গন্ডার চোরাশিকারিদের ধরতে দঃ আফ্রিকা থেকে বিশেষ প্রযুক্তি আসছে

0
310

নিজস্ব সংবাদদাতা, গুয়াহাটি : মাত্র ২০ মিলিগ্রামের একটি খড়গই ধরে ফেলতে পারবে চোরাশিকারিদের। এমনই এক বিশেষ প্রযুক্তি তৈরি করা হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকায়। ‘দ্য রাইনো ডিএনএ ইনডেক্স সিস্টেম’-এর মাধ্যমে গন্ডার হত্যার পাশাপাশি এর সঙ্গে জড়িত দুর্বত্তদের সহজেই আটক করা যাবে বলে দাবি করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, এই সিস্টেমে গঠিত প্রযুক্তির মাধ্যমে ধৃতদের অপরাধ সম্পর্কে আদালতেও প্রমাণ দাখিল করা যাবে। খুব শীঘ্রই এই প্রযুক্তি ভারতের অন্যান্য জাতীয় উদ্যানের পাশাপাশি অসমের গন্ডার সুরক্ষায়ও ব্যবহৃত হবে বলে জানা গেছে।

r1

প্রসঙ্গত, ২০১১ থেকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত রাজ্যে চোরাশিকারির হাতে ১৪৭টি এক শৃঙ্গ গন্ডার বধ হয়েছে। এর মধ্যে সব চেয়ে বেশি কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানে ১০৩, মানস জাতীয় উদ্যানে ১০, পবিতরায় ৮, ওরাং জাতীয় উদ্যানে ৯ এবং শোণিতপুর ফরেস্ট ডিভিশন-সহ রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তে ১৭টি গন্ডার হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০১১ থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত ৫১৬ জন চোরশিকারিকে আটক করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে, এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ফলে বাঁচানো যাবে দেশের এই প্রাণী সম্প্রদায়কে। পাশাপাশি বাঁচবে অসম ও উত্তর বঙ্গের পর্যটন শিল্পও। কারণ এই সব এলাকার পর্যটনের অনেকটাই নির্ভর করে ভারতের এক শৃঙ্গ গণ্ডারের ওপর।  

r2

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় দীর্ঘ গবেষণার পর এই সাফল্য লাভ করেছেন তাঁরা। ওয়াইল্ড লাইফ ইনস্টিটিউশন অব ইন্ডিয়ার সহযোগিতায় দক্ষিণ আফ্রিকার গবেষকরা এই প্রযুক্তির চূড়ান্ত স্তরে পৌঁছে গেছেন।

এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, ‘দ্য রাইনো ডিএনএ ইনডেক্স সিস্টেম’-এর ধারণার জন্ম হয়েছিল সর্বপ্রথম ইউনিভার্সিটি অব প্রিটোরিয়ায়, ২০১০ সালে। সেই তখন থেকে বিজ্ঞানী তথা গবেষকরা দু’শোর বেশি ফরেন্সিক রিপোর্ট তৈরি করে ছয়টি গন্ডার হত্যা মামলার চোরাশিকারিদের অপরাধ বলে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। এর মধ্যে অন্যতম ছিল ভিয়েতনামের জোয়ান হোয়াং নামের দুর্ধর্ষ চোরাশিকারিও। এর আগে পর্যন্ত গোটা বিশ্বে গন্ডার হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দোষী বলে সাব্যস্ত করাটা এক দুঃসাধ্য বিষয় ছিল। কেননা, গন্ডার শিকার বা তাদের খড়গ কেটে নেওয়ার ঘটনাবলির কোনও প্রত্যক্ষদর্শী না থাকার ফলেই এরা আদালত থেকে ছাড়া পেয়ে যেত।

r3

কিন্তু এই ‘দ্য রাইনো ডিএনএ ইনডেক্স সিস্টেম’ অপরাধীর জেনেটিক আঙুলের ছাপ নির্ণয় করতে পারে। ফলে গন্ডার হত্যা ও তার খড়গ কর্তনকারীর সম্পর্কে সুনিশ্চিত তথ্য দিতে পারে এই ‘রাইনো ডিএনএ ইনডেক্স সিস্টেম’। এর জন্য প্রতিটি গন্ডারের একটি করে ডেটাবেস তৈরি করা হয়। সেই ডেটাবেসে গন্ডারের প্রজাতি, লিঙ্গ ইত্যাদিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তার পর নমুনার তিনটি পৃথক কিট তৈরি করা হয়। এই তিনটি কিটের মধ্যে রয়েছে ফরেন্সিক কিট, হর্ন কিট ও সাধারণ কিট। এই ফরেন্সিক কিটে থাকে উদ্ধারকৃত গন্ডারের ডিএনএ-র নমুনা, হর্ন কিট – যা তৈরি করা হয় গন্ডারের খড়গ থেকে সংগৃহীত ডিএনএ-র নমুনা দিয়ে এবং সাধারণ কিট – যাতে থাকে জীবন্ত গন্ডারের ডিএনএ-র নমুনা। এ ছাড়া কিটগুলিতে রক্ত, খড়গ এবং কানের কোষের নমুনাও বাধ্যতামূলক ভাবে সংযোজন করা হয়। এই সব নমুনা আলাদা আলাদা ফরেন্সিক এভিডেন্স ব্যাগে পুরে গবেষণাগারে রাখা হয়। পরে যখন চোরাশিকারিদের ধরা হয়, তখন তার জেনেটিক আঙুলের ছাপের সঙ্গে গন্ডারের ফরেন্সিক তথ্যাবলি মিলিয়ে তার অপরাধ প্রমাণ করা হয়।

t5

ইতিমধ্যে গন্ডার বধ ও তাদের খড়গ ব্যবসা প্রতিরোধে ‘রাইনো ডিএনএ ইনডেক্স সিস্টেম’ গ্রহণ করেছে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, নামিবিয়া, নেদারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া-সহ বেশ কয়েকটি দেশ। এ বার এই তালিকায় ভারতের নাম তুলতে চেষ্টা চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। সূত্রের খবর কিছু দিনের মধ্যেই অসম ও পশ্চিমবঙ্গে ‘রাইনো ডিএনএ ইনডেক্স সিস্টেম’-এ চালু করার পথে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশমন্ত্রক।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here