জানুন সর্দিজ্বরে কী করবেন, কিন্তু অ্যান্টিবায়োটিক নৈব নৈব চ

0
166

সর্দি ও জ্বর হলে কী করা উচিত বা অনুচিত এ বিষয়ে আমরা অনেকেই বিশেষ কিছু জানি না। মোটামুটি সব রকম পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ফেলি নিজেদের ওপর।

তাই জানা দরকার কোন ক্ষেত্রে কী করলে তা ক্ষতিকর হবে না

খাদ্যাভ্যাস 

অনেক সময়ই জ্বর হলে খাবার ইচ্ছা এক দম চলে যায়। মুখ তেঁতো লাগে। ফলে কিছু মুখে রোচে না। কিন্তু সেই সময় দুর্বলতা কাটানোর জন্যই যথেষ্ট খাবার খাওয়া উচিত। তবে হ্যাঁ, খাবার খেতে হবে মানে এই নয় যে জোর করে গিলে ফেলতে হবে। তাতে ক্ষতির সম্ভবনা থাকে।

বিশ্রাম

জ্বরে শরীর দুর্বল করে। সেই সময় জোর করে বেশি পরিশ্রম করা উচিত নয়। ওই সময় শরীরের একটু বিশ্রামের প্রয়োজন থাকে। তাই জন্য উচিত শুয়ে বিশ্রাম করা। তবে তার পরিমাণ নির্ভর করছে দুর্বল বা ক্লান্তিভাব কতটা তার ওপর।

মধু বা পাতিলেবু খুবই উপকারী 

ঠান্ডা লাগা বা জ্বরের সময়ে তাড়ি বা মদের থেকে অনেক বেশি উপকারি মধু বা লেবুর রস। যা চায়ের সঙ্গে পান করা যায়। তাতে শরীর বেশ সতেজ লাগে। একাধিক বারও এই মধু বা লেবু-চা খাওয়া যেতে পারে। চিকিৎসকরা বলেন, এই সময় একটু বেশি জল খাওয়া দরকার। কারণ সর্দি-হাঁচি, ঘামের মাধ্যমে অনেক জল শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। তবে কোনো কিছুই তো বেশি ভালো না, তাই অতিরিক্ত তরলও গ্রহণ করা উচিত নয়। কারণ তার পরিণতি অনেক সময় মৃত্যুও ডেকে আনতে পারে।

প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেন

এই দু’টি ওষুধই এই সময় দারুণ কাজ দেয়। দু’টিকে এক সঙ্গে খাওয়া যায়। আবার কিছু সময় অন্তরও প্যারাসিটামল ও আইবুপ্রোফেন খাওয়া যায় বা যে কোনো একটিও খাওয়া যায়। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে। তবে মনে রাখতে হবে, আইবুপ্রোফেন খালি পেটে না খেয়ে ভর্তি পেটে খেতে হয়।

ইউক্যালিপটাস বা কর্পূরের তেল

এগুলি যে নাক বন্ধের সময় বা সর্দিজ্বরের সময় অনবদ্য, তা বলা যায় না। কারণ এগুলি সাময়িক ভাবে স্বস্তি দেয়। পাকাপাকি নয়। তবে খুব কষ্ট হলে বুকে মালিশ করা যায় বা গরম জলে ফেলে মাথা মুড়ি দিয়ে শ্বাস নেওয়া যেতে পারে। তাতে বন্ধ নাক ছেড়ে যায়। তবে খেয়াল রাখতে হবে, মালিশ করা বা শ্বাস নেওয়ার সময় ও তার পর প্রায় ঘণ্টা খানেক যেন কোনো ভাবেই ঠান্ডা না লাগে।

ভিটামিন সি

ঠান্ডা লাগা বা জ্বর-সর্দির সময় ভিটামিন-সি বেশি করে খাওয়া উচিত। এর মধ্যে কমলালেবু খুবই উপাদেয়। কারণ এটির শ্বাস-প্রশ্বাসের সংক্রমণ দূর করার ক্ষমতা খুব বেশি। তবে এই নিয়ে মতবিরোধ আছে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। তাই খুব বেশি খাওয়ার দরকার নেই।

অ্যান্টিবায়োটিক

অনেকেই কিছু হলেই মুঠোমুঠো অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে ফেলেন। কিন্তু জানেনই না কেন খেতে হয় এটি। মূলত ব্যাকটেরিয়া ঘটিত কোনো সংক্রমণ হলে তবেই অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া উচিত। নচেৎ নয়। বিশেষত, সর্দি-জ্বর আর ঠান্ডা লাগাতে তো এক্কেবারেই নয়। কারণ এগুলি সাধারণত হয় ভাইরাস থেকে ব্যাকটেরিয়া থেকে নয়।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here