ডাক্তারের চেম্বার থেকে: চোখের চিকিৎসা

0
539

ডাঃ সুগত পাল (চক্ষু বিশেষজ্ঞ)
চোখের নানান সমস্যার কথা আমরা এর আগেও আলোচনা করেছি। আজকের আলোচনার বিষয় আমাদের সচেতনতা। আমরা নিজেদের সচেতন বলে দাবি করি, তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় কতটা ? এখনও প্রত্যন্ত গ্রামের দিকে বাবলা কাঁটা দিয়ে ছানি অপারেশন করা হয়। তার ফল কী হতে পারে সহজে অনুমেয়। আজ কয়েকটা রোগের চিকিৎসা নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করব।
ছানি পড়া
অত্যন্ত সাধারণ রোগ। বার্ধক্যজনিত কারণে মানুষের চোখের লেন্স স্বচ্ছতা হারিয়ে ফেলে, এই অবস্থাকে ছানি পড়া বলে। বার্ধক্য ছাড়াও আঘাত, প্রদাহ, ডায়াবেটিস অথবা জন্মগত কারনে অল্প বয়সেও ছানি পড়তে পারে। 
প্রতিকার
অপারেশন’ই ছানির একমাত্র চিকিৎসা। ওষুধ বা অন্য কিছুর দ্বারা ছানি প্রতিরোধ বা প্রতিকার সম্ভব নয়। অপারেশনের মাধ্যমে নষ্ট হয়ে যাওয়া প্রাকৃতিক লেন্স সরিয়ে ফেলে সেখানে একটি কৃত্রিম লেন্স সংযোজন করে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব। 
ফেকো সার্জারি

phaco-surgery
ছানি অপারেশনের সর্বাধুনিক এই পদ্ধতিতে আলট্রাসাউন্ড ওয়েভের মাধ্যমে প্রাকৃতিক লেন্সকে গলিয়ে বের করে আনা হয় এবং কৃত্রিম লেন্স প্রতিস্থাপন করা হয়। 
এই অপারেশন সেলাইবিহীন, সম্পূর্ণ ব্যথামুক্ত ও নিরাপদ। 

অপারেশনের সময় রোগী জ্ঞানে থাকেন এবং অপারেশনের পর দীর্ঘ সময় হাসপাতালে থাকার প্রয়োজন হয় না। 

বিজ্ঞাপন

ফেকো সার্জারি করতে চাইলে ছানি পাকা হওয়ার জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই বরং ছানি বেশি পাকার আগেই অপারেশন করা ভালো। 
ছানির সুচিকিৎসা না হলে অতিরিক্ত পাকা ছানি পরবর্তীতে গ্লুকোমা রোগের জন্ম দিতে পারে। গ্লুকোমা হলে দৃষ্টি শক্তির স্থায়ী ক্ষতি হয়। তখন অপারেশন করলে আশানুরূপ ফল নাও পাওয়া যেতে পারে। 

গ্লুকোমা
গ্লুকোমা রোগ চোখের এক নীরব ঘাতক। এই রোগে সাধারণত চোখের প্রেশার বৃদ্ধি পায় ফলে চোখের স্নায়ু শুকিয়ে যায়।  গ্লুকোমা রোগে চোখের দৃষ্টি শক্তির স্থায়ী ক্ষতি হয় যা কোনো ভাবেই ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তবে মনে রাখতে হবে গ্লুকোমা রোগ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ রোগের মতই অনিরাময়যোগ্য কিন্তু নিয়ন্ত্রণযোগ্য রোগ। 

প্রতিকার
রোগের অবস্থা অনুযায়ী ওষুধ প্রয়োগ অথবা গ্লুকোমা অপারেশন করতে হয়। প্রয়োজনে অপারেশন ও ওষুধ দুটোই চলতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে লেজার-এর দ্বারা চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে । 

চোখের প্রদাহ   

বিভিন্ন কারণে হঠাৎ করে চোখ লাল হওয়া, চোখ বা চোখের পাতা ফুলে যাওয়া, ব্যথা হওয়া, খচ খচ করা, জল পড়া প্রভৃতি হতে পারে। এসব ব্যাপারে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চক্ষু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে।

ট্যারা চোখ

cross-eyed-eyes
বিভিন্ন কারণে চোখ ট্যারাজাতীয় হতে পারে। যে কোন বয়সেই হোক ট্যারা বুঝতে পারার সাথে সাথেই চিকিৎসা শুরু করা উচিত। শিশুদের চোখ ট্যারা অবস্থায় দীর্ঘদিন থাকলে ট্যারা চোখের দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে কমে যায়। চশমা ব্যবহার করে অথবা প্রয়োজনে অপারেশন করে ট্যারা ঠিক করা যায়। তবে তা করতে হবে শিশু বয়সেই।

মাংস বৃদ্ধি

pterygium
এই রোগে চোখের উপর একটি পর্দা তৈরি হয়। সাধারণত চোখ লাল দেখায়। এই পর্দা চোখের সাদা অংশের উপর দিয়ে বাড়তে বাড়তে এক সময় কর্নিয়ার উপর চলে আসে এবং কর্নিয়ার স্বচ্ছতা নষ্ট করে দেয়। একেই টেরিজিয়াম বলে। টেরিজিয়াম ক্রমে বাড়তে থাকলে হলে তা অপারেশন করে ফেলা উচিত। 

ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা : 
ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের চোখের ভিতরে যে কোনো সময় রক্তক্ষরণ অথবা রক্তনালী বন্ধ হয়ে যেতে পারে, ফলে রোগীরা অন্ধ হয়ে যেতে পারে। এইজন্য নিয়মিত ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ পরীক্ষা করে নিয়ন্ত্রণে রাখা যেমন জরুরি তেমনি এসব রোগীদের অন্তত ৬ মাস অন্তর চোখের পরীক্ষা করানো উচিত। শুধু তাই নয় কোনও রোগ থাকুক বা না থাকুক শিশুদের স্কুলে যাওয়ার বয়স থেকে শুরু করে এবং বড়দের চল্লিশের পা দেওয়ার পর থেকে বছরে অন্তত একবার পরীক্ষা করানো উচিত। 

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here