সমাজবাদী পার্টিকে ভাঙার বিজেপির চাল ভেস্তে দিল অখিলেশ

0
101

শৈবাল বিশ্বাসsaibal-biswas

বিজেপি একক কৃতিত্বে এবার উত্তরপ্রদেশ জয় করবে এমনটা কোনও ভোটপূর্ববর্তী সমীক্ষা বলছে না। বিশেষ করে পূর্ব উত্তরপ্রদেশের পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপির ফলাফল মোটেই স্বস্তিদায়ক নয়। অথচ বেনারস নরেন্দ্র মোদীর লোকসভা কেন্দ্র। উত্তরপ্রদেশে হারলে পরোক্ষে দোষ গিয়ে পড়বে মোদির তথাকথিত সুশাসনের কুপ্রভাবের ওপর। উপায়ন্তর না দেখে অন্য‌চালে বাজিমাত করার চেষ্টা করছে বিজেপি।

প্রধান চাল হল সমাজবাদী পার্টির অভ্য‌ন্তরীণ বিবাদের পূর্ণ সুযোগ গ্রহণ করা। এমনিতেই দলের দখলদারি নিয়ে মুলায়মের পরিবারে রামায়ন শুরু হয়ে গেছে। এতদিন রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকা স্ত্রী সাধনা আর দ্বিতীয় পুত্র প্রতীক দাবি করছেন,গদিতে তাঁদের অংশীদারি চাই। মওকা বুঝে তাঁদের সঙ্গে ভিড়ে গিয়েছেন মুলায়মের ভাই শিবপাল যাদবও। এতদিনের মৌরসিপাট্টা অখিলেশ ভেঙে দিচ্ছে দেখে মুলায়মকে হাত করে তিনিও অখিলেশ বিতাড়নের চিত্রনাট্য‌ সাজাতে শুরু করেছিলেন। বিজেপি ঠিক এই সুযোগই খুঁজছিল। তারা এই চিত্রনাট্যে কুঁজি মন্থরাকে পেয়ে গেল অমর সিংয়ের মধ্য‌ে। সমাজবাদী পার্টিকে ভাঙতে পারলে যাদব ও ওবিসি ভোট সহজেই বেশ কয়েকভাগে ভাগ করে দেওয়া সম্ভব। শুধু তাই নয় মুসলিম ভোটের যে অংশটা আজম খানের মতো বর্ষীয়ান নেতারা ধরে রেখেছেন সেটাও সমাজবাদী পার্টির খপ্পর থেকে বের করে আনা সম্ভব হবে। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি অমর সিংকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে চেয়েছে। অমর সিংই মুলায়মকে বুঝিয়েছেন অখিলেশের কথা মতো প্রার্থী তালিকা তৈরি করলে তাতে তাঁর নিজের কোনও প্রভাব থাকবে না। অথচ দলটা তো তিনিই তৈরি করেছেন। তাঁর হাতে তৈরি করা দল এত সহজে অখিলেশ নিয়ে নেবে? মুলায়ম বুঝলেন অমর সিং তাঁকে প্য‌াঁচে ফেলে দিয়েছে। তাঁর কথা শুনে না চললে বিপদ। অমর সিংয়ের হাতে নেতাজির অনেক কুকীর্তির প্রমাণ আছে। সেগুলি যে কোনও মুহূর্তে বিজেপির হাতে চলে যেতে পারে। অতএব অমর সিংয়ের কথা শুনে অখিলেশকে বিতাড়ন করার চিত্রনাট্য‌ সাজানো যাক তাহলে একই ঢিলে দুই পাখি মারার ব্য‌বস্থা হবে। সাধনা-প্রতীকের কথা মেনে দলের কর্তৃত্ব নিজের হাতে রেখে দেওয়া যাবে আবার বিজেপির রোষের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করা যাবে। এই বয়েসে পৌঁছে তাঁর তো আর রাজনীতি থেকে বিশেষ কিছু পাওয়ার নেই।

বিজ্ঞাপন

মুলায়মও বুঝতে পারেননি আর বিজেপিও না—আসলে নিশ্চুপে পটপরিবর্তন ঘটে গেছে। দলের একটা বড় অংশ বুঝে গেছেন, অস্থিরমতি মায়াবতীর পরিবর্তে উত্তরপ্রদেশের বিজেপি বিরোধী জনতা এখন অখিলেশকেই চাইছে। বিশেষ করে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বাঁধলে তো আর কথাই নেই। গ্রামেগঞ্জে রাজনীতি করা সমাজবাদী পার্টির সাধারণ নেতারাও সেটা বুঝেছেন। তাঁদের চাপে এমএলএ-এমপিরাও সেটা বুঝতে বাধ্য‌ হয়েছেন। তাই মুলায়মের ডিগবাজি রাজনীতিতে তাঁদের আর কোনও ভরসা নেই। তাঁরা মনে করেন অমর সিং আর সমাজবাদী পার্টির শুভানুধ্য‌ায়ী নন।। তাই যদি হবে তাহলে তিনি বরং মুলায়মকে বোঝাতেন, অখিলেশের বিশ্বাসযোগ্য‌তা অনেক বেশি। তাঁকে মেনে নিন, তাঁর পছন্দের লোককেও প্রার্থীতালিকায় সসম্মানে জায়গা দিন। কিন্তু তিনি তো এখন বিজেপির হাতে তামাক খেয়ে বসে আছেন। সাধারণ পার্টিকর্মীরা এই সহজ সত্য‌ বুঝতে বেশি সময় নেননি। এমনকি লখনউয়ের গলিতে কান পাতলে শোনা যাবে সাধারণ মানুষও জেনে গিয়েছেন লন্ডনে বসে কার কার সঙ্গে অমর সিং বৈঠক করেছেন। কী ছিল আলোচনার অ্য‌াজেন্ডা।

রবিবার রামগোপাল যাদবের ডাকা দলের কর্মসমিতির বৈঠকে ২২৯ জন বিধায়কের মধ্য‌ে ২০৭ জন জানিয়ে দিয়েছেন তাঁরা অখিলেশের সঙ্গে আছেন। বিধান পরিষদের ৬০ জন সদস্য‌ের মধ্য‌ে ৪০ জন অখিলেশের পক্ষে। সাংসদরা তো আগে থেকেই জানিয়েছেন তাঁরা অমর সিংকে মানবেন না। তাই সর্বসমক্ষে দল কার্যত দখল করে নিলেন অখিলেশ। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি বুঝে গেছে সমাজবাদী পার্টিকে ভাঙা যাবে না। অখিলেশ যদি প্রতীক চিহ্ন সাইকেল বা দলের নাম নাও পান, সমাজবাদী পার্টির ভোট ব্য‌াঙ্ককে সঙ্গে রাখতে তাঁর অসুবিধা হবে না। শিবপাল-মুলায়ম কার্যত ঠুটো জগন্নাথ, তাঁদের পক্ষে অখিলেশের সর্বনাশ করা সম্ভব হবে না। এদিকে অখিলেশও বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি রাষ্ট্রীয় লোকদল ও কংগ্রেসকে সঙ্গে নিয়ে চলবেন। কাজেই জাঠ ভোট আর মুসলিম ভোটের বড় অংশ তিনি নিজের পক্ষে রাখতে সমর্থ হবেন। তাই খেলাটা বিজেপির পক্ষে খুবই কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

অতঃকিম?

বিজেপি এবার কী করবে? দিন যত এগোচ্ছে ততই বিজেপি নেতৃত্ব বুঝতে পারছেন বড় মুরুব্বি ছাড়া উত্তরপ্রদেশের রাজ্য‌পাট দখল করা সম্ভব নয়। মোদির সুশাসনের স্লোগান অন্তত এই রাজ্য‌ে কোনও প্রভাবই ফেলেনি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা গেছে বিজেপি শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ দুই নেতা কথা বলার জন্য‌ মায়াবতীর সময় চেয়েছেন। কীভাবে তাঁর সঙ্গে দরকষাকষি হবে সেটা অবশ্য‌ পরের ব্য‌াপার।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here