বিশ্বে বায়ুদূষণে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি ভারতে

0
237

নয়াদিল্লি : কিছু মাস আগের ঘটনা। দিল্লিতে কুয়াশা আর দূষণের কারণে প্রায় অচল হয়ে পড়েছিল গোটা রাজধানী। এই সমস্যা প্রথম বার নয়। কম বেশি বেশ কয়েক বার এর মুখোমুখি হয়েছে আমাদের দেশ। দিনের দিন বাড়ছে দেশে দূষণের পরিমাণ। এত দিন দূষণের মাত্রায় সর্বাধিক দূষিত দেশ হিসেবে কুখ্যাত ছিল চিন। এখন তাকে টপকে গেল ভারত। গোটা বিশ্বে দূষণে মৃত্যুর সর্বাধিক হার ভারতে। এমন জানা যাচ্ছে বোস্টনে প্রকাশিত ‘স্টেট অব গ্লোবাল এয়ার ২০১৭’-এর রিপোর্ট থেকে। 

জলদূষণ, শব্দদূষণ, মাটিদূষণ কোনো কিছুই দূষিত হতে বাকি নেই তৃতীয় বিশ্বের এই দেশটিতে। তার মধ্যে অন্যতম হল বায়ুদূষণ। এই বায়ুদূষণের গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে গাড়ি, বিদ্যুৎ ও তাপ উৎপাদনকারী যন্ত্র থেকে উৎপন্ন ধোঁয়া, শিল্পকারখানা এবং কঠিন বর্জ্য পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট ধোঁয়া বা যে কোনো কিছু থেকে সৃষ্ট ধোঁয়া। এ ছাড়াও রয়েছে বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তরের দূষণ। রিপোর্ট বলছে, বর্তমানে এই দূষণ মারাত্মক আকার নিয়েছে। 

air-1

 

এই রিপোর্ট বলছে, ২০১৫ সালে ওজোনস্তরের দূষণের ফলে ভারতে ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে দু’লাখ চুয়ান্ন হাজার মানুষের। এই দূষণের ফলে বেড়েছে অকাল মৃত্যুর হার, যা বাংলাদেশের থেকে ১৩ গুণ আর পাকিস্তানের থেকে ২১ গুণ বেশি। পরিসংখ্যান বলছে, এ দেশে অকাল মৃত্যুর হারও সর্বাধিক, এর কারণও ওজোনস্তরের দূষণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ওজোনদূষণের কারণে বাড়ছে ফুসফুসের রোগের প্রকোপও।

একটি ইন্টার‍্যাকটিভ ওয়েবসাইট তাদের রিপোর্টে বলছে, বিশ্বের ৯২ শতাংশ মানুষই অস্বাস্থ্যকর বাতাসের মধ্যে জীবনধারণ করছেন। ‘হেলথ এফেক্ট ইনস্টিটিউট’-এর সভাপতি ডন গ্রিনবাউম বলেন, দিনের দিন বায়ুদূষণের সমস্যা বেড়েই চলেছে। এর ফলে কীভাবে বাড়ছে অকাল মৃত্যুর পরিমাণ সেই দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্যই এই রিপোর্ট বানিয়েছেন তাঁরা। তিনি বলেন, বিশ্বের বেশ কিছু এলাকায় অনেকটা উন্নতি হলেও, এখনও এমন অনেক জায়গা আছে যেখানে সমস্যা খুবই গুরুতর।বায়ুদূষণ সংক্রান্ত এই রিপোর্টটি বানিয়েছে হেলথ এফেক্ট ইনস্টিটিউট। তাদের সহযোগিতায় ছিল ব্রিটিশ কলোম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যাট্রিক্স অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন’ বিভাগ। এই গবেষণার সঙ্গে জড়িত প্রায় ২০০০ গবেষক। তাঁদের গবেষণা বলছে, ১৯৯০ সালের পর থেকে খাবারদাবার, পরিবেশ-সহ নানা ক্ষেত্রে ঝুঁকির পরিমাণ বাড়ছে। ৩০০টির মতো রোগের সাংঘাতিক প্রকোপ পড়েছে ১৯৫টি দেশে।

‘সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট’-এর অনুমিতা রায়চৌধুরী বলেন, পরিস্থিতি প্রায় হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। ওজোনস্তরের দূষণের ফলে দেশে অকাল মৃত্যুর হার মাত্রা ছাড়িয়েছে। এটা স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে এক প্রকার জরুরি অবস্থা। তাই বায়ুদূষণ রোধে দেশে বাতাস পরিষ্কার করতে উল্লেখযোগ্য ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। এখন তার সময় এসেছে। 

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here