ডাক্তারের চেম্বার থেকে: উচ্চ রক্তচাপে ভয় পাবেন না, অবহেলা করবেন না

0
1367

ডাঃ অরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়

অফিসের স্যালারি প্রতি মাসেই পিছিয়ে যাচ্ছে। ফ্ল্যাটের ইএমআই ফেল হচ্ছে বারবার। মাঝে মাঝেই মাথা ঝিমঝিম। হঠাৎ হঠাৎ রেগে যাওয়া, শেষে  একদিন অফিসেই মাথা ঘুরিয়ে পড়ে গেলেন বোস বাবু। ডাক্তার খানায় নিয়ে যাওয়ার সময়টুকুও দিলেন না। আপনিও সাবধান, হাই ব্লাড প্রেসার কিন্তু যে কোনও বয়সেই হতে পারে। আর হাই ব্লাড প্রেসার থেকে হতে পারে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক। যদি কোনো ব্যক্তির রক্তচাপ ১৪০/৯০ কিংবা তার উপরে থাকে তাহলে তার ‘উচ্চ রক্তচাপ’ রয়েছে বলা যেতে পারে। যেই সব কারণ হাই ব্লাড প্রেসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে সেগুলো হল, নুন  বেশি খাওযা,  অতিরিক্ত চর্বি যুক্ত খাবার,  কাজের টেনশন,  মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপান, অতিরিক্ত আওয়াজ। যদিও উচ্চ রক্তচাপ আলাদাভাবে কোনো অসুস্থতা নয়, কিন্তু বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতি রোগের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দেয়। বিশেষত স্ট্রোক, হার্ট ফেইলিওর,  চোখের ক্ষতি এবং কিডনি ফেলিওর ইত্যাদি রোগের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।  সাধারণত, এক সপ্তাহে কমপক্ষে তিনবার মাপলেই আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনি উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত কিনা? সঠিক চাপ মাপার জন্য কয়েকটি নিয়ম মানা জরুরি। যেমন, রক্তচাপ মাপার কমপক্ষে আধ ঘন্টা আগে থেকে ধূমপান করবেন না এবং কফি জাতীয় পানীয় খাওয়ার কমপক্ষে একঘন্টা পর মাপতে হবে।  দুশ্চিন্তামুক্ত অবস্থায় মাপা জরুরি। কমপক্ষে পাঁচ মিনিট সময় সুস্থির ভাবে বসে তবেই প্রেসার মাপবেন।

অনেক সময় আপনি বুঝতেই পারবেন না যে, আপনি উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। অনেক ক্ষেত্রেই স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আগে পর্যন্ত রোগ ধরা পড়ে না। তবে কয়েকটি উপসর্গের দিকে লক্ষ রাখুন।

  • মাথাব্যথা। বিশেষ করে মাথার পিছনে ব্যথা অনুভূত হবে।
  • সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর ব্যথা শুরু হয়। দু-চার ঘণ্টা পর কমে।
  • এছাড়াও আরও কয়েকটি উপসর্গ হচ্ছে, মাথাঘোরা।বুক ধড়ফড় করা। মনোযোগের অভাব। ক্লান্তি। হাঁপিয়ে ওঠা। মাংসপেশীর দুর্বলতা। পা ফোলা। বুকব্যথা। নাক দিয়ে রক্ত পড়া।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু অভ্যাস পালটে ফেলুন আজই।

  • ওজন ঠিক রাখুন, বাড়তে দেবেন না কিছুতেই।
  • হালকা ব্যায়াম করা হোক চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী।
  • খাবারের সাথে কাঁচা লবণ খাওয়া বন্ধ করতে হবে।
  • যেসব খাবারে ওজন এবং কোলেস্টেরল বাড়ে যেমন মিষ্টি আলু, ঘি, মাখন, ডালডা, ডিমের কুসুম, ভাজাভুজি ও তৈলাক্ত খাবার নৈব নৈব চ। খাবার রুটিনের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের সাহায্য নিন।
  • উচ্চমাত্রার শব্দ বা আলো এড়িয়ে চললে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে থাকবে।
  • নিজের রাগ নিজের কাছে রাখুন। অহেতুক রাগারাগি বা চেঁচামিচি করবেন না।
  • অহেতুক ব্যথা কমার ওষুধ, গর্ভনিরোধক বড়ি খাবেন না। এই সব ওষুধ খাওয়ার আগে চিকিৎসকের সাহায্য নিন।
  • গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ মা-সন্তান দুজনের জন্যই বিপজ্জনক। উচ্চ রক্তচাপ থাকলে সন্তান জন্মানোর পরও ফলোআপ চালিয়ে যেতে হবে।
  • তামাকের নেশা একেবারে ছেড়ে দিন।
  • মাসে অন্তত দুই বার রক্তচাপ মাপুন।প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ শুরু করুন।
  • সবথেকে বড় কথা আপনার জীবন যাপন উচ্চরক্তচাপের ক্ষেত্রে ওষুধের থেকে বেশি কাজ করবে।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here