শিশু পাচারকাণ্ড : মানস ভৌমিককে ১০ দিনের সিআইডি হেফাজত

0
98

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : শুক্রবার মানস ভৌমিককে ১০ দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে নিল সিআইডি। তাঁকে শিলিগুড়ির পিনটেল ভিলেজে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানেই রাখা হয়েছে শিশুপাচার কাণ্ডে মুল অভিযুক্ত চন্দনা চক্রবর্তী ও তার সহযোগী সোনালি মণ্ডলকে। দিদির মুখোমুখি বসিয়ে এক সঙ্গে দু’জনকে জেরা করবেন কলকাতা থেকে আসা সিআইডির আধিকারিকরা।

গত শনিবার জলপাইগুড়ি শহরের ৪নং ঘুমটির বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল চন্দনা চক্রবর্তীকে। তাঁর বিরুদ্ধে  দত্তক দেওয়ার নামে মোটা টাকার বিনিময়ে ১৭টি শিশুকে পাচার করার অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনায় সিআইডির নজর ছিল মানসের ওপরও। বাজেয়াপ্ত করা নথিপত্র থেকে দেখা গেছে, শিশু দত্তক দেওয়ার ক্ষেত্রে দম্পতিদের ‘হোম স্টাডি’ রিপোর্ট তৈরি করার দায়িত্ব ছিল তাঁর ওপর। অথাৎ কোনো দম্পতি দত্তক নেওয়ার উপযুক্ত কি না তা নির্ভর করত মানসের দেওয়া রিপোর্টের ওপর। মোটা টাকার বিনিময়ে মানসের ইচ্ছে মতো রিপোর্টে ‘অদলবদল’ হত বলে সন্দেহ গোয়েন্দাদের। চন্দনার স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা নর্থবেঙ্গল পিপলস ডেভেলপমেন্ট সেন্টার ও ‘বিমলা শিশুগৃহের’ নথিতেও মানসের নাম পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। দিদির গ্রেফতারির পর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছিলেন ভাইও। কিন্তু অবৈধ লেনদেনের নথিভর্তি একটি ব্যাগ বাড়ি থেকে নিয়ে যেতে পারেননি। বৃহস্পতিবার সেই ব্যাগটি সরিয়ে নিয়ে যেতেই গোপনে বাড়ি আসেন তিনি। তাঁর মোবাইল ফোন ট্র‍্যাকিং করে এবং সোর্স মারফত সেই  খবর পায় সিআইডি। বিকেলে হানা দিয়ে বাড়িতেই তাঁকে আটক করা হয়। দীর্ঘক্ষণ জেরার পর রাতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয় সেই বিশেষ ‘ব্যাগ’ সমেত। তাঁর কাছ থেকে এই পাচারচক্রের আরও সূত্র মিলতে পারে বলে দাবি তদন্তকারীদের। সেই জন্যই শুক্রবার আদালতে তুলে ১৪ দিনের জন্য তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায় সিআইডি। বিচারক সব শোনার পর ১০ দিনের হেফাজত মঞ্জুর করেছেন বলে জানিয়েছেন আদালতের সরকারি আইনজীবী সিন্ধু কুমার রায়। রায়ের পরই তাঁকে শিলিগুড়ির পিনটেল ভিলেজে নিয়ে যায় সিআইডি। আগামী কয়েক দিন দিদি ও ভাইকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হলে আরও নতুন তথ্য মিলবে বলে ধারণা তদন্তকারীদের। তবে আদালতে পেশের আগে নিজেকে নির্দোষ এবং ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি করেন মানস। যদিও তাঁকে কেন ফাঁসানো হবে সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি তিনি।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here