কেমন কাটল বিল্টুর সরস্বতী পুজো?

0
149
cartoon-swaraswati

শ্রী হরিদাস পাল: বিল্টু সাত সকালে স্কুলে চলে এসেছে। পরনে বাসন্তী রঙের পাঞ্জাবি আর ডেনিম জিন্স। ক্লাস টুয়েলভ। এর পর কলেজ। তাই ওরা এখন দাদা। স্কুলের সরস্বতী পুজোর ভার আছে ওদের ঘাড়ে। কত দায়িত্ব। পুরো পুজোটা যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় তার জন্য চেষ্টার অন্ত নেই।

রাত জাগার প্ল্যান ছিল। কিন্তু হেড স্যার বাতিল করে দিয়েছেন। গতবার রাত জাগতে গিয়ে এক কেলেঙ্কারি হয়েছিল। যারা রাত জেগেছিল, পরের দিন সরস্বতী সামলানোর বদলে স্কুলকে তাদেরই সামলাতে হয়েছিল। তাই এ বার আর সেই রিস্ক নিতে চাননি হেড স্যার। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, রাত দশটার মধ্যে পুজোর যাবতীয় আয়োজনের কাজ শেষ করতে। পুজোর দিন সকাল সকাল স্কুল চলে আসবে। কোনো অজুহাতেই রাত জাগা মোটেই নয়।

তাই সক্কাল সক্কাল স্কুলে চলে এসেছে বিল্টু। সকালে স্কুলে আসতে হবে সেই উত্তেজনায় সারারাত ঘুমোতে পারেনি। কিন্তু এই উত্তেজনা কি স্কুলে সরস্বতী পুজোর জন্য? সে তো প্রতি বছরই হয়। তবে এ বার একটু অন্য। গোবিন্দ কাল রাতে হোয়াটস অ্যাপ করেছে, বেলা ১১টা নাগাদ অশোকগড় বাজারের কাছে দাঁড়াবে। নম্বরটা গোবিন্দ নাম দিয়ে সেভ করা থাকলেও আসল নাম মিতুল।

বিজ্ঞাপন

মিতুল বলেছে আসবে। আহা! ভাবাই যাচ্ছে না। ওফ কম ল্যাজে খেলিয়েছে। দেখা হলে কী দেবে মিতুলকে? গোলাপ? উঁহু! সে তো সবাই দেয়। একটু অন্য রকম। অন্য কিছু। মস্তিষ্কে ঝড় তুলল। ইউরেকা! মনে পড়েছে। তিন দিন সে মিতুলকে দেখেছে মা মনসা মিষ্টান্ন ভাণ্ডার থেকে গুঁজিয়া কিনে খেতে। তার মানে মিতুল গুঁজিয়া দারুণ ভালোবাসে। গোলাপের বদলে গুঁজিয়া দেবে মিতুলকে। নির্ঘাৎ সে গলে যাবে।

আরও পড়ুন : ‘যাঁরা পকোড়া বিক্রি করছেন, তাঁরা বেকার নন’, কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে বললেন নরেন্দ্র মোদী 

কিন্তু ভোরবেলা কি মা মনসা মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে গুঁজিয়া পাওয়া যাবে? সরস্বতী পুজোর জন্য যদি সব বিক্রি হয়ে যায়। আইডিয়া! স্কুল পুজোর জন্য শ দেড়েক গুঁজিয়া আনা হয়েছে। পুজো হয়ে গেলে কর্মকর্তা হিসাবে তার গোটা পাঁচেক গুঁজিয়া প্রাপ্য হতে পারে। সেই গুঁজিয়াই মিতুলকে দেবে।

উত্তেজনায় টগবগ করে ফুটছে। ওফ! আজ তার কত কাজ। সঠিক সময় গুঁজিয়া সংগ্রহ করতে হবে। বন্ধুদের কাটিয়ে মিতুলের সঙ্গে দেখা করতে হবে। সে আগেই শর্ত দিয়ে রেখেছে কোনো বন্ধু আনা যাবে না।

সকাল সাতটার সময় পুজো শুরু হল। এল অঞ্জলি দেওয়ার পালা। বিল্টু অঞ্জলি দিল। শেষ হওয়ার পর এক স্যার জিজ্ঞেস করলেন, কীরে বিল্টু অঞ্জলি দিয়ে মার কাছে কী চাইলি? বিল্টু বলল, স্যার বাবা যা বলে দিয়েছিলেন তাই চেয়েছি।

সেটা কী?

বাবা বলেছিলেন, অঞ্জলি দিয়ে মায়ের কাছে বলবি আমি যেন বড়ো পকোড়া শিল্পী হতে পারি। ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হওয়া তো তোর দ্বারা হবে না। আর সবাইকেই যে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে তার কোনো মানে আছে। এ তো টিভিতে দেখলাম প্রধানমন্ত্রীজি বলেছেন যাঁরা পকোড়া তৈরি করছেন তাঁরা কেউ বেকার নন। বোঝাই যাচ্ছে আগামী দিনে পকোড়া শিল্পে সম্ভাবনার দরজা খুলে যাচ্ছে। এমন দিন আর দূরে নেই যে দিন চপ-পকোড়া নির্মাতাদের নিয়ে শিল্প সম্মেলন হবে।

মানে কী সব বলছিস রে।

ঠিক বলছি স্যার। বাবা বলছিলেন, আমাদের মুখ্যমন্ত্রী সেই কবেই ‘চপ-শিল্প’-এর কথা বলেছিলেন। আমি স্যার কড়াইশুটির চপ স্পেশালিস্ট হব।

স্যার আর কথা বাড়ালেন না। নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়লেন।

পুজো শেষ। বিল্টু হাওয়া। বন্ধুরা খোঁজাখুঁজি করছে। সেই পাঁচটা গুঁজিয়া নিয়ে কখন হাওয়া হয়েছে। একটা ফল দাঁতে কাটেনি পর্যন্ত।

পুনশ্চ: এই লেখাটা পড়ে ভাববেন না আমি চপ বা পকোড়া নির্মাতাদের ব্যঙ্গ করছি। অনেকেই যেমন সুযোগ পেলে এই সব মন্তব্য তুলে ব্যঙ্গ করেন। তাদের হীরক রাজার দেশের ওই দেশের ওই দৃশ্যটার কথা মনে করিয়ে দেব। যেখানে হীরক রাজা গুপি আর বাঘাকে নিয়ে হীরের খনি দেখাতেন এনেছে। বাঘার এক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে হীরক রাজা বলেন, ‘মজুরদের হেয় জ্ঞান কোরো না। কাজ করে ওরাই।’ এ মন্তব্য এ ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here