টেট পাশ করা ডি.এল.এড / পি.টি.টি প্রশিক্ষিতদের চাকরি কতটা নিশ্চিত

1
558

অভি ভট্টাচার্য

২০১২ সালের প্রাথমিকের টেটে (TET) যে সব ডি. এল. এড প্রশিক্ষিতরা বঞ্চনার অভিযোগ করেছিল, হতাশ ছিল, আজ তাদেরই একাংশ ২০১৪ সালের টেটে পাশ করে চরম আশাবাদী । অভি, আখরুজ্জামান, শুভাশিস, আবদুল, শুভেন্দু, স্বরাজ- এরা সবাই এবার ইন্টারভিউ দিয়েছেন। ওরা সকলেই প্রশিক্ষিত। সকলেই মনে করছেন, কেন্দ্রের মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক ও এন. সি. টি. ই- এর আইন অনুযায়ী প্রত্যেক টেট পাশ ডি.এল.এড-দের চাকরি নিশ্চিত হওয়া উচিৎ।

 ওরা প্রশিক্ষিত, ওরা টেট পাশ । ওদের দাবি, রাজ্য সরকার যদি একজন প্রশিক্ষণহীনকেও নিয়োগ করতে চায় তবে আইনানুগ টেট পাশ করা প্রশিক্ষিত সকলের চাকরি পাক । রাজ্য সরকারের গেজেটেও একথা লেখা আছে । তারা এও আন্দাজ করছেন যে প্রতি জেলাতে ভ্যাকেন্সির থেকে টেট পাশ করা প্রশিক্ষিতদের সংখ্যা অনেক কম তাই রাজ্য সরকার সহজেই তাদের প্রত্যেককে চাকরি দেবে। কারণ এটাই আইনত তাদের অধিকার এবং হাইকোর্টের নির্দেশও সেইরকমই । শুভাসিস, আবদুলদের বক্তব্য, তারা প্রাথমিক শিক্ষক হবে বলেই অন্যান্য সমস্ত ট্রেনিং এবং উচ্চশিক্ষা ছেড়ে দু বছরের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। শিক্ষার অধিকার আইনে চাকরিতে তাদের অগ্রাধিকারের কথা বলা আছে । রাজ্য সরকার ‘প্রাইমারি টিচার রিক্রুটমেন্ট রুল, ২০১৬’- তেও লিখেছেন, কোন মতেই একজন যোগ্য প্রশিক্ষিতকে চাকরি থেকে বঞ্চিত করা যাবে না, যদি একজন যোগ্য প্রশিক্ষণহীনকে চাকরি দিতে হয়। আর কেন্দ্র ও রাজ্যের এই দুই আইনের উপর দাঁড়িয়ে তারা প্রত্যেকেই আজ চরম আশাবাদী ।

কিন্তু অতীতের হতাশার দিনগুলো তারা মনে রেখেছে, এবং তাদের মনে এখনো আশঙ্কা আছে , তবু আশঙ্কার থেকে আজ তাদের আশা অনেক গুন বেশি। তাদের মধ্যে কেউ যদি চাকরি থেকে বঞ্চিত হন তবে তা আইন কে লঙ্ঘন করা হবে বলে তাদের মত।

তবে সকল টেট পাশ প্রশিক্ষিতরা এও বলছেন, সমস্ত প্রশিক্ষিতদের নিয়োগের পর প্রশিক্ষণহীন দের যদি মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ করা হয় তবে তাদের আপত্তি নেই । যদিও অন্যান্য রাজ্যে ‘শিক্ষার অধিকার আইন ২০০৯’  অনুযায়ী কয়েক বছর আগে থেকেই প্রাথমিক শিক্ষক হতে গেলে প্রশিক্ষণ আবশ্যক।

(লেখক পরীক্ষার্থী)

বিজ্ঞাপন
loading...

1 মন্তব্য

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here