গৌরী লঙ্কেশ হত্যাকাণ্ড: সংবাদজগতের স্বাধীনতার ওপর হামলা

0
3137
gauri lankesh

ওয়েবডেস্ক: ২০১৩-তে নরেন্দ্র দাভোলকর হত্যা, ২০১৫-এ কোলহাপুরে গোবিন্দ পানেসারের হত্যা, একই বছর কর্নাটকের ধারওয়াড়ে এমএম কালবুর্গি হত্যা। তার দু’বছর পর গৌরী লঙ্কেশ হত্যা। সব হত্যাই যেন এক সুতোয় বাঁধা। তদন্ত চলছে, গৌরী লঙ্কেশের হত্যার ব্যাপারে এখনই কোনো মন্তব্য করা অনুচিত, তবে অনেকের মতেই সংবাদজগতের স্বাধীনতার ওপর একটা ভয়াবহ হামলা হল। সাম্প্রতিককালে অনেক হুমকির সামনাসামনি হতে হচ্ছে সাংবাদিকদের। সব থেকে বেশি হুমকি দেওয়া হচ্ছে অন্যায় এবং দুর্নীতির ব্যাপারে খবর করা সাংবাদিকদের।

শুধু এই চারটে হত্যাই নয়, আরও বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ড হয়েছে, যা সংবাদমাধ্যমের খুব একটা নজরে আসেনি। এই সব হত্যাকাণ্ডে একটা ব্যাপার খুব স্পষ্ট। আততায়ীরা কিন্তু আদৌ গোপনে এই হত্যার কাজ করছে না। বরং জনসমক্ষে এই কাণ্ড করছে তারা। লঙ্কেশের সময় তো সিসিটিভির ফুটেজও পাওয়া যাচ্ছে। এর থেকে কী প্রমাণিত হচ্ছে? আইনের কোনো ভয়ই হত্যাকারীদের নেই। শুধু তা-ই নয়, পেছন থেকে কারও সক্রিয় মদতও থাকতে পারে।

বাকি হত্যাকাণ্ডের বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তদন্ত বেশি দূর এগোয়নি। লঙ্কেশের হত্যাকাণ্ডও যাতে সেই পথই অনুসরণ না করে সেই আশাই আমরা করব। পুলিশি তদন্তে কাজে লাগতে পারে এমন অনেক সূত্রই হত্যাকারীরা ছেড়ে গিয়েছে। তা হলে আমরা কি ভেবে নেব যে ইচ্ছে করেই এই মামলাগুলিতে ঢিলে দিচ্ছে পুলিশ। এটা মেনে নেওয়া যায় না।

হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার পদত্যাগ দাবি করেছেন অনেকে। পদত্যাগ করলে কি তদন্তের কোনো সুরাহা হয়?

দুর্ভাগ্যবশত কিছু দিন পরেই ঘটনাগুলির ওপর থেকে নিজেদের নজর সরিয়ে দেয় সংবাদমাধ্যমও। এর ফলে মামলায় ঢিলে দেওয়ার সুযোগ পেয়ে যায় পুলিশ। সবক’টি হত্যার ক্ষেত্রেই তদন্তকারী অফিসারদের বারবার বদল করা হয়েছে। তদন্তে সময় ব্যয় হওয়া মানে, অপরাধীদের খুঁজে বার করার সুযোগ কমে যাওয়া। একটাই আশা করব বাকি হত্যাকাণ্ডগুলির মতো লঙ্কেশের হত্যাকাণ্ডের ওপর সংবাদমাধ্যমের নজর যেন সরে না যায়। তার হত্যাকারীদের দ্রুত খুঁজে বার করা হোক, সেই আশাই করব।

সৌজন্য: হিন্দুস্তান টাইমস সম্পাদকীয়

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here