সেক্স টয়কে ‘দেবদূত’ ভেবে হুলুস্থুল-কাণ্ড ইন্দোনেশিয়ার একটি গ্রামে

0
306

খবর অনলাইন: ঠিক যেন শিবরাম চক্রবর্তীর দেবতার জন্ম গল্পের মতো।

আগের দিন সূযর্গ্রহণ গিয়েছে। এই সূর্যগ্রহণকে কেন্দ্র করে এমনিতেই নানা সংস্কার রয়েছে ইন্দোনেশিয়ায়। সেই সংস্কারই ইন্ধন দিয়েছে একটি ঘটনাকে।

ইন্দোনেশিয়ার কালুপাপি গ্রামের এক মৎসজীবী সূর্যগ্রহণের পরদিন সকালে দেখেন সমুদ্র তিরে পড়ে রয়েছে অবিকল একটি যুবতী মেয়ের মতো দেখতে পুতুল। পুতুলটাকে তুলে নিয়ে গেলেন গ্রামে। পুতুলটা পুতুলই থাকত যদি না তার আগের দিন সূর্যগ্রহণ হতো। অবিকল যুবতী মেয়ের মতো পুতুলটিকে দেখে মুসলিম ধর্মবিশ্বাসী গ্রামবাসীরা বললেন এ নির্ঘাৎ দেবতার দূত।

বেশ পাল্টে গেল পরিবেশ। পুতুলটি পরানো হল নতুন জামা। ঠিক যে ভাবে সাজে গ্রামের যুবতী মেয়েরা। আগুনের মতো খবর ছড়িয়ে পড়ল আশপাশের গ্রামে। দূর-দূরান্তের গ্রাম থেকে গ্রামবাসীরা ছুটে আসতে থাকল ‘দেবতার দূত’কে দেখতে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছালো যে প্রশাসন বাধ্য হল নড়েচড়ে বসতে। বিষয়টি তদন্ত অনুসন্ধানের জন্য কালুপাপি গ্রামে ছুটে এলেন স্থানীয় পুলিশ কর্তা।

তদন্ত-অনুসন্ধানের পর স্থানীয় পুলিশ কর্তা হেরু প্রামুকার্নো জানিয়েছেন, ‘ ওই পুতুলটি আসলে সেক্স টয়। সমুদ্রে ভেসে এসে তিরে পড়ে ছিল।’ মার্চ মাসে সূর্যগ্রহণের পরের দিন ওই পুতুলটি পাওয়া যায়। দুটো ঘটনাকে মিলিয়েই গ্রামবাসীরা পুতুলটিকে দেবতার দূত বলে ভেবে ফেলেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

যে মৎসজীবী এই পুতুলটি পেয়েছিলেন, তার বাড়িতে পুতুলটি নিয়ে রীতিমতো হুলুস্থলু কাণ্ড চলছে। তার মা প্রতিদিন পুতুলটি স্নান করিয়ে দিচ্ছেন, দিনে দু’বার করে জামা পাল্টে দিচ্ছেন, ঘরেতে চেয়ারে বসিয়ে রাখছেন। ওই মৎসজীবী আবার মাছ ধরতে যাবার সময় পুতুলটিকে সঙ্গে করে নিয়েও যাচ্ছেন। ‘দেবদূত’ কে নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা গল্প কথাও চালু হয়ে গেছে গ্রামে।

তদন্তকারী পুলিশ কর্তা প্রামুকার্নো জানিয়েছেন, ‘আসলে গ্রামটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে হওয়ায় যতো সমস্যা। ইন্টারনেট না থাকায় গ্রামবাসীরা জানেই না, সেক্স টয় বস্তুটি কী।’

ছবি: ইয়াহুর সৌজন্যে

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here