বাহিনী সক্রিয় সত্ত্বেও বহু বুথে বিরোধী এজেন্টবিহীন শেষ দফার ভোট নির্বিঘ্নেই

0
165

খবর অনলাইন: বিক্ষিপ্ত কিছু গণ্ডগোল ছাড়া মোটের উপর নির্বিঘ্নেই শেষ হল শেষ দফার বিধানসভা নিবার্চন। গত দফাগুলোর মতো এ দিনও যথেষ্ট সক্রিয় ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। তা সত্ত্বে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে শাসক দলের বিরুদ্ধে রিগিং, হুমকি এবং ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ এনেছে বিরোধীরা। কোচবিহারের নাটাবাড়ি কেন্দ্রে ভোট কর্মীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তৃণমূল প্রার্থী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। অন্য দিকে কোচবিহারে তৃণমূলের অন্য এক হেভিওয়েট প্রার্থী উদয়ন গুহর বিরুদ্ধে ছাপ্পা ভোটে দেওয়ানোর অভিযোগে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। শেষ দফাতেও প্রথম কয়েক ঘণ্টাতেই ৩৫০ অভিযোগ জমা পড়ে কমিশনে।

রাজ্যে ষষ্ঠ তথা শেষ দফার নির্বাচনে পূর্ব মেদিনীপুরের ১৬টি এবং কোচবিহাহের ৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ ছিল। সকাল থেকে বুথে বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারি ছিল। তা সত্ত্বে বহু বুথে এজেন্ট-ই দিতে পারেনি বিরোধীরা। নন্দীগ্রামে বেশির ভাগ বুথে এজেন্টে বিরোধীদের কোনও এজেন্ট ছিল না। প্রায় একই ছবি দেখা গিয়েছে কোচবিহারের বেশ কয়েকটি বুথে, বিরোধী এজেন্টেদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি যথেষ্ট সক্রিয় ছিল রাজ্য পুলিশও। পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না কেন্দ্রের বাগচায় ভোটাদের প্রভাবিত করা অভিযোগে তিন তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পাঁশকুড়াতে বুথে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় বিরোধী এজেন্টকে। খবর পেতেই পুলিশ হস্তক্ষেপ করে তাদের বুথে বসানোর ব্যবস্থা করে। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জোড়া ‘বজ্র আঁটুনি’-তেও ‘গেরো ফস্কা’ হয়েছে। পড়েছে ছাপ্পা ভোট। পুটাশপুরে বেশ কয়েকটি বুথে মহিলা ভোটারদের ভোট পুরুষরা দিয়েছেন। এ অভিযোগ কানে যাওয়া সত্ত্বেও ‘নট নড়ন-চড়ন’ ভূমিকা ছিল রাজ্য পুলিশের ।

ভোটের সকাল থেকেই মাঠে নেমে পড়েন তৃণমূল সাংসদ শুভেন্দু অধিকারী। বাইকে, গাড়িতে, লঞ্চে কার্যত ঢুঁড়ে ফেলেন গোটা পূর্ব মেদিনীপুর। তাঁর অভিযোগ, ‘কেন্দ্রীয় বাহিনী এখন বিজেপি-র বাবুদের কথায় ওঠা-বসা করছে।’ তা সত্ত্বেও তাঁরা যে কম যান না তা স্পষ্ট করে দিয়ে শুভেন্দুবাবু বলেন,‘ প্রথম দু’দফা নির্বাচনের পরেই বাহিনী তাদের কৌশল বদল করেছে। সেই মতো আমরাও আমাদের কৌশল বদল করেছি।’

ভোট মিটতেই সাংবাদিক বৈঠক করে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বলেন, শাসকদলের ‘দফরফা’ হয়ে গিয়েছে। সরকার গঠনের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছে গিয়েছে বাম-কংগ্রেস জোট।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here