বস্তার ও রাষ্ট্রযন্ত্র / ৩

0
200

sayantani-adhikariসায়ন্তনী অধিকারী

এই বছরের ২৪ জানুয়ারি মুম্বইতে একটি প্রতিবাদী জমায়েত করা হয়, প্রধানত আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীদের পক্ষ থেকে। এই সমাবেশের মূল লক্ষ্য ছিল কী ভাবে ভারতের বিভিন্ন স্থানে আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীরা নানা ধরনের দমনপীড়ন ও হেনস্থার শিকার হন তা সর্বসমক্ষে  নিয়ে আসা। এই সমাবেশে বিশেষ ভাবে একটি প্রদেশের কথা উঠে আসে, ছত্তীসগঢ়, বিশেষত তার বস্তার জেলা, যেখানে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন অত্যাচারের সম্মুখীন হতে হয় এই সব কর্মীকে। রাষ্ট্র এঁদের বার বার মাওবাদীদের সমর্থক হিসাবে চিহ্নিত করে নানা ভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। কারণ, এই মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিকরা ওই জেলায় চলতে থাকা অপহরণ, যৌন আক্রমণ ইত্যাদির চিত্র সবার সামনে নিয়ে আসতে সাহায্য করেন।

আরও পড়ুন: বস্তার ও রাষ্ট্রযন্ত্র / ২

এখানে একটি গুরুত্বপুর্ণ প্রশ্ন এসে যায়। বারেবারে ওই অঞ্চলে বিশেষত মহিলাদের উপর আক্রমণ কেন নেমে আসছে? বেলা ভাটিয়া, যাঁর প্রসঙ্গ আগের পর্বে এসেছে, তাঁর বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল এই বছরের জানুয়ারি মাসে, যদিও বেলা এতে দমে না গিয়ে বলেছেন, যে কোনো হুমকিতেই তিনি তাঁর কাজ করা বন্ধ করবেন না। একই সঙ্গে স্থানীয় আদিবাসী মহিলাদের উপরও নানা ধরনের অত্যাচারের কথা বার বার উঠে এসেছে। সোনি সোরির ঘটনা নিয়ে এর আগের পর্বেই লিখেছি। এ ছাড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সম্প্রতি একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা গেছে যে ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে ছত্তীসগঢ়ের কয়েকটি অঞ্চলে অন্তত ১৬ জন আদিবাসী মহিলা পুলিশের দ্বারা ধর্ষিত এবং নানাভাবে নিগৃহীত হয়েছেন। কমিশন এ-ও জানায় যে এই সমস্ত মহিলা আদিবাসী শ্রেণির হওয়া সত্ত্বেও ‘প্রিভেনশন অব অ্যাট্রোসিটিস এগেন্সট  শিডিউলড কাস্ট অ্যান্ড শিডিউলড ট্রাইবের’ ধারা অনুসারে পুলিশ কোনো প্রক্রিয়ার সূচনা করেনি, যার ফলে এই অত্যাচারিত মহিলারা এমনকি কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণও পাননি। কমিশন তাই রাজ্য সরকারকে একটি নোটিসও পাঠিয়েছে, যাতে এই সমস্ত অত্যাচারের জন্য ছত্তীসগঢ় সরকারকে প্রকারান্তরে দায়ী করা হয়েছে। বলা যেতে পারে, বস্তার ও অন্যত্র মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় এই পদক্ষেপ অত্যন্ত ইতিবাচক এবং আশাব্যঞ্জক।

bastar-1

একটি তথ্য অনুসন্ধানকারী কমিটির পেশ করা রিপোর্টের মতে, বস্তারে এবং ছত্তীসগঢ়ের বিভিন্ন এলাকায় রাষ্ট্র ভিন্নমতকে দমন করার চেষ্টায় রত। এই প্রচেষ্টায় সর্বাধিক কার্যকর হল ভীতির উদ্রেক করা, যা এই ধরনের যৌন নিগ্রহের মাধ্যমে করা সহজ। তাই বারবার মহিলাদের উপর অত্যাচার লক্ষ্য করা যাচ্ছে এই সব অঞ্চলে। এই রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে যে সাম্প্রতিক অতীতে এই জায়গাগুলিতে হিন্দুত্ববাদী দক্ষিণপন্থীদের প্রতিপত্তি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং তারই ফলস্বরূপ দেখা যাচ্ছে আদিবাসী ও সংখ্যালঘুদের প্রতি ক্রমবর্ধমান অত্যাচার। পাশাপাশি পুলিশি নির্যাতনকেও ভুলে গেলে চলবে না, বিশেষত বস্তারের অধুনা বাধ্যতামূলক কর্মবিরতি নিতে বাধ্য হওয়া প্রাক্তন ইন্সপেকটর জেনারেল এস আর পি কাল্লুরির ভূমিকা এই ক্ষেত্রে প্রবল ছিল বলে অভিযোগ। পরের পর্বে পুলিশের এই মুখকে সামনে রেখে আরও কিছু প্রশ্ন তোলা যাবে।

তথ্যসূত্রঃ

https://scroll.in/article/827699/anarchy-in-chhattisgarh-what-a-new-fact-finding-report-says-about-police-atrocities-in-the-state

http://timesofindia.indiatimes.com/city/raipur/cops-raped-16-tribals-in-bastar-last-november-says-nhrc-report/articleshow/56397682.cms

http://timesofindia.indiatimes.com/city/raipur/rape-by-chhattisgarh-police-personnel-nhrc-sends-notice/articleshow/56395260.cms

(ক্রমশ)

(লেখক ইতিহাসের অধ্যাপক)

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here