ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশনস ইঞ্জিনিয়ারিং

0
612
ড. স্বাগতম দাস

(অধ্যাপক, ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন সায়েন্সেস ইউনিট, ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট, কলকাতা)

ইলেক্ট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং-এ বি ই বা বি টেক করার সুবিধা হল, ছাত্র বা ছাত্রীটি পরবর্তীকালে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বা আইটি-তে উচ্চশিক্ষা অর্জন করতে পারে। যদি উচ্চশিক্ষায় কেউ নাও যায়, সে ক্ষেত্রেও কম্পিউটার বা আইটি বিভাগের স্নাতকদের মতোই হাজারও সফটওয়্যার সংস্থায় কাজের সুযোগ তার থাকছে। পাশাপাশি থাকছে, ইলেক্ট্রনিক্সের বুনিয়াদি ক্ষেত্রগুলোয় কাজের সুযোগ।

কিন্তু এ সব কথায় পরে আসব। আগে বলে নিই, যারা ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার হতে চাও, তাদের অবশ্যই পদার্থবিদ্যায় ভালো দখল ও আগ্রহ থাকতে হবে। আরও নির্দিষ্ট ভাবে বললে, অঙ্কের চেয়ে পদার্থবিদ্যার গুরুত্ব এখানে বেশি।

কলেজ বাছাই   

সোজা কথা সোজা ভাবে বলাই ভালো। ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ানোর জন্য যে ধরনের পরিকাঠামো বা ল্যাবরেটরি দরকার, বেশির ভাগ বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজেই তা নেই। অর্থাৎ ইলেক্ট্রনিক্সের বুনিয়াদি ক্ষেত্রে চাকরির উপযোগী হয়ে উঠতে গেলে যে ধরনের পরিকাঠামোয় পড়াশোনা করার দরকার, তা সেখানে থাকে না। কিন্তু উৎসাহী পড়ুয়াদের জন্য আজকের দিনে পৃথিবী সেখানেই শেষ হয়ে যায় না।

মেধার দিক থেকে কিছুটা পিছিয়ে থাকার কারণে তো বটেই, অনেক সময় অন্যান্য  নানা কারণে অনেক মেধাবী পড়ুয়াও জয়েন্টের মেধাতালিকায় প্রথম দিকে থাকতে পারে না। কিন্তু ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে এসে বিষয়টিকে ভালোবেসে ফেলতেই পারে। সে ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ নিশ্চয় আছে।

ধরা যাক, কোনো একটি বিষয় তোমাদের ক্লাসে পড়ানো হচ্ছে, কিন্তু পড়ানোর মান তোমার ভালো লাগছে না। সে ক্ষেত্রে ইউটিউব ঘেঁটে তুমি ওই নির্দিষ্ট বিষয়ে ভারতের এবং পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ অধ্যাপকদের ক্লাসের ভিডিও খুঁজে দেখতে পারো। ভালো করে ভিডিওগুলি এক বা একাধিকবার দেখলেই তোমার পড়া তৈরি হয়ে যেতে পারে।

খোঁজ রাখো, ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে আইআইটি, আইএসআই-এর মতো বিভিন্ন প্রথম সারির প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপকদের। ইন্টারনেট ঘাঁটলে আজকের দিনে খোঁজ রাখা মোটেই কঠিন নয়। এই সব অধ্যাপকের অধীনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রোজেক্ট হয়। ব্যক্তিগত ভাবে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তৃতীয় বর্ষের পর থেকে সেই প্রোজেক্টের অঙ্গ হতে পারো তুমিও। পাঠক্রমের বাইরে এই ধরনের প্রোজেক্টের সঙ্গে যুক্ত থাকলে, তোমার দিগন্ত যেমন বড়ো হবে, তেমনি পরবর্তী কালে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে সুবিধা হবে।

চাকরির সুযোগ

১) আগেই বলেছি, হাজারও সফটওয়্যার সংস্থায় প্রচুর কাজের সুযোগ রয়েছে। তবে সত্যি বলতে কি, টিসিএস, উইপ্রো ইত্যাদির মতো সংস্থাগুলিতে যে সব ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড মেনটেন্যান্সের কাজ হয়, তার জন্য দ্বাদশ শ্রেণি উত্তীর্ণ যে কোনো পড়ুয়াকে প্রশিক্ষণ দিলেই কাজটা করতে পারবে। এইচসিএল এমন একটি প্রকল্পও নিয়েছে। যেখানে দ্বাদশ শ্রেণি উত্তীর্ণদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ওই সংস্থা ডিপ্লোমা দিচ্ছে। তাঁদের কাজে লাগাচ্ছে অনেক কম বেতনে। এই প্রবণতা কিন্তু বাড়বে বই কমবে না। তার ওপর, এই ধরনের কাজ সরাসরি বিশ্ববাজারের সঙ্গে যুক্ত। দুনিয়ার আর্থিক পরিস্থিতির ওঠাপড়ার সঙ্গে এই কাজ বাড়বে বা কমবে। সে দিক থেকে এই ধরনের কাজের পরিস্থিতি আজ খুব ভালো হলেও, এমনই দিন চলবে, এ কথাও জোর দিয়ে বলা যায় না (বর্তমানে তেমন অবস্থা কিন্তু চলছে)।

২) এ বার আসি ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং-এর বুনিয়াদি ক্ষেত্রে কাজের সুযোগের প্রসঙ্গে। অর্থাৎ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ক্ষেত্র। এই বিষয়ে ভারতে বেশ কয়েকটি সংস্থা কাজ করছে, যেমন- টেক্সাস ইনস্ট্রুমেন্টস বেঙ্গালুরু, ক্যাডেনস, ইট্রিয়াম, ইনটেল, আইবিএম-এর রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগ, স্যামসাং রিসার্চ, অ্যাডোব, হিউলেট প্যাকার্ড।

৩) এ ছাড়া সরকারি চাকরির সুযোগও রয়েছে। ইসরো, ডিআরডিও, বার্ক, সাহা ইনস্টিটিউট অফ নিউক্লিয়ার ফিজিক্স-এর মতো সংস্থায় ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার নেওয়া হয়।

৪) মনে রাখতে হবে দু’টো কথা। ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং-এর বুনিয়াদি ক্ষেত্রে চাকরি কিন্তু খুব বেশি নয়। আর বি টেক ডিগ্রির ভিত্তিতে এই ধরনের চাকরি যে হয় না তা নয়, তবে অগ্রাধিকার থাকে এম টেক-দেরই।

৫) এ ছাড়া পড়াশোনা ও গবেষণাকে পেশা হিসেবে নেওয়ার সুযোগ তো আছেই। তার জন্য উচ্চশিক্ষা, পিএইচডি – এটাই একমাত্র পথ।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here