আইস প্যাক নাকি গরম সেঁক; কোন ব্যথায় কিসে আরাম জেনে নিন

0
1155

ওয়েবডেস্ক: ‘এ ব্যথা কী যে ব্যথা, বোঝে কি আনজনে’

না, ব্যথা যাকে গ্রাস করেনি, সে ছাড়া আর কেউ বোঝে না তো। হাঁটুতে, দাঁতে, পিঠে, কোমরে, গাঁটে নানা জায়গায় নানা ব্যথা। এ ওকে পাল্লা দিচ্ছে। আর যার শরীরে বাসা বাঁধছে, তাঁর তো হয়ে গেল। জীবনভর ব্যথায় ব্যথায় ক্ষয়ে যাবেন একটু একটু করে, একঘেয়ে বেঁচে থাকার মাঝে যেসব ছোটো ছোটো সুন্দর মুহূর্তগুলোর জন্য মুখিয়ে থাকা, সেগুলোও ততটা উপভোগ করতে পারবেন না। তার ওপর শীত কাল, ব্যথার বোধটাও অনেক বেশি। কী ভাবে একটু আরাম পাবেন? আইস ব্যাগে কিছুটা কমছে ব্যথা? নাকি গরম শেক দিলে খানিক আরাম পাচ্ছেন? ঠিক ঠাক জানেন তো, কোন ব্যথার জন্য কোনটা উপযোগী?

আইস প্যাক, কিংবা হিট প্যাক কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি চিকিৎসা পদ্ধতি। শরীরে কাজ করার বিজ্ঞান দুটিও সম্পূর্ণ ভিন্ন। বরফ কাজে দেয় মূলত শরীরে কোনো ক্ষত থাকলে। ফোলা কমাতে, টিসুর ভেতরকার রক্তপাত বন্ধ করতে বরফ খুবই উপকারী। তাছাড়া হঠাৎ পেশীতে টান লাগলে সেই ব্যথা কমাতেও আইস প্যাক প্রয়োজন। হিট ট্রিটমেন্টের প্রয়োজন দীর্ঘ দিন ধরে চলা কোনো ব্যথার নিরাময়ে। এটি ব্যথার জায়গায় রক্ত চলাচলে সাহায্য করে।

৬টি খুব পরিচিত ব্যথা কমাতে কোনটি জরুরি, জেনে নিন

ব্যাক পেইন

অনেক দিন ধরে কোমরের ব্যথায় ভুগছেন। এই অবস্থায় মনে হতেই পারে গরম জলে স্নান করলে আরাম পেতে পারেন। কিন্তু এটি কিন্তু ওই অঞ্চলের ফোলা বাড়িয়ে দেবে। তার চেয়ে ব্যথার জায়গায় টানা দু/তিন দিন আইস প্যাক ব্যবহার করুন, ব্যথা কমবে। তবে অনেক দিন ধরে চলা ব্যাক পেইনের ক্ষেত্রে হিটিং প্যাড ব্যবহার করলে উপকার দেবে।

মাসিকের ব্যথা বা মেন্সট্রুয়াল ক্র্যাম্প

মাঝারি থেকে ভয়াবহ, দুরকমই হতে পারে ব্যথা। তলপেটের যন্ত্রণায় ব্যথা কমানোর ওষুধ না খাওয়াই ভাল। হিটিং প্যাড ব্যবহার করতে পারেন অথবা গরম জলে স্নান করতে পারেন।

গাঁটের ব্যথা

ওয়ার্ক আউট করার আগে হাঁটু কিংবা কনুই-এ হিট প্যাক ব্যবহার করুন। ওয়ার্ক আউটের পরে যদি এসব জায়গায় যন্ত্রণা হয়, অবশ্যই আইস প্যাক ব্যবহার করুন কিন্তু ২০ মিনিটের বেশি কখনই নয়। মাথায় রাখবেন, ওয়ার্ক আউটের পর হিটিং প্যাড ব্যবহার একেবারেই করা যাবে না। তখন শরীরের ওই সমস্ত অংশ এমনিতেই গরম থাকে।

গোড়ালি মচকে যাওয়া

ট্রামে বাসে চলতে গিয়ে, হোঁচট খেয়ে কিংবা খেলতে গিয়ে গোড়ালি মচকে যাওয়ার ঘটনা আকছার ঘটে। বাড়ি এসে গরম জলে পা ডুবিয়ে বসে থাকি আমরা। এই পদ্ধতি কিন্তু একদম ভুল। গোড়ালি মচকে গেলে বরফ লাগানো উচিত। ফোলা এবং ব্যথা কমাতে সাহায্য করে আইস প্যাক।

বাতের ব্যথা

বাতের ব্যথায় দু-ই কার্যকর। হিট ট্রিটমেন্ট পেশীকে আলগা হতে সাহায্য করে, ব্যথার অঞ্চলে রক্ত চলাচল বাড়ায়। আইস প্যাক ব্যথা এবং ফোলা কমায়। শুরুতে আপনি দু ধরণের ট্রিট্মেন্ট একসঙ্গে করতে পারেন। তারপর নিজেই বুঝতে পারবেন, কোনটা কতোটা দিলে আপনার আরাম হচ্ছে।

লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়া

গরম শেক একদম দেবেন না। আইস প্যাক ব্যবহার করুন। ২/৩ ঘণ্টা অন্তর টানা ১৫ মিনিট আইস প্যাক নিন। ৩৬ ঘণ্টা নিয়ম মেনে এটাই করুন। বরফ ওই অঞ্চলের রক্ত চলাচলকে নিয়ন্ত্রণে রাখবে, স্বাভাবিক ভাবেই ব্যথা এবং ফোলা কমবে।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here