কারিক ভূমিকায়। থিমেটিক সাবপ্লট বলতে অনিন্দ্য-সুরজিতের কথায় ‘ভূমি’ ব্যান্ডের ভেঙে যাওয়া নিয়ে মিনিট চারেকের হা হুতাশ আর নবদম্পতি বিশ্বনাথ-মানালির প্রাক্তন সম্পর্ক নিয়ে চর্চার রকমারি কার্টুনপনা। না বললে অন্যায় হবে, বিশ্বনাথ ভালো তবে স্বতস্ফূর্ত অভিনয়ে মানালি মাতিয়ে দিয়েছেন। আরও দু’-একটা ছোটো গল্পের ইঙ্গিত রাখতে পারলে দ্বিতীয়ার্ধটা প্রথমার্ধের মতোই টানটান হতে পারত। প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণার বিবাহিত জীবনের ফ্ল্যাশব্যাক কোনও কোনও সময় কিছুটা বেশি হয়ে গিয়েছে।

আর গান। অনুপম-অনিন্দ্য খুবই ভালো। তবে, তাদের থেকে বাঙালি ইতিমধ্যে যা পেয়েছে, তাতে আশা সহজে যেন মেটে না। তবু রেকর্ড থাক ‘তুমি যাকে ভালবাসো’ অনেক দিন টিকবে। শক্তি লিখেছিলেন, ‘অবান্তর স্মৃতির ভিতর আছে/ তোমার মুখ অশ্রু ঝলোমলো/ লিখিও উহা ফেরৎ চাহ কিনা’। এ কাহিনি তেমন কোনও দেনাপাওনার কথা বলে না। শুধু বলে, কেউ না জানুক ‘মনের গুপ্তচর’ জানে –- সব কিছুর পরেও ‘প্রাক্তন’ মানেই, ‘কখনও নেমে আসে অচেনা প্যারাশ্যুট/তোমাকে ভালবেসে আমার চিরকুট’।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here