৭৩ বছরে শোভাবাজার বেনিয়াটোলা, থিম ‘আমন্ত্রণ’

0
622
স্মিতা দাস

এ বছরের থিম ‘আমন্ত্রণ’। বিষয়, আমন্ত্রণ জানানোর পদ্ধতি। চিঠি তালপাতার ওপরে কলম দিয়ে লেখা হত। তার পর লম্বা পথ পেরিয়ে এল অফসেট প্রিন্ট, ডিজিটাল প্রিন্ট। সেই ধাপে ধাপে বিবর্তন তুলে ধরা হচ্ছে এ বারের থিমে। এখন তো সব ফোনেই শেষ। এটা নয়। তুলে ধরা হচ্ছে ‘শুরুয়াৎ’। যখন মুদ্রণ আসেনি। মূলত সেই সময়টাকে।

শোভাবাজার বেনিয়াটোলা দুর্গোৎসব কমিটির অন্যতম সদস্য চন্দ্রশেখর মান্না বললেন ৭৩ বছরের থিম সম্পর্কে।

চন্দ্রশেখরবাবু বলেন, আগে যে আন্তরিকতা ছিল, এখন সেই আন্তরিকতার অভাব। কাউকে আমন্ত্রণ জানাতে গেলে চিঠিতে যে আন্তরিক ভাব প্রকাশ পায়, তা আজকের নতুন ব্যবস্থায় পায় না।  ‘ডেপ্‌থ’ নেই। আগের ওই পদ্ধতির মধ্যে ‘ডেপ্‌থ’ ছিল। এটাই ফুটিয়ে তোলা হবে। “আপনি এক জনকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন আন্তরিক ভাবে। সেই আন্তরিকতা প্রকাশ পায় আমন্ত্রণের মধ্য দিয়ে। কী খাওয়ালেন না খাওয়ালেন সেটা পরের কথা। তা না হলে ‘অভ্যর্থনা’ কথাটা থাকত না, থিমের বিষয় সেটাই”।

বিজ্ঞাপন

তবে এ ব্যাপারে এর চেয়ে বেশি খুলে বলতে রাজি হলেন না চন্দ্রশেখরবাবু।

গত বছরের থিম সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে চন্দ্রশেখরবাবু বললেন, “গত বার থিম ছিল ‘শোলা’। এটা তো বর্তমানে বিলুপ্তপ্রায় শিল্প। আজকাল তো মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমার সজ্জা হচ্ছে বিভিন্ন নামী অলংকার কোম্পানির গয়না দিয়ে। সেখানে শোলার স্থান কোথায়। তাই লুপ্ত শিল্পটাকে তুলে এনেছিলাম আমরা। শুধু ঠাকুরের গায়ে না, গোটা মণ্ডপটাই ছিল শোলার। এখনও যে এই শিল্পটার কদর আছে, মানুষ পছন্দ করে তা গত বছরের থিমই প্রমাণ করে দিয়েছে। পুরোনো শিল্পকেও তো বাঁচাতে হবে।”

চন্দ্রশেখরবাবু জানালেন, গত বছরের বাজেট ছিল ৮ লক্ষ টাকা। এ বারেও তাই। এক দম মধ্যবিত্ত এলাকা এটা। এখানে এর থেকে বেশি বাজেট ঠিক করা সম্ভব নয়। এত কম বাজেটেও যে বছর বছর এত এত পুরস্কার পাওয়া যায় এটাই আমাদের বিশাল পাওনা। থিম প্রতিবারই পুজোর সদস্যদের মস্তিষ্কপ্রসূত। নিজে হাতে থিম দাঁড় করিয়ে এশিয়ান পেন্টসের পুরস্কার পাওয়াটা খুব আনন্দের। তাঁরা সেটাই করেন। গত বছরের প্রতিমাশিল্পী মিন্টু পাল। এ বারেও।

অতীতে ফিরে গিয়েছিলেন চন্দ্রশেখরবাবু। তিনি বললেন, এই জায়গাটা কলকাতার প্রাণকেন্দ্র। সুতানুটি গোবিন্দপুরের মূল জায়গা। তাঁদের পুজো যখন শুরু হয় তখন এই বি কে পাল স্ট্রিট নামের জায়গাটা ছিল না। সময়টা ১৯৪৫ সাল। যখন পুজো শুরু হয় তখন এলাকার মানুষ বিশ্বনাথ দত্ত-সহ অনেকেই স্বাধীনতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁরা চার জন বসে ঠিক করেন পাড়ার মেয়েদের সম্মান বাঁচাতে একটা সর্বজনীন পুজো করার কথা। বিষ্ণুপদ দত্ত, মৃত্যুঞ্জয় দাঁ, অনিল দত্ত এঁরা সবাই মিলে পুজো শুরু করেন। কারণ জমিদারবাড়িতে মেয়েরা পুজো দেখতে গেলে অবহেলিত হতে হত, অপমানিত হতে হত। সেই ভাবনা থেকে নিজেদের এই পুজোর শুরু।

কথায় কথায় চন্দ্রশেখরবাবু জানালেন, বিখ্যাত বনেদি পরিবার দাঁ বাড়ির পুজোর নিয়ম মেনে, সময় মেনে পুজোর কাজ হয়। মহালয়ার পরের দিন ঠাকুর আসে। পঞ্চমীর দিন উদ্বোধন।

শোভাবাজার বেনিয়াটোলার দুর্গাঠাকুর দেখতে গেলে শোভাবাজার মেট্রো স্টেশনে নেমে পায়ে হেঁটে বা অটো করে বেনিয়াটোলা নামলেই সামনেই মণ্ডপ।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here