ধুলোমুক্ত বইমেলা, তবে আগামী বছরে নজর দিতে হবে পরিবহণে

0
113
42nd kolkata bookfair
smita das
স্মিতা দাস

রবিবারই ৪২তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার শেষ দিন। এ বার সল্ট লেকের সেন্ট্রাল পার্কের মাঠে আয়োজন করা হয়েছে বইমেলার। সম্পূর্ণ নতুন একটা এলাকায় নতুন মাঠে কেমন জমল এ বারের বইমেলার আসর? এই নিয়ে খবর অনলাইন পৌঁছে গিয়েছিল মাঠের বিভিন্ন কোণে। প্রকাশকদের স্টলে। এই সব প্রকাশনের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরেই বইমেলার সঙ্গে একাত্ম। তাঁরাই জানালেন তাঁদের এই নতুন মাঠের অভিজ্ঞতার সাতকাহন।

৪৭ বছরের দে’জ পাবলিশার্স। দে’জ-এর পক্ষ থেকে খবর অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেন সংস্থার বিপণনের দায়িত্বপ্রাপ্ত শান্তনু বাবু। তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল এই বারের মেলার অভিজ্ঞতা কেমন? তাঁর মতে, বইমেলার অভিজ্ঞতা সব থেকে ভালো ছিল ময়দানেই। এ বারে সব দিক থেকে আয়োজন মোটামুটি ভালো হলেও মেলায় যাতায়াতের ব্যবস্থায় ঘাটতি রয়েছে। সব থেকে বড়ো সমস্যা হচ্ছে ফেরার সময়। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে তবে একটা কিছু ব্যবস্থা হচ্ছে। যাতায়াতের ব্যবস্থা পর্যাপ্ত না থাকায় লোকজনের আনাগোনাও কিছুটা কম। তবে যাঁরা আসছেন তাঁরা বই কিনছেন। বিক্রির দিক থেকে সেই অর্থে তেমন কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি। তবে জায়গার সমস্যাটাও একটা বড়ো সমস্যা হয়েছে অনেকের ক্ষেত্রে। কারণ এই মাঠটা ছোটো। তাই সংকুলানের ক্ষেত্রে একটু সমস্যা তো হচ্ছেই। দে’জ-এর ১০০ টিরও বেশি বই এই বছর প্রকাশ হয়েছে। নতুন প্রকাশনার মধ্যে সমরেশ বসু, প্রচেত গুপ্ত আর শীর্ষেন্দুর বই খুবই বিক্রি হচ্ছে বলে জানান শান্তুনু বাবু।

কথা হল আনন্দ প্রকাশনের অন্যতম কর্ণধার দেবানন্দ মণ্ডলের সঙ্গেও। তিনিও বললেন প্রায় একই রকম কথা। মূল সমস্যা ফেরার পথেই। মেলার শেষে ফেরার পথে যে কোনো দিকেরই যানবাহন পেতে বেশ সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। যানবাহনের ব্যবস্থা করা হলেও সেটা পর্যাপ্ত নয়। তবে এ ছাড়া প্রথমবার সেন্ট্রাল পার্কে মেলার আয়োজন করা হলেও বাজার মোটামুটি ভালোই। বিক্রি ভালোই। গোটা দশটা বই প্রকাশ হয়েছে। সেগুলোর বিক্রিও বেশ ভালোই।

“প্রথমে একটু অসুবিধে মনে হয়েছিল। চিন্তায়ও ছিলাম, কেমন কী বিক্রি হবে? এক দম নতুন মাঠ। কিন্তু যত দিন গেছে ততই লোকের সমাগম বেশ ভালোই হয়েছে। বিক্রিও হয়েছে ভালো। লোকজন স্টলে ঢুকছে, বই দেখছে, কিনছে। মন্দ নয়। বিশেষ করে কিশোরকিশোরীরা এ বারে যেন বেশি আগ্রহী। অন্য মাঠের থেকে এটা অনেকটা লম্বাটে বলে স্টল সাজানোর ক্ষেত্রে একটু ঘাড়ে ঘাড়ে ব্যাপারটা হয়ে গিয়েছে। কিন্তু মূল সমস্যা একটাই। আসা যাওয়ার পথে যেখানে সেখানে আটকে দেওয়া হচ্ছে। বাস ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে সমস্যায় খুব বেশিই পড়তে হচ্ছে। কচিকাঁচা আর বয়স্ক মানুষদের নিয়ে যাঁরা আসছেন তাঁদের অনেকটা হেঁটে আসতে হচ্ছে। বাস, অটো দু’টিই পর্যাপ্ত নয়” – খবর অনলাইনকে বললেন সাহিত্য অকাদেমির পূর্বাঞ্চলের বিক্রয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত আরুনি চক্রবর্তী।

মানসী পাবলিশিং হাউসের মালিক যোগেশ সান্যাল বলেন, দিনে দিনে বইয়ের দামও বাড়ছে, বিক্রি বাড়ছে। নতুন জায়গা বলে তাতে তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। যাতায়াতের ব্যাপারে তেমন কোনো সমস্যা চোখে পড়েনি বলেই জানান যোগেশবাবু।

trf stall in bookfairমেলায় ঘুরতে ঘুরতে বোঝা গেল, জায়গাটা বেশ ছোটো। যার ফলে যাতায়াতের গলিগুলোতে চলাফেরার খুব অসুবিধা হচ্ছে। দেখেশুনে মনে হতেই পারে ভিড় তো ভালোই হয়েছে। কিন্তু কয়েক বছর ধরে যাঁরা কলকাতা বইমেলা করে আসছেন তাঁদের অনেকেই মনে করেন বিগত কয়েক বছরের পরিপ্রেক্ষিতে এখানে লোক একটু কম হচ্ছে। এমনই একজন ট্রাভেলস রাইটার্স ফোরামের মেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত অসীম ঘোষ চৌধুরী। তবে তাঁর মতে, বিক্রি মন্দ হচ্ছে না। বাঙলা বইয়ের ব্যাপারে যুবসমাজকে বেশ আগ্রহীই মনে হচ্ছে। মেলায় যাতায়াতের সমস্যার কথা অসীমবাবুও বলেন। এর সঙ্গে রয়েছে অটোচালকদের প্রচণ্ড উপদ্রব। এটাই মানুষকে বিপদে ফেলছে। তা ছাড়া আলো জল শৌচালয়ের সমস্যা বলতে গেলে কিছুই নেই।

মিলন মেলা বা তার আগে দেখা যেত মেলার বাইরেও মেলা থাকে। কিন্তু এই বারের মেলায় সেই ব্যাপারটা নেই। একটা অন্য রকম শৃঙ্খলাবদ্ধ ব্যাপার। কিন্তু তা হলেও এই ব্যাপারটা অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে হতাশ করেছে। অনেক অন্য রকমের শিল্পসামগ্রী বা বইয়েরই ক্ষুদ্র বিক্রেতারা এখানে স্থান পাননি। সারা বছর ধরে তাঁরা এই সময়টার জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। এই ব্যবস্থায় বেশ ক্ষুব্ধ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রতিবন্ধী সম্মেলনীর অন্যতম সংগঠক বীথিকা পাল। যাতায়াত এবং জায়গা ছোটো হয়ে যাওয়ার সমস্যার কথা বীথিকাদেবীও বললেন। তাঁর মতে, জায়গা ছোটো বলে স্টল সংখ্যা অনেক কম। ভিড় কম। ফলে বিক্রিটাও বেশ কিছুটা কম।

একটু অন্য রকম সমস্যার কথা বললেন রূপালী পাবলিকেশনের সূর্যেন্দু ভট্টাচার্য। মেলা গ্রাউন্ড ডিজাইনিং-এর সমস্যা একটা বড়ো সমস্যা হয়েছে স্টল বন্টনের ক্ষেত্রে। অনেক স্টলই সরু গলির মধ্যে পড়েছে। ফলে সে দিকে লোকজনের আনাগোনা কম হচ্ছে। তাদের লোকসান তো হচ্ছেই। তা ছাড়া অন্য স্টলেও বিক্রি অনেকটাই কম।

মোটের ওপর গোটা মেলা ঘুরে যে চিত্র চোখে পড়ল তা হল আসা যাওয়ার সমস্যার সমাধান করতে আরও একটু বেশি নজর দিতে হবে প্রশাসনকে। একই মতামত মেলা দেখতে আসা দর্শকদেরও।

তবে একটা ব্যাপারে সবাই এক মত। এ বারের বইমেলা একেবারেই ধুলোমুক্ত মেলা।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here