মৃত্যুর ১৪ বছর আগে থেকেই রক্তচাপ কমতে থাকে, বলছে গবেষণা

0
637

লন্ডন : সাবধান! বয়স্ক মানুষদের রক্তচাপ কমতে শুরু করলে বোঝা যাবে মৃত্যু খুব দূরে নেই।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কানেক্টিকাট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা সমীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন, বয়স্ক মানুষদের রক্তচাপ মৃত্যুর ১৪ বছর আগে থেকে কমতে থাকে। আমেরিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন ইন্টারনাল মেডিসিন পত্রিকায় প্রকাশিত একটা গবেষণাপত্র থেকে এমনটাই জানা যাচ্ছে। তাঁরা বলছেন, বয়স্ক মানুষদের রক্তচাপ কম থাকলে সে বিষয়ে খুব বেশি সচেতন হওয়া দরকার। ঠিক কীসের যোগ রয়েছে এর সঙ্গে তা অনুসন্ধান করাটাও জরুরি।

ফার্মিংটনের ইউকন হেলথ ও যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ এক্সিটার মেডিক্যাল স্কুলের গবেষকরা ৪৬ হাজার ৬৩৪ জন মৃত ব্রিটিশ নাগরিকের মেডিক্যাল রেকর্ড বিশ্লেষণ করে দেখেছেন। এই রেকর্ড সংরক্ষিত ছিল বৈদ্যুতিন মাধ্যমে। এই মৃত ব্যক্তিদের সকলের বয়সই ৬০ বছর বা তার বেশি। এই তালিকায় রয়েছেন সম্পূর্ণ সুস্থ মানুষ। আবার রয়েছেন গুরুতর হৃদরোগে আক্রান্ত মানুষ, স্মৃতিভ্রষ্ট হওয়া মানুষও, বয়সকালে ওজন কমে যাওয়া মানুষ এবং গোড়ার উচ্চ রক্তচাপ থাকা মানুষ।

উচ্চ রক্তচাপ বা অন্যান্য অসুখের মতোই দীর্ঘ দিন ধরে চলা কম রক্তচাপও একটা অসুখ। তার জন্য চিকিৎসা না হওয়ার ফলেও আয়ু কমতে পারে। অর্থাৎ মৃত্যু হতে পারে। তবে মনে রাখবেন তার মানে এই নয় উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা রক্তচাপ কমানোর ওষুধ খাবেন না বা হাইপারটেনশনের চিকিৎসা করাবেন না। সবই করতে হবে। তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী।

করোনারি আর্টারি ডিজিজের আশঙ্কা আছে কিনা জানা যাবে রক্তপরীক্ষায় : গবেষণা

একটা রক্ত পরীক্ষা করেই জানা যাবে রোগীর হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা? অর্থাৎ করোনারি আর্টারি ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কতটা।

এই পরীক্ষার মাধ্যমে নারী-পুরুষ, বয়স, জিনগত পার্থক্য নির্বিশেষে সকলেরই হৃদয়ের অবস্থা জানা যাবে। জানা যাবে হৃদয়ে রক্ত চলাচলের পথে কোনো বাধা সৃষ্টি হচ্ছে কিনা? অর্থাৎ হার্টে কোনো ব্লকেজ আছে কিনা। আর হলে তা কতটা জটিল আকার নিয়েছে। আর এটা জানা সম্ভব হাসপাতালে ভর্তি না থেকেই আউটডোর চেক আপের মাধ্যমেই।

একটা গবেষণায় ১৭৬ জন ৬৫ বা তার বেশি বয়সের প্রায় সুস্থ বহির্বিভাগীয় রোগীর ওপর এই পরীক্ষা করা হয়। তাতে কারোর মধ্যে সামান্য সমস্যা ধরা পড়েছে। কারোর মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি দেখা গেছে। সেই অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট রোগীকে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এই পরীক্ষায় কম সমস্যা-যুক্ত রোগীদের পরবর্তী ধাপে পরীক্ষা ও চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আর যাঁদের মধ্যে সমস্যা জটিল তাঁদের কার্ডিওভাসকুলার টেস্ট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী এক বছর তাঁদের পর্যবেক্ষণেও রাখা হয়েছে।

গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে আমেরিকান জেরিয়াট্রিক্স সোসাইটি স্টাডি পত্রিকায়।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here