স্তন্যপান করানোরও নিয়মকানুন হয়, তা জেনে রাখাই ভালো

0
1909
breastfeeding mom

ওয়েব ডেস্ক: মা ও সন্তানের মধ্যে এক ঈশ্বরপ্রদত্ত বন্ধন। মাতৃস্তন্য পান করে সদ্যোজাত শিশুর যাবতীয় বিকাশ। এ ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই যে এই একটি বিষয়ে পৃথিবীর সমস্ত সন্তানই তার মায়ের কাছে চির-আবদ্ধ, চির‌ঋণী। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সাধারণত গোপনীয়তায় মুড়ে রাখা হয়ে এসেছে এতদিন ধরে। কিন্তু বর্তমানে হাজারো সমস্যার সম্মুখীন হয়ে এ ব্যাপারে চিকিৎসকের বিশেষ পরামর্শের প্রয়োজনীয়তাও দেখা যায় কারো কারো ক্ষেত্রে। স্বাভাবিক ভাবে মৌনতা অবলম্বন না করে নব্য মায়েদের কাছে এ বিষয়ে যথাযথ পদ্ধতিগুলি তুলে ধরার চেষ্টা চালাচ্ছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা।

শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর তাকে নিয়ম করে স্তন্য পান করানো আবশ্যক বিষয়। এক্ষেত্রে যে সব মায়ের পক্ষে তা সম্ভব হয় না, তাঁদের ক্ষেত্রে সুপরামর্শ নেওয়া দরকার। কৃত্রিম উপায়েও স্তন্যপান করানো যায়, সে দিকটিতে নজর দিতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জন্মের পর থেকে শিশুর ছ’মাস বয়স পর্যন্ত নিয়মিত তাকে স্তন্যপান করানো উচিত। এটি মা-সন্তানের, উভয়ের জন্যই নির্ভাবনার। অর্থাৎ যতদিন পর্যন্ত না শিশু বাইরের তরল বা আধা-কঠিন খাবার খেতে শিখছে তত দিন তার ভরসা মাতৃস্তন্য। ছ’মাস পর তার স্তন্যপানের মেয়াদ ধীরে ধীরে কমাতে হবে। তবে তা একেবারে বন্ধ করা মোটেই সুখকর নয়। শিশুর বয়স দু’বছর না হওয়া পর্যন্ত তাকে এই অমৃতবারি পান করানো একান্ত জরুরি। যদিও কোনো কোনো মা শিশুর দু’বছর বয়স হওয়ার আগেই স্তন্যপান বন্ধ করে দেন বা বন্ধ করতে বাধ্য হন। এ ব্যাপারে রয়েছে মায়ের বিশেষ ওষুধ সেবন বা অন্য কোনো ব্যক্তিগত অসুবিধা।

শিশুর যে স্তন্যপানের আর দরকার নেই তা বুঝবেন কীভাবে?

যখন দেখা যাবে বছর গড়ানোর পর শিশু আধা-কঠিন খাবারে সাচ্ছ্ন্দ্য বোধ করছে তখন বুঝতে হবে, তার মাতৃ স্তন্যের উপর নির্ভরশীলতা কমেছে। এবার সে আধা-কঠিন খাবার থেকে কঠিন খাবারে উন্নীত হওয়ার চেষ্টা চালাবে। এ রকম পরিস্থিতিতে  স্তন্যপান থেকে তাকে পুরোপুরি বঞ্চিত না করে পান করানোর সময় ও সংখ্যা কমাতে হবে। এভাবে কয়েক মাস পর্যবেক্ষণে রেখে অসুবিধা হচ্ছে কি না জেনে নিতে হবে। এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

breastfeding2

এটি একটি স্বাভাবিক পদ্ধতি। যা সচরাচর দেখা যায়। কিন্তু কারো কারো ক্ষেত্রে অসুস্থতার কারণে এই স্বাভাবিক পদ্ধতিতে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। মায়ের শরীর খারাপের ফলে তাঁকে প্রয়োজনীয় ওষুধ নিতে হয়। সেক্ষেত্রে স্তন্যপান করানো এড়িয়ে চলাই ভালো। তবে কোন ওষুধের ক্ষেত্রে তা বন্ধ করা হবে, সে বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, স্তন্যপান করাতে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। স্তনবৃন্তে ব্যাথা অনুভব করা বা স্তনে অ্যালার্জি-জনিত লক্ষণ প্রকাশ পেলে স্তন্যপান করানো সম্ভব হয় না। আবার কর্মরতা মায়েদের ক্ষেত্রে তো সন্তানের খিদে পাওয়ার সময়ের দিকটি বজায় রেখে চলা সম্ভব হয় না।

সন্তানকে পর্যাপ্ত পরিমাণ স্তন্যদান করতে হলে মায়ের করণীয় কী?

ভিটামিন বি-৬ সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। মূলত মাছ, মাংস, ডিম, বাদাম বা অন্যান্য সবজি বেশি করে খেতে হবে। ভিটামিন বি-৬-এর কয়েকটি ওষুধ পাওয়া যায়, চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনে তাও নিতে হতে পারে।

তবে আর যাই হোক, এ ব্যাপারে প্রাকৃতিক নিয়ম-কানুনগুলিকেই প্রাধান্য দিতে হবে সর্বাগ্রে। মা এবং শিশুর শারীরিক অবস্থা, চাহিদা এবং জোগানের উপর আস্থা রাখাটাই প্রকৃতির মোক্ষম নিয়ম। আর তাতে বিঘ্ন ঘটলে চিকিৎসক তো আছেনই।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here