এক নজরে সিওপিডি

0
114

ডাঃ অরুণাংশু ভট্টাচার্য (বক্ষরোগ বিশেষজ্ঞ)

সিওপিডি বা ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ – ফুসফুসের একটা অসুখ যাতে নিঃশ্বাস নিতে অসুবিধা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। সিওপিডি-র ফলে কাশি হয়, সেই সঙ্গে কফ, নিঃশ্বাসে সাঁ সাঁ শব্দ, দম ফুরিয়ে যাওয়া, বুক হালকা লাগা ইত্যাদি উপসর্গ থাকে। সিওপিডি-কে বুঝতে হলে আমাদের জানতে হবে – ফুসফুস কিভাবে কাজ করে। প্রশ্বাস নিলে বাতাস আমাদের শ্বাসনালি দিয়ে ছোট ছোট নলি ব্রঙ্কিওল্স-এ যায়। এই নালিগুলির শেষে আবার নানা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র থলি অ্যালভিউলাই (alveoli)। এই থলিগুলি থেকেই আমাদের রক্ত প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সংগ্রহ করে। সিওপিডি-র ফলে এই থলিগুলিতে কম বাতাস যায়। কেন কম বাতাস যায়, তার নানা কারণ থাকতে পারে –

  • এই থলিগুলি বা বাতাস যাবার নলিগুলির স্থিতিস্থাপকতা কমে যাওয়া
  • থলিগুলির কিছু কিছু দেয়াল নষ্ট হয়ে যাওয়া
  • নলিগুলির দেয়াল মোটা হয়ে যাওয়ায় বাতাস যাবার পথ ছোট হয়ে যাওয়া
  • নলিগুলিতে কফ জমে বাতাস যাবার পথ রুদ্ধ হওয়া।

সাধারণভাবে সিওপিডি বলতে দুটো জিনিস বোঝায় – (১) ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস, (২) এমফিসেমা। ব্রঙ্কাইটিস

এমফিসেমা অসুখ হয়, যখন বাতাসের থলিগুলির বেশ কিছু দেয়াল নষ্ট হয়ে যায়। যেহেতু এই দেয়ালের মাধ্যমেই আমাদের রক্ত প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পায়, নষ্ট দেয়ালের জন্যে আমাদের শরীর যথেষ্ট পরিমাণ অক্সিজেন পায় না।

সিওপিডি-র ফলে বহুলোকই কর্মক্ষমতা হারায়। বহুলোক এতে মারাও যায়। আমাদের দেশে, যেখানে বায়ু-দূষণ বেশি এবং সিগারেট খাওয়া এখনো একটা বড় নেশা – সেখানে সিওপিডি-তে যে বহু লোকে ভুগছে – সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।

সিওপিডি শুরু হয় ধীরে ধীরে। কিন্তু বাড়তে বাড়তে এমন অবস্থায় পৌঁছয় যে, হাঁটাচলা করাও কঠিন হয়ে ওঠে। এটা মধ্য বয়সে বা বৃদ্ধ অবস্থায় ধরা পড়ে। এর কোনো ওষুধ নেই। ফুসফুসের ক্ষতি একবার হয়ে গেলে সেটাকে সারানো সম্ভব নয়। চিকিৎসার দ্বারা উপসর্গকে কিছুটা প্রশমিত রাখা যায় এবং অসুখের গতিটাকে একটু হ্রাস করা যায়।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here