শতবর্ষ অনুষ্ঠানে ১০০০ টাকা চাঁদা না দিলে ভর্তি নয়, হুমকির অভিযোগ স্কুলের বিরুদ্ধে

0
390
aggrieved chandana devi

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: শহরের নামী বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন হচ্ছে। তাকে উপলক্ষ করে হচ্ছে বিভিন্ন অনুষ্ঠান। তার জন্য অভিভাবকদদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে চাঁদা। দুঃস্থ এক অভিভাবক চাহিদামতো ১০০০ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় তাঁর ছেলেকে ভর্তি নেওয়া হবে না বলে হুমকির অভিযোগ সেই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। চাপে পড়ে ভর্তি নিয়েছে স্কুল। জলপাইগুড়ির ফণীন্দ্রদেব ইনস্টিটিউটের ঘটনা।

স্বামী থেকেও নেই। বাসাবাড়িতে কাজ করে দুই সন্তানকে লেখাপড়া শেখাচ্ছেন জলপাইগুড়ির নেতাজিপাড়ার বাসিন্দা চন্দনা রায়। মেয়ে কলেজপড়ুয়া। ছেলে ফণীন্দ্রদেব ইনস্টিটিউটের ছাত্র। পঞ্চম শ্রেণি থেকে যষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হবে। পড়াশোনার মান ভালো হওয়ায় সুনাম রয়েছে এই বিদ্যালয়ের। ছেলেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করার জন্য চন্দনা দেবী বিদ্যালয়ে এসে জানতে পারেন ভর্তির জন্য ৭১০ টাকা দিতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানের জন্য দিতে হবে ১০০০ টাকা। আতান্তরে পড়ে যান চন্দনা দেবী। বাড়ি বাড়ি কাজ করে সামান্য আয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি দুই সন্তানকে পড়াশানোর খরচ চালিয়ে সঞ্চয় হয় না প্রায় কিছুই। সেখানে এত টাকা দেওয়ার সাধ্য কোথায় তাঁর? তাঁর অপারগতার কথা জানান স্কুল কর্তৃপক্ষকে। তাঁর অনুনয়ে নিমরাজি হন স্কুল কর্তৃপক্ষ। তবে ৫০০ টাকা দিতেই হবে অনুষ্ঠানের চাঁদা হিসেবে। আর ভর্তির ৭১০ টাকা। উপায় না থাকায় তাতেই রাজি হন চন্দনা দেবী।

receipt of rs. 500
৫০০ টাকার রশিদ।

মঙ্গলবার বিদ্যালয়ে এসে চন্দনা দেবী জানতে পারেন আগে চাঁদার টাকা জমা দিয়ে তবেই ভর্তি করানো হবে। সেইমতো ৫০০ টাকা চাঁদাও দিয়ে দেন। তার রসিদও দেওয়া হয় তাঁকে। এর পর তিনি ছেলের ভর্তির জন্য যান। সেখানেই বাধে বিপত্তি। বিদ্যালয়ের দু’জন শিক্ষক তাঁকে জানিয়ে দেন, ৫০০ নয়, ১০০০ টাকাই দিতে হবে। হতবাক চন্দনা দেবী জানান, ৫০০ টাকা অনেক কষ্ট করে জোগাড় করে এনেছেন, এর বেশি সম্ভব নয়। অভিযোগ, তখন এক শিক্ষক তাঁর প্রতি তির্যক মন্তব্য করেন। কেঁদে ফেলেন চন্দনা দেবী। বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালান। এত টাকা কী ভাবে দেবেন তিনি? কিন্তু তাঁর চোখের জলে মন ভেজেনি স্কুল কর্তৃপক্ষের।

দু-তিন জন শিক্ষক তাঁকে অপমানও করেন বলে অভিযোগ। প্রধান শিক্ষকের কাছে গেলে তিনিও কোনো রকম সাহায্য করেননি বলে অভিযোগ। উপায়ন্তর না দেখে চন্দনা দেবী যান কোতোয়ালি থানায়। তাদের পরামর্শেই জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের অফিসে গিয়ে লিখিত অভিযোগ জানান। পরিদর্শক স্বপন সাহা বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেন। তাঁর নির্দেশেই এর পরে চাপে পড়ে চন্দনাদেবীর ছেলেকে ভর্তি নেয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ভর্তির সময় নেওয়া হয় ২৪০। এতেও ওঠে প্রশ্ন। প্রথমে চাঁদার ১০০০ টাকার পাশাপাশি ভর্তির জন্য চাওয়া হয়েছিল ৭১০ টাকা। সেটাই হঠাৎ ২৪০ টাকা হল কেন? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানিয়েছেন, সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী ২৪০ টাকাই ভর্তি ফি। তার বাইরে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন, কম্পিউটার ফি-সহ একাধিক খাতে টাকা নেওয়া হয়। যদিও তা আবশ্যিক নয়।

যদিও স্কুলের প্রধান শিক্ষক অভিজিৎ গুহ জানিয়েছেন, কোনো অভিভাবককেই চাঁদার জন্য চাপ দেওয়া হয়নি। বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানের জন্য চাঁদার অংক অভিভাবকরা নিজেরাই মিটিং করে ঠিক করেছেন। যাঁদের আর্থিক সমস্যা রয়েছে তাঁদের সাধ্যমতো দেওয়া চাঁদাই নিয়েছে বিদ্যালয়। তা হলে চন্দনা দেবীর মতো একজন দরিদ্র অভিভাবক এই অভিযোগ তুললেন কেন? তার উত্তরে প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, প্রথম থেকেই ওই অভিভাবক রূঢ ব্যবহার করছেন শিক্ষকদের সঙ্গে। পরিকল্পিত ভাবেই ওই অভিভাবক এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন।

কিন্তু কেন একজন দরিদ্র মা এ রকম করবেন? তার কোনো সদুত্তর কিন্তু মেলেনি প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here