বিপণি থেকে বিপণিতে, পুজোয় হরেক শাড়ির সুলুকসন্ধান

0
439

শুরু হয়ে গিয়েছে কাউন্টডাউনও। প্রত্যেকেই ব্যস্ত পুজোর পরিকল্পনা নিয়ে। কেউ ব্যস্ত নিজেদের সাজাতে আবার কেউ ব্যস্ত অপরকে সাজাতে। চরম উন্মাদনার মধ্য দিয়ে চলছে পুজোর কেনাকাটা। গড়িয়াহাট থেকে ধর্মতলা, ঢাকুরিয়ায় দক্ষিণাপন থেকে হাতিবাগান সব জায়গাতেই মানুষের ভিড়। বিশেষত শাড়ির দোকানগুলিতে তো ভিড় একেবারে উপচে পড়ছে। নারী মানেই শাড়ির সঙ্গে ওতপ্রোত যোগ। প্রায় সব মহিলার মুখে একটাই কথা, পছন্দের শাড়ি কিনে নিয়ে তবেই ফিরবেন তাঁরা।

‘শাড়ি’, এই শব্দটির সঙ্গে নারীদের এক অদ্ভুত নাড়ির টান রয়েছে।  তা সে যে শাড়িই হোক না কেন। শাড়ির সঙ্গে নিজেদের একাত্ম করার খেলায় মাততে না চাওয়া নারীর সংখ্যা নিতান্তই কম।1

আগেকার দিনে ছাপার শাড়ির মাত্রাধিক চল ছিল। তারপর তাঁত। এরপর ধীরে ধীরে এক এক করে বালুচরী, তসর, জামদানি, কটকি, ইক্কত, শিফন, সিল্ক, তাঁত বেনারসি, চিকন, জারদৌসি সহ আরও হাজারো রকমের শাড়ি ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বর্তমান যুগের হ্যান্ডলুম, জুট, কলমকারি, ঘিচা, খেস, টিসু, নেট, ভাগলপুরী, আবির অর্থাৎ বাহা শাড়িও সমানভাবে প্রচলিত ও বেশ জনপ্রিয়। অবশ্য  আজকাল সকলেরই চাহিদা হ্যান্ডলুম শাড়ির।

পুজো যেহেতু এক্কেবারে দোরগোড়ায়, সেহেতু রবিবার ছুটির দিনে দোকানগুলোয় ভিড় একদম গিজগিজ করছে। এদিন আমাদের ক্যামেরা ঘুরতে ঘুরতে পৌঁছে গিয়েছিল গড়িয়াহাট এবং ঢাকুরিয়ার দক্ষিণাপনের বেশ কয়েকটি শাড়ির দোকানে। দোকানগুলির কর্ণধার এবং কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে আমরা জেনে নিলাম এ-বছর কোন্‌ শাড়ির চাহিদা সবচেয়ে বেশি, সবথেকে বেশি এ বছরে কোন শাড়ি বিক্রি হচ্ছে?2

দক্ষিণাপন থেকে বেরিয়ে আমাদের ক্যামেরা পৌঁছে গিয়েছিল হিন্দুস্থান পার্কের ‘ফ্যাব ইন্ডিয়া’-তেও। এ বছর ফ্যাবের শাড়ি সম্ভারের প্রধান আকর্ষণ তসর এবং চান্দেরী। এছাড়া রয়েছে মটকা সিল্ক ও খেশ। জানা গেল, এই বিপণিতে তসরের উপর হ্যান্ডলুমের কাজ করা শাড়ির  দাম ৫০০০ টাকা থেকে শুরু  আর এই শাড়িগুলির চাহিদাই বেশি।3

এর পর আমরা পৌঁছে গিয়েছিলাম হিন্দুস্থান পার্কেরই অপর একটি শাড়ির দোকান ‘বাইলুম’-এ। এই বিপণির এ বছরের শাড়ির অন্যতম আকর্ষণ ‘নিউ কলকাতা’। এছাড়া জামদানি, মটকা তো রয়েইছে। শাড়ির কাজ অনুযায়ী শাড়ির দাম। কোনোটা  ৩৬৫০ টাকা, তো কোনোটা আবার ১০০০০-এর কাছাকাছি।  এছাড়া এই বিপণিতে অন্যতম চাহিদা আবির শাড়ি মানে বাহা শাড়ির। এই শাড়ি বছরের সব সময়ই বিক্রি হয়। আবির-এর দাম ৭৫০ টাকা থেকে শুরু হয়ে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত। জানা গেল, এছাড়াও এই বিপণিতে রয়েছে বাচ্চাদের জন্য তৈরি রেডিমেড শাড়িও।4

এ তো গেল হিন্দুস্থান পার্কের শাড়ির বিপণির কথা। হিন্দুস্থান পার্কের পর আমাদের গন্তব্য ছিল দক্ষিণাপনের ‘মৃগনয়নী’। মৃগনয়নী মধ্যপ্রদেশ সরকারের একটি এম্পোরিয়াম। এ বছর এই বিপণির মূল আকর্ষণ চান্দেরী, মাহেশ্বরী, তসর এবং কোসা। এই বিপণির ম্যানেজার কে কে চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলে আমরা জানতে পারলাম এ বছর ক্রেতারা চান্দেরী এবং কটন ও সিল্কের তসর শাড়ি বেশি কিনছেন। এই বিপণিতে খেশের চাহিদাও খুব। এছাড়া হ্যান্ডলুম ও চান্দেরী কাজ করা স্টোলও ভালোই বিক্রি হচ্ছে বলে জানালেন তিনি।5

এরপরই আমাদের ক্যামেরা পৌঁছল অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের অন্যতম এম্পোরিয়াম ‘লেপক্ষী’তে। আর এই এম্পোরিয়ামে এ বছরের আকর্ষণ কলমকারি হ্যান্ডপ্রিন্ট, বেঙ্কটগিরি, গাদোয়াল, তেলিয়া এবং মঙ্গলগিরি। বিশেষত, জরি ছাড়া গাদোয়াল এই বিপণিতে এবার বেশ চাহিদা তৈরি করেছে। কারণ এত দিন আমরা জানতাম গাদোয়াল মানেই তাতে থাকবে মোটা সোনালি রঙের জরি। তাই এই জরিহীন গাদোয়াল কিন্তু এক্কেবারে ‘নিউ অ্যারাইভ্যাল’ যাকে বলে!  অন্যদিকে, কলমকারি হ্যান্ডপ্রিন্টও বেশ চলছে। এত দিন কলমকারি ব্লকপ্রিন্টের প্রচলন ছিল। কলমকারি হ্যান্ডপ্রিন্ট এই প্রথম। আর দামও বেশ সাধ্যের মধ্যেই। ৪০০০ টাকা থেকে এই শাড়ির দাম শুরু হচ্ছে এই দোকানে। তাই সাধ্যের মধ্যে দাম হওয়ায় এই শাড়ির চাহিদাও ক্রেতাদের মধ্যে বেশ ভালো। কলমকারি ছাড়া তেলিয়া, বেঙ্কটগিরি, ইক্কত, গাদোয়ালের বিপননও বেশ ভালোই এই এম্পোরিয়ামটিতে।

সব মিলিয়ে বোঝাই যাচ্ছে এ বছর পুজোয় শাড়ির বাজার বেশ রমরমিয়ে চলছে। এবং ক্রেতাদের মধ্যে শাড়ি কেনার উৎসাহও যথেষ্ট।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here