গোটা রাজ্যেই জারি প্রবল শীত, তবে দূষণের দোষে দশের কোঠায় থেমে যাচ্ছে কলকাতার পারদ

0
2361
kolkata winter

কলকাতা: এক সপ্তাহ হতে চলল প্রবল শৈত্যপ্রবাহ গ্রাস করেছে গোটা রাজ্যকে। রাজ্যের সব ক’টি জেলাতেই স্বাভাবিকের থেকে অন্তত পাঁচ ডিগ্রি করে কম থাকছে তাপমাত্রা। সব জায়গাতেই পারদ দশের নীচে। কিন্তু ব্যতিক্রম বলতে শুধু কলকাতা।

রবিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল যথাক্রমে ১০.৬, ১০.৫ এবং ১১.১। মঙ্গলবার ফের ১১-এর নীচে নেমে কলকাতার পারদ ছিল ১০.৯ ডিগ্রিতে। তবে কলকাতার তাপমাত্রা দশের কোঠাতে থাকলেও পরপর ছ’দিন দশের নীচে থাকল দমদমের তাপমাত্রা। বুধবার সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড কড়া হয় ৮.৮ ডিগ্রি। উল্লেখ্য, বুধবারই ছিল দমদমের শীতলতম দিন। তবে কলকাতা, অর্থাৎ আলিপুর আবহাওয়া দফতরের অফিসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০-এর নীচে না নামলেও, শহরতলির কিছু জায়গায় তাপমাত্রা কিন্তু দশের নীচে নেমেছে।

যেমন ধরা যাক পাটুলির কথা। পাটুলিতে অবস্থিত কলকাতা পুরসভার পাম্পিং স্টেশনে বুধবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯.৭। সন্তোষপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এই দু’টি রেকর্ডিং আবহাওয়া দফতরের নয়, পুরসভার। আবহাওয়া দফতরের খাতায় আলিপুরের তাপমাত্রাই তোলা থাকে। তাই শহরের কিছু এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা দশের নীচে নামলেও তা সরকারি স্বীকৃতি পাচ্ছে না।

কিন্তু কলকাতার আশেপাশে যখন তাপমাত্রা দশের নীচে নামছে তখন কলকাতা ব্যতিক্রম থাকছে কেন? এর পেছনে কিন্তু দূষণকেই দায়ী করেছেন বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমার কর্ণধার রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা। সোমবার রাতে কলকাতার তাপমাত্রার পতনের ওপরে একটি গবেষণা করেছিলেন তিনি। সেখানে তিনি খেয়াল করেন রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত কলকাতার তাপমাত্রা হুহু করে নামলেও, পরবর্তী চার-পাঁচ ঘণ্টায় তা আর নামতে পারছে না। তাঁর কথায়, “অনেকে হয়তো বলবেন উপকূলবর্তী প্রভাবে কলকাতার তাপমাত্রা নামতে পারছে না। কিন্তু আমি বলব দূষণের জন্যই তা হচ্ছে না। অতিরিক্ত যান চলাচলের জন্য কলকাতায় একটা বুদবুদের মতো তৈরি হচ্ছে যার ফলে তাপমাত্রার পতনটা কলকাতার পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছে।”

উল্লেখ্য, উপকূলবর্তী অঞ্চলেও কিন্তু প্রবল শীত জারি রয়েছে। বুধবার দিঘায় তাপমাত্রা ছিল ৯.৪ ডিগ্রি, ডায়মন্ড হারবারে ছিল ৯.৮ ডিগ্রি। কিন্তু সবাইকে তাক লাগিয়ে দিচ্ছে কাঁথি। সেখানে বুধবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অতএব রবীন্দ্রবাবু মনে করেন, কলকাতায় যদি উপকূলের প্রভাবই পড়ত তা হলে দিঘা, ডায়মন্ড হারবার এবং কাঁথির তাপমাত্রাও থাকত দশের ওপরে।

সুতরাং এই মরশুমে আর একটু কড়া শীত না পড়লে কলকাতার তাপমাত্রা দশের নীচে যাওয়ার আশা থেকে বঞ্চিতই থাকতে হবে শহরবাসীকে।

দক্ষিণবঙ্গে জারি শৈত্যপ্রবাহ, উত্তরে কিছুটা স্বস্তি

কলকাতা শৈত্যপ্রবাহ থেকে বঞ্চিত থাকলেও, বাকি রাজ্য কিন্তু এখনও প্রবল শীতের কবলে। তবে উত্তরবঙ্গের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বস্তি পেয়েছেন সাধারণ মানুষ। বুধবার জলপাইগুড়িতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শিলিগুড়িতে ৭ এবং কোচবিহারে ৬.৭ ডিগ্রি রেকর্ড করা হয় তাপমাত্রা। মালদায় তাপমাত্রা ছিল সাড়ে আট ডিগ্রি।

দক্ষিণবঙ্গে এ দিন শীতলতম জায়গা ছিল শ্রীনিকেতন। সেখানে তাপমাত্রা ছিল ৬.৬ ডিগ্রি। বাকি সব অঞ্চলেই তাপমাত্রা ঘোরাফেরা করেছে ৭ থেকে ৯ ডিগ্রির আশেপাশে। আপাতত যা পরিস্থিতি তাতে আগামী অন্তত তিন দিন তাপমাত্রার বৃদ্ধি পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। বরং বৃহস্পতিবার নাগাদ আরও কিছুটা নামতে পারে পারদ।

 

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here