কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং

0
ড. ইমন মুখার্জি
(অধ্যাপক, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ইনফরমেশন টেকনোলজি, কল্যাণী)

কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হতে পারলে আর চিন্তা নেই। জীবনজীবিকা প্রায় নিশ্চিত। তাই জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা দিয়ে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার ইচ্ছা থাকে বেশিরভাগ পড়ুয়া ও তাদের অভিভাবকদের। তাদের জন্য একটা জরুরি কথা শুরুতেই বলে দিই। সাধারণ ভাবে বিজ্ঞান বিভাগে ভালো নম্বর পাওয়া বা বিজ্ঞানে আগ্রহ থাকলেই কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার কথা ভেবো না। অঙ্কে দক্ষতা, এই বিষয়টির জন্য অত্যন্ত জরুরি। অঙ্ক করতে তোমার যদি ততটা ভালো না লাগে, তাহলে এই বিষয়টি নির্বাচন করা ভুল সিদ্ধান্তও হয়ে দাঁড়াতে পারে ভবিষ্যতে।

শুধু অঙ্ক নয়, জীববিদ্যাতেও আগ্রহ থাকা দরকার কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে হলে। শুনে অবাক লাগছে তো? অবাক হওয়ার কিছু নেই। সাম্প্রতিক কালে প্রথম সারির সব ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং-এর সিলেবাসে যুক্ত করা হয়েছে বা হচ্ছে বায়োইনফরমেটিকস। এই বিষয়ে গবেষণার সুযোগ প্রতিদিনই বাড়ছে। চাকরির দরজাও খুলতে চলেছে আগামী দিনে। আর এই ক্ষেত্রে কাজ করতে গেলে একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারের ন্যূনতম বায়োলজির জ্ঞানও প্রয়োজন। তাই বায়োলজিকেও গুরুত্ব দিতে হবে তোমায়।

কোথায় ভর্তি হবে

বিজ্ঞাপন

জয়েন্টে মেধা তালিকায় যারা প্রথম দিকে থাকবে, তাদের সাধারণত ভাবনার কিছু থাকে না। তারা সহজেই খ্যাতনামা কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে সুযোগ পেয়ে যায়। চিন্তা তাদেরই, যারা মেধা তালিকায় কিছুটা পেছনে থাকে। তাদের জন্য কিছু পরামর্শ:

১) বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে অনেকেরই পরিকাঠামোর মান নিয়ে নানা বিতর্ক আছে। তাই বিজ্ঞাপন দ্বারা প্রভাবিত হয়ো না। সংশ্লিষ্ট কলেজের সিনিয়রদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিকাঠামো সম্পর্কে ধারণা তৈরি করে, তারপর ভর্তির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।

২) ওই কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়গুলি থেকে নিয়োগ বা প্লেসমেন্ট আগের বছরগুলিতে কোথায় কতটা হয়েছে, সেই ব্যাপারে খোঁজখবর করে নেওয়া প্রয়োজন।

৩) ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের যোগ্যতা, পর্যাপ্ততা কেমন হওয়া উচিৎ, সে ব্যাপারে MHRD/UGC/AICTE-র স্পষ্ট মানদণ্ড আছে। সংশ্লিষ্ট কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে এবং সম্ভব হলে ওখানকার বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই সমীচিন।

৪) প্রতিটি কলেজ/ বিশ্ববিদ্যালয়েরই ওয়েবসাইট আছে। ভালো করে সেই ওয়েবসাইটগুলি দেখো। সেখানে কী ধরনের বা কী পরিমাণে গবেষণার কাজ হয়েছে বা হচ্ছে, সেখান থেকে এখন অবধি কতগুলি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলি ভালো করে দেখো। GATE প্রভৃতি জাতীয়-আন্তর্জাতিক পরীক্ষায় সেখানকার পড়ুয়াদের র‍্যাঙ্ক কেমন, সেটাও দেখা দরকার।

৫) অবশ্যই দেখে নাও এনবিএ বা ন্যাক-এর অনুমোদন রয়েছে কি না বা Institute of national importance-এর তকমা রয়েছে কি না।

৬) নির্দিষ্ট কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়টি কী পরিমাণ সরকারি ও বেসরকারি প্রোজেক্ট করেছে বা করছে, সে বিষয়েও তথ্য ঘেঁটে নাও ওয়েবসাইট থেকে।

৭) আর্থিক ভাবে পিছিয়ে থাকা ছাত্রছাত্রীদেরও কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। অনেক কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে এইসব ছাত্রছাত্রীদের সম্পূর্ণ বা আংশিক বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠানে সরকারি ও বেসরকারি স্কলারশিপের ব্যবস্থা আছে।

এ প্রসঙ্গে একটা কথা বলে রাখি। কলেজের পরিকাঠামো, ফ্যাকাল্টি বা পড়াশোনার মান ততটা ভালো না হলেও আজকের দিনে নিজেকে তৈরি করে নেওয়ার অনেক সুযোগ রয়েছে। তার জন্য কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের NPTEL.ac.in ওয়েবসাইটের সাহায্য নাও। সেখানে প্রচুর বিষয়ের ওপর খ্যাতনামা অধ্যাপকদের ক্লাসের ভিডিও রয়েছে। সেগুলো থেকে নিজেকে প্রস্তুত করে নেওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।  

কাজের সুযোগ

সম্প্রতি এআইসিটিই, NASCOM ও অন্যান্য সংস্থার প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে যে, দেশে প্রতি বছর যত ইঞ্জিনিয়ার পাস করে, তার মধ্যে প্রায় ৪০-৫০ শতাংশের ভালো কর্মসংস্থান হয়। কিন্তু কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং-এ এখনও চাকরির সুযোগ বেশি। মানে, যোগ্যদের চাকরির কোনো অভাব নেই।

১) স্যামসাং, গুগল, মাইক্রোসফট, আইবিএম, উইপ্রো, টিসিএস, কগনিজ্যান্ট-এর মতো বেসরকারি সংস্থার বিভিন্ন প্রোজেক্টে বি ই/বি টেক ডিগ্রিধারীদের চাকরি রয়েছে।

২) সি ড্যাক, ডিআরডিও, ইসরোর মতো বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে গবেষণার কাজ ও প্রোজেক্টে বি ই/ বি টেক ইঞ্জিনিয়ার নেওয়া হয়ে থাকে।

৩) ব্যাঙ্কিং-এর মতো বিভিন্ন পরিষেবা ক্ষেত্রগুলিতেও বিভিন্ন প্রোজেক্টে বি ই/ বি টেক কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারদের কাজের সুযোগ রয়েছে।

৪) এছাড়া বেসরকারি সংস্থার রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রোজেক্টগুলিতেও কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার নেওয়া হয়, তবে তার জন্য ন্যূনতম মাস্টার্স ডিগ্রি প্রয়োজন।

৫) একাডেমিক্স অর্থাৎ পড়াশোনা ও গবেষণামূলক কাজ করতে চাও যারা, তাঁদের অবশ্যই উচ্চশিক্ষায় মনোনিবেশ করতে হবে। অর্থাৎ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি, পিএইচডি ইত্যাদি।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, যেহেতু কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ইনফরমেশন টেকনোলজির পাঠক্রম প্রায় একই, তাই একটিতে স্নাতক হয়ে অন্যটিতে পিএইচডি করা যেতেই পারে। MHRD/UGC/AICTE-র নিয়মানুসারে এক্ষেত্রে অধ্যপক হিসেবে চাকরি পেতে কোনো অসুবিধা নেই।

আরও পড়ুন: ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশনস ইঞ্জিনিয়ারিং

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here