গাছদের ‘ভাইফোঁটা’ দিয়ে সবুজ প্রাণের বার্তা দিলেন জলপাইগুড়ি হাসপাতালের নার্স-বোনেরা

0
2561
bhaifota to the trees

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: “ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা, / যমদুয়ারে পড়ল কাঁটা, / যমুনা দেয় যমকে ফোঁটা, / আমি দিই আমার গাছ-ভাইকে ফোঁটা।”

বোনেদের মুখে এই মন্ত্র উচ্চারিত হল, ভাইরা শুনল। মানুষের মতো তাদের মুখে ভাষা না থাকায় এক ঝলক ঠান্ডা বাতাস বইয়ে বুঝিয়ে দিল, তারা খুব খুশি। এই না-মানুষ ভাইরা কেউ মেহগনি, কেউ আমলকি বা বয়ড়া। জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতাল চত্বর, নার্সিং হোস্টেলে থাকা বিশাল মহিরুহ বা সদ্য লাগানো ছোটো চারাগাছগুলি ভালোবাসার ছোঁয়া পেয়ে যেন আরও সবুজ হয়ে উঠল।  জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালের নার্সিং হোস্টেলের বোনেরা হাসপাতাল চত্বরে থাকা গাছেদের ‘ভাইফোঁটা’ দিয়ে সবুজ প্রাণের বার্তা দিল।

শহরের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘সমাজ ও নদী বাঁচাও কমিটি’ ভ্রাতৃদ্বিতীয়া উপলক্ষে শনিবার সকালে এই ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। সংগঠনের সম্পাদক সঞ্জীব চ্যাটার্জি স্বাস্থ্য দফতরের প্রাক্তন কর্মী। তাঁর কথায়, সভ্যতার অগ্রগতির ফলে যে ভাবে সবুজ ধ্বংস হচ্ছে এবং যে ভাবে তার প্রভাব মানুষের ওপর পড়ছে, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে আগামী দিনের পরিণতি। যে ভাবে গাছ কাটা হচ্ছে, সেই তুলনায় নতুন করে গাছ লাগানোর প্রবণতা কম। সচেতনতার অভাবে তার কুফল ভোগ করতে হচ্ছে মানুষকেই। তাই নতুন করে গাছ লাগিয়ে, গাছ বাঁচিয়ে সবুজ প্রাণের বার্তা দিতেই এই ভাবনা, জানালেন সঞ্জীববাবু। তাঁর কাছে মনের মতো প্রস্তাবটা পেয়ে সাড়া দিতে দেরি করেননি জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ জগন্নাথ সরকার এবং হাসপাতাল সুপার গয়ারাম নস্কর। কাজপাগল এই মানুষ দু’টি এই উদ্যোগকে বাস্তবায়িত করতে সব রকম সাহায্য করেছেন।

আজ শনিবার তাঁদের উদ্যোগেই জলপাইগুড়ি নার্সিং ইনস্টিটিউট এবং জেলা হাসপাতালের প্রশিক্ষণরত এবং কর্মরত ‘সিস্টার’রা গাছ-ভাইদের ফোঁটা দেন। মনীষীদের নামে এই গাছগুলির নামকরণও করা হয়। যেমন সদ্য রোপণ করা পেয়ারা গাছটির নাম সিস্টার নিবেদিতা,  তো বিশাল মেহগনি গাছটির নাম রাখা হয়েছে ডাঃ জগদীশ চন্দ্র বোসের নামে।

celebration with the treesনতুন করে বেশ কিছু চারাগাছ লাগানো হয় আজ। বোনেদের ফোঁটা পেয়েছে সদ্য প্রাণ পাওয়া এই গাছভাইরাও। ফোঁটা দিয়ে উচ্ছ্বসিত বোনেরা জানিয়েছে, গাছ-ফোঁটার মাধ্যমে সবুজ-প্রাণের বার্তা দিতে পেরে খুব খুশি তাঁরা ।স্বাগতা দাস নামে এক নার্স-ইন্টার্ন জানিয়েছেন, জন্মের পর একটি শিশুর প্রথম প্রয়োজন অক্সিজেন যা দিতে পারে একমাত্র গাছ। গাছ-ফোঁটা দিয়ে সবুজ-প্রাণকে আপন করে নেওয়ার বার্তা ছড়িয়ে দিতে পেরে ভালো লাগছে, জানালেন সিস্টার মন্দিরা চ্যাটার্জি। শুধু স্বাস্থ্যকর্মীরাই নন, ব্যাতিক্রমী এই অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন সমাজের নানা স্তরের মানুষ। তাঁরাও এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জগন্নাথ সরকারের কথায়, “স্বাস্থ্য ও গাছ প্রায় সমার্থক। মানুষকে ভালো থাকতে গেলে সবুজ বাঁচাতে হবেই। আজ ভ্রাতৃদ্বিতীয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সেই বার্তাই ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা হল।”

তবে আজকের গাছ-ফোঁটা অনুষ্ঠান উপলক্ষ্য মাত্র। কোনো বিশেষ দিন নয়, বেঁচে থাকার দিনগুলি সবটাই সবুজময় হয়ে উঠুক এই বার্তাই ছিল আজকের মূল লক্ষ্য।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here