ঘুম ভাঙছে আগ্নেয়গিরির, বিজ্ঞানীদের নজরে আন্দামানের ব্যারেন দ্বীপ

0
159

পানাজি: দেড়শ বছর পর ঘুম ভেঙেছিল ১৯৯১ সালে। তারপর আবার বহুদিন কোনও সাড়া শব্দ করেনি ভারতের একমাত্র আগ্নেয়গিরি। ব্যারেন আইল্যান্ড। লোকজনের বসবাস নেই, এমন কী সবুজের ছোঁয়াও নেই তেমন। সেই থেকেই নাম হয়েছে ‘ব্যারেন’। আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের রাজধানী পোর্ট ব্লেয়ারের ১৪০ কিলোমিটার উত্তরপূর্বে এই ব্যারেন দ্বীপ। ভূবিজ্ঞানীরা বলছেন, সম্প্রতি আবার জেগে উঠেছে এই আগ্নেয়গিরি। ব্যারেন আইল্যান্ডের মাথা থেকে ধোঁয়া বেরোচ্ছে মাঝে মধ্যেই। এমন কী আগ্নেয়গিরি থেকে বার কয়েক লাভাও বেরোতে দেখা গেছে বলে দাবি করেছেন গোয়ার ‘ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ওসানোগ্রাফি'(এনআইও)-র গবেষকরা।  

বিজ্ঞানী অভয় মুধোলকারের নেতৃত্বে এনআইও-র একদল গবেষক আন্দামানে গিয়েছিলেন তাঁদের গবেষণার কাজে। চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি প্রথম তাঁদেরই নজরে আসে ব্যারেন আইল্যান্ডের এই ঘটনা। আগ্নেওগিরির মাথা থেকে ধোঁয়া আর ছাই বেরোতে দেখেন তাঁরা। এমন বিরল ঘটনা প্রত্যক্ষ করার জন্য আগ্নেয়গিরির প্রায় ১ মাইলের মধ্যে পৌঁছে যান ওই গবেষক দল। এনআইও-র তরফ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এক এক বারে টানা পাঁচ থেকে দশ মিনিট সময় ধরে অগ্ন্যুৎপাত হচ্ছিল ব্যারেন দ্বীপে।

barren-island

সূর্যের আলো থাকা পর্যন্ত শুধুই ধোঁয়া আর ছাই বেরোতে দেখা গেলেও সূর্যাস্তের পর বেরিয়ে আসতে থাকে লাভা। পাহাড়ের ঢাল বেয়ে গরম লাভা নেমে আসে ঝর্ণার মতো। ২৬ জানুয়ারি  এনআইও থেকে বিজ্ঞানী নগেন্দর নাথের তত্ত্বাবধানে আবারও একদল গবেষককে পাঠানো হল ব্যারেন আইল্যান্ডে। এবারেও একই ঘটনা। টানা চার ঘণ্টা অগ্ন্যুৎপাতের সাক্ষী থাকল তরুণ গবেষকের দল। তবে বিপদের আশঙ্কা থাকায় এবারে নৌকো দাঁড় করানো গেল না আইল্যান্ডে। 

আন্দামানে ব্যারেনের কাছাকাছি রয়েছে এরকম আরও বেশ কিছু আগ্নেয়গিরি, তবে তারা সবাই-ই এখন জলের তলায়, জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষণার জন্য ওই অঞ্চল থেকে তাঁরা সংগ্রহ করেছেন কয়লার মতো দেখতে পাইরোক্লাস্টিক উপাদানের স্যাম্পেল। 

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here