পুরু বরফের নিচে অক্ষতই আছে ‘হিলারি স্টেপ’, মত শেরপাদের

0
2682

কাঠমান্ডু: এতদিনে হইচই পড়ে গেছে পর্বতারোহী মহলে। এভারেস্ট চূড়া থেকে কয়েক মিটার নীচের ‘হিলারি স্টেপ’ নাকি ধ্বংস হয়েছে ২০১৫-র ভুমিকম্পে। ভূ-বিজ্ঞানীরা অবশ্য আগেই আশঙ্কা করেছিলেন, ভূমিকম্পের পর নাকি অনেকটাই বদলে যেতে পারে পৃথিবীর শীর্ষে ওঠার রাস্তাটা। বিতর্ক উস্কে দিতে আবার হাজির নতুন মত। নেপালের অনেক শেরপাই বলছেন, অনেকটা বরফ জমে থাকায় হিলারি স্টেপের পাথুরে অংশ নজরে আসছে না পর্বতারোহীদের।

১৬ মে পৃথিবীর সর্বোচ্চ বিন্দুতে পা রাখা এক পর্বতারোহী দলের দলনেতা টিম মোসডেল জানিয়েছিলেন হিলারি স্টেপের অস্তিত্ব আর নেই। গত বছর শৃঙ্গ ছোঁয়ার সময় অতিরিক্ত বরফ জমে থাকায় বুঝতে পারেননি। তিনি আরও বলেন, এভারেস্টের চুড়োয় পৌঁছনোর ঠিক আগে এই ধাপের গুরুত্ব অপরিসীম। হিলারি স্টেপের হারিয়ে যাওয়া নাকি আগামী দিনের এভারেস্ট অভিযানকে আরও কঠিন করে তুলবে।

এভারেস্টে ওঠার রাস্তায় শৃঙ্গের থেকে ৫৮ মিটার নিচে অর্থাৎ ৮৭৯০ মিটার উচ্চতায় পাহাড়ের গা থেকে বেরিয়ে থাকা একটা অংশ। এটাই হিলারি স্টেপ। ১৯৫৩ সালে এডমন্ড হিলারি প্রথম সফল হয়েছিলেন এই বিপজ্জনক ধাপ পেরোতে। তাঁর স্মৃতিতেই নাম রাখা।

নেপাল মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সহ বহু শেরপাই কিন্তু আবারও বলছেন, হিলারি স্টেপ রয়েছে তার আগের জায়গাতেই, শুধু ওপরে জমেছে পুরু বরফের স্তর। পাসাং শেরপা জানিয়েছেন, “আজকাল পর্বতারোহীরা অন্য পথে এভারেস্টে উঠছেন, তাই হয়তো তাঁদের নজরে পড়ছে না”। ১১ বার এভারেস্ট জয় করা পাসাং শেরপা ২০১৬-র অভিযানের রুট ওপেন করতে এসেই বুঝেছিলেন দীর্ঘ দু বছর পর্বতারোহণ না হওয়ায় অনেক বেশি বরফ জমেছে শৃঙ্গ ছোঁয়ার রাস্তায়। নেপাল পর্যটনের প্রধান দীনেশ ভট্টরাই হিলারি স্টেপ ধসে যাওয়ার প্রসঙ্গে বলেছেন, “সরকারি ভাবে আমরা কিছু ঘোষণা করিনি এখনও। সংবাদমাধ্যমে যদিও নানা খবর দেখেছি”। ২০১৭-এর প্রথম কয়েকজন এভারেস্টজয়ীদের মধ্যে একজন নেপালের লীলা বাস্নেট। পৃথিবীর শীর্ষে এই নিয়ে পাঁচ বার গেলেন তিনি। শৃঙ্গ ছোঁয়ার পথে কোনো অস্বাভাবিকতা চোখে পড়েনি তাঁর, জানিয়েছেন লীলা।

ছবি সৌজন্য: টিম মোসডেলের ফেসবুক পোস্ট

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here