চাকরিপ্রার্থীদের খামতি কোথায় খুঁজে দেখল বেঙ্গল চেম্বার অব কমার্স

0
149

 স্মিতা দাস

কলকাতা : প্রতি বছর দেশে যতজন পড়ুয়া ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন, তাঁদের মধ্যে ৬০ শতাংশ স্নাতকই কাজ পান না। কারণ তাঁরা কর্মযোগ্যই হয়ে উঠতে পারেন না। এই পরিসংখ্যান অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল ফর টেকনিক্যাল এডুকেশনের। এই তথ্য প্রকাশের পর কেন্দ্রের মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক প্রায় নড়েচড়ে বসেছে। অন্য দিকে দেশের বেশ কয়েকটি বড়ো ইঞ্জিনিয়ারিং সংস্থাও নিজেদের পরিকাঠামো ঢেলে সাজার উদ্যোগ নিচ্ছে। আর ঠিক সেই পরিস্থিতিতেই শনিবার বেঙ্গল চেম্বার অব কমার্সের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছিল এক আলোচনাসভার। এই নিয়ে তৃতীয় বর্ষে পড়ল এই সভা। ইঞ্জিনিয়াররা চাকরি না পাওয়ার মূল কারণ তাঁরা নির্দিষ্ট কাজের যোগ্য নন। কেন নন বা কী সেই যোগ্যতা যা তাঁদের মধ্যে থাকা দরকার, এই নিয়েই নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন বিভিন্ন নামী সংস্থার আধিকারিকরা। এ দিন এই আলোচনাসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন স্রেই ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফিনান্স লিমিটেডের ভাইস চ্যায়ারম্যান সুনীল কানোরিয়া, টাইমস অব ইন্ডিয়ার ডেপুটি চিফ ম্যানেজার (এইচআর) সুব্রত কুমার সাহা, সাপুরজি পালনজি-র জেনারেল ম্যানেজার (এইচআর) শিখা বন্দ্যোপাধ্যায়, উইপ্রো এভিপি (এইচআর) ঋতুপর্ণা ঘোষ, ইমামি লিমিটেডের অঙ্কুর চতুর্বেদী-সহ আরও অনেকে। এক কথায় তাঁদের বক্তব্যের ‘কি ওয়ার্ড’ হল ‘জব সিকার নয় হও জব ক্রিয়েটার’ অর্থাৎ চাকরি খোঁজা নয়, উদ্দেশ্য হওয়া উচিত চাকরি তৈরি করা।

প্রার্থী আর নিয়োগকর্তার মধ্যেকার ফাঁক পূরণের চেষ্টা করতেই এই সভার আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান আলোচনায় উপস্থিত কর্মকর্তারা। তাঁদের মতে, এই ফাঁক পূরণ করতে হলে ভিত তৈরি করতে হবে স্কুল-কলেজের পড়াশোনার মধ্যে দিয়েই। হঠাৎ করে এটা করা সম্ভব নয়। আর এটা শুধু পড়ুয়াদের চ্যালেঞ্জ নয়, এটা প্রতিষ্ঠান আর শিক্ষকদের কাছেও খুব বড়ো চ্যালেঞ্জ।

সুনীল কানোরিয়া বলেন, এ ছাড়া উদ্যোগপতি তৈরি করাও একটা ভালো প্রচেষ্টা। প্রয়োজনে প্রশিক্ষকদেরও নতুন করে প্রশিক্ষণ নিতে হবে।

আরও পড়ুন: ভারতে ইঞ্জিনিয়ারিং স্নাতকদের ৬০% কর্মহীন: রিপোর্ট

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজেকে কাজের জন্য যোগ্য করে তুলতে হবে। সুব্রত কুমার সাহা বলেন, বাজারে কাজ নেই, তা নয়। মাথায় রাখতে হবে যাঁরা কাজ পাচ্ছেন না তাঁরা এখনও উপযুক্ত হয়ে উঠতে পারেননি। কগনিজেন্ট টেকনোলজি সলিউশনের অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর (এইচআর) সুপ্রতীক ভট্টাচার্য বলেন, পুঁথিগত বিদ্যা আর আর হাতেকলমে কাজের মধ্যে অনেক ফারাক থাকে। তাই দরকার ক্যাম্পেনিং, কেস স্টাডি ইত্যাদির অভিজ্ঞতা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সেখানে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। নিজেকে অনেক বেশি আপডেটেড রাখতে হবে অর্থাৎ সময়োপযোগী করে তুলতে হবে। নিজেদের মধ্যে ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স বাড়াতে হবে। ভিতটা মজবুত করতে হবে। ইন্টারভিউ বোর্ডে গিয়ে কোনো জানা জিনিস না পারাটা মোটেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। এখানেই কাজে লাগে ফান্ডামেন্টালস। নানা ভাবে নিজেদের সমৃদ্ধ করতে হবে। তার জন্য দরকার প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস। বা নিজে দায়িত্ব নিয়ে প্রজেক্টের কাজ করার ক্ষমতা। সেখানে সাফল্য আসবেই এটা ভাবাটা ভুল। তবে ব্যর্থ হলেও প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে। নিজেদের মধ্যেকার বৈচিত্র ও বৈশিষ্ট্য বাড়াতে হবে।

অঙ্কুর চতুর্বেদী বলেন, এই সব কিছুর আগে দরকার নিজের ভেতর থেকে ইচ্ছাশক্তিকে জাগিয়ে তোলা। তার জন্য যেটা সর্বপ্রথম দরকার তা হল, নিজে কী চাই বা চাই না তা উপলব্ধি করা। তা না পারলে সব চেষ্টাই সীমাবদ্ধতা এনে দেবে।

তাঁদের মতে, তার জন্য দরকার সামারক্যাম্প, সামার ইন্টার্নশিপের মতো ব্যবস্থার। তার উপযুক্ত পরিসর তৈরি করা।

সর্বোপরি যেটা দরকার ‘লার্নিং থেকে আনলার্নিং আর রিলার্ন’ এই পদ্ধতির মধ্যে দিয়ে যাওয়া। কারণ প্রতি দিনই নতুন কিছু তৈরি হচ্ছে। তা শেখার জন্য মানসিক ভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। নিজের আর একটা রোবোটের মধ্যের পার্থক্য কোথায় তা বুঝতে হবে। কারণ কোনো প্রতিষ্ঠান প্রার্থী নিয়োগ করে নিজেকে আরও উন্নত আর শক্তিশালী বানানোর জন্য। তাই প্রার্থীকে এটা মনে রাখতে হবে, প্রতিষ্ঠানকে নতুন কিছু দেওয়ার যোগ্যতা তাঁর থাকা উচিত। সেই জন্যই পড়ুয়াদের মধ্যে দৃঢ়তা থাকতে হবে।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here