অসলো (নরওয়ে) : ‘এসভালবার্ড গ্লোবাল সিড ভল্ট’, এটা নরওয়ের স্পিটসবারেন দ্বীপে অবস্থিত এক বিশাল বীজ ব্যাঙ্ক বা শস্য সংরক্ষণাগার। এই বিশাল শস্য সংরক্ষণাগারটি বর্তমানে এক অনিশ্চিত অশনি সংকেতের সম্মুখীন হচ্ছে – তা হল গ্লোবাল ওয়ার্মিং। ২০০৮ সালে নির্মিত হয় সিড ভল্টটি। শেষের সেই দিন অর্থাৎ ‘ডুমস ডে’-র কথা ভেবে খাদ্যশস্যের দশ লক্ষ প্যাকেট সংরক্ষণাগারে সঞ্চিত রয়েছে। কিন্তু বিশ্বব্যাপী উষ্ণায়ণের ফলে উত্তর মেরুর এই অংশেও শীতকালে তাপমাত্রা অস্বাভাবিক রকমের বেড়ে যায়। আর তার ফলে ভাণ্ডারের ঢালাইয়ের সুড়ঙ্গের মধ্যে দিয়ে জল ভেতরে ঢুকতে শুরু করে।

বিশ্বব্যাপী প্রাকৃতিক বা মনুষ্যনির্মিত দুর্যোগের সময় খাদ্যের টানাটানির বিরুদ্ধে মোকাবিলা করার লক্ষ্যে নির্মিত হয়েছিল এই ভাণ্ডার। এটি অবস্থিত আর্কটিক বৃত্তের একটি পর্বতের ভেতরে। এখানে তাপমাত্রা মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একটি বিশালাকার স্কেলের ওপর এটি দাঁড়িয়ে।

আরও পড়ুন : ২০৪০-এর মধ্যে বরফশূন্য হবে সুমেরু সাগর, বলছে গবেষণা

বিজ্ঞাপন

যাই হোক, বর্তমানে এই বীজ ভাণ্ডারটি বরফ গলে যাওয়া আর তার ফলে সৃষ্টি হওয়া বন্যার মতো দু’টি সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছে। অনবরত ঘূর্ণিঝড় আর বন্যার পাশাপাশি রয়েছে বৃষ্টিপাতও। তবে সৌভাগ্যের বিষয় মূল শস্যভাণ্ডারটি এখনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। কারণ বন্যার জল জমে ফের বরফে পরিণত হচ্ছে। তবে যাই হোক, আপাতত এই ভাবে চললেও বর্তমান পরিস্থিতির টানাপোড়েনে স্বাভাবিক ভাবেই এই সিড ভল্টের দীর্ঘস্থায়িতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কারণ উদ্দেশ্য ছিল ৫০০ থেকে ১০০০ বছর এই ভাণ্ডারটি সংরক্ষণ করা।

আরও পড়ুন : নরওয়ের ‘ডুম্‌সডে ভল্ট’-এ হাজার বছর পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকবে দেশ বিদেশের নানা তথ্য

এই ভাণ্ডারটি প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত হয় সম্পূর্ণ রূপে নরওয়ে সরকারের অর্থানুকুল্যে। এর দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন দেশের কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। নরওয়ে সরকারের এক জন অধিকর্তা হেগে নজা আসচিম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তাঁরা এটা তৈরির সময় এটা ভাবেননি যে, পারমাফ্রস্ট অর্থাৎ ভূগর্ভস্থ চিরহিমায়িত অঞ্চল সেখানে কোনো দিন নাও থাকতে পারে। ভাবেননি এমন একটা চরম আবহাওয়ার সম্মুখীন হতে হবে। তিনি বলেন, তবে আবহাওয়া বিপরীত হলেও বন্যার বেশির ভাগ জলই ঢুকতে গিয়ে বরফের সংস্পর্শে এসে জমে যাচ্ছে। ঠিক হিমবাহের মতো। এটা যেন ঠিক মানুষের সাহায্য ছাড়াই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। কিন্তু এখন তাঁরাও প্রতিনিয়ত সেখানে নজর রাখছেন। এটা বাঁচানোর যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন।

উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্লোবাল ওয়ার্মিং এবং জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে ওঠা যাবতীয় মতের বিরোধিতা করেছেন। এর সত্যতার বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পরই, হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইট থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্ত তথ্য মুছে ফেলেছেন। এমনকি ট্রাম্প রাষ্ট্রপুঞ্জের প্যারিস জলবায়ু পরিবর্তন চুক্তিও বাতিল করেছেন। অন্য দিকে কয়লাকেন্দ্রিক শিল্প গড়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। স্বভাবতই মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই নীতি বিশ্বব্যাপী জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here