ডাক্তারের চেম্বার থেকে: বসন্তে সাবধান

0
240

ডাঃ অরুণ ঘোষ (জেনারেল মেডিসিন)

বসন্ত এসে গেছে। এই বসন্তের জলহাওয়াই আমাদের শরীরের জন্য কাল হবে যদি আমরা একটু সচেতন না হই। সিজন চেঞ্জের সাথে সাথে হাম, চিকেন পক্সের মতো ভাইরাস বাহিত অসুখ দেখা যায়, এইসব রোগ এড়াতে প্রয়োজন সচেতনতা। আমরা এখন যেটাকে পক্স বলে থাকি, এটিকে অনেক বছর আগে গুটিবসন্ত বলা হতো। সাধারণত টিকা দেওয়া হয়নি এরকম বাচ্চাদের এই রোগ হয়। এই রোগে সারা শরীরে ছোট ছোট জল যুক্ত লালচে গোটা উঠে। এর সঙ্গে জ্বর, মাথা ব্যথা, দুর্বলতা ও গোটা শরীরে ব্যথা হয়। তবে চুলকানিই মূলত অস্বস্তির কারণ হয়ে দাড়ায়। চুলকাতে গিয়ে গোটা ফেটে গিয়ে এর অভ্যন্তরীণ তরল চারিদিকে ছড়িয়ে পরে সংক্রমণ বাড়ায়।

সাবধানে থাকলে এই রোগ, কোনও চিকিৎসা ছাড়াই নিরাময় হয়।

যেসব খাবার এড়িয়ে যাবেন

  • স্যাচুরেটেড ফ্যাট যুক্ত খাবার যেমন চর্বি যুক্ত মাংস ও ফুল-ফ্যাট দুধ।
  • লেবু খাবেন না যদি মুখের ভিতর গোটা থাকে। লবনাক্ত ও ঝাল খাবারও বাদ দেবেন।
  • আরজিনিন যুক্ত খাবার যেমন চকোলেট, বাদাম এবং বীজ জাতীয় যে কোন খাবার।

যা খাবেন

  • সাধারণ ভাত, মাছ, মাংস খেতে পারবেন।
  • দিনে কমপক্ষে ৮ গ্লাস জল।
  • লাইসিন নামক একটি এমাইনো এসিড, আরজিনিন এর প্রভাব কাটাতে সাহায্য করে। লাইসিন পাবেন ডাল-এ।

pox

মাথায় রাখবেন

  • আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে একই বাথটাব/সুইমিংপুল এ স্নান করবেন না ।
  • পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এই রোগীকে।
  • স্নান শেষে বেশি চেপে মুছতে যাবেন না। বাতাসে শুকিয়ে নিন।
  • চুলকালে নখ লাগাবেন না।

প্রতিরোধ

  • শিশুদের প্রথম ডোজটি ১২-১৮ মাসের মধ্যে দিন।
  • দ্বিতীয় ডোজটি ৪-৬ বছরে দিতে হয়।
  • কারও যদি টিকা দেওয়া না থাকে এবং চিকেন পক্স হয়। লক্ষণ প্রকাশের ৩ দিনের মধ্যে টিকা দিয়ে দিতে পারেন, রোগের প্রকোপ কমে যাবে।
  • কারো একবার চিকেন পক্স হয়ে গেলে আর টিকার প্রয়োজন নেই। কারণ শরীরে তখন এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে অনেক এন্টিবডি তৈরি হয়ে যায় যা ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য শরীরে জমা থাকে।
বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here