রেডস্টারের আরেক নেতা প্রদীপ সিংহ ঠাকুর ধৃত, ফের অবরোধ

0
116

ভাঙড়: বুধবার রাতে সিপিআই (এমএল) রেডস্টার নেত্রী শর্মিষ্ঠা চৌধুরীকে সিআইডি গ্রেফতার করার পরে পরেই গ্রেফতার করা হয়েছে রেডস্টারের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ সিংহ ঠাকুরকেও। এ দিন রাতে প্রদীপবাবুকে গড়িয়া স্টেশন থেকে সিআইডি গ্রেফতার করে। জানা গিয়েছে, শর্মিষ্ঠার বিরুদ্ধে পুলিশ ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ৩২৫, ৩২৬, ৩৩৩, ৩৫৩, ১৮৬, ৫০৬, ৩৭৯, ৪২৭ ধারা-সহ একগুচ্ছ মামলা রুজু করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে অনিচ্ছাকৃত খুন. নিরীহ গ্রামবাসীদের প্ররোচিত করার অভিযোগ-সহ একগুচ্ছ মামলা। শর্মিষ্ঠা চৌধুরী ও প্রদীপ সিংহ ঠাকুরকে ৮ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে বারুইপুর মহকুমা আদালত। ওদের দুজনের সঙ্গেই গ্রেফতার করা হয়েছে জমি-জীবিকা, বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষা কমিটি-র এক সদস্যকে। তাঁরও ৮ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

এ দিকে পাওয়ার গ্রিডের বিরুদ্ধে পরিবেশরক্ষায় আন্দোলনরত দুই শীর্ষস্থানীয় নেতা-নেত্রীর গ্রেফতারের  খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভাঙড়ের বিস্তীর্ণ এলাকার গ্রামবাসীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তৃণমূল নেতা সচ্যসাচী দত্ত ও আরাবুল ইসলামের বাহিনী অনির্দিষ্টকালের জন্যে অবরুদ্ধ হাড়োয়া রোড থেকে ব্যারিকেড সরিয়ে দেওয়ার পরে বুধবারই ভাঙড়ের জনজীবন কিছু স্বাভাবিক হতে শুরু করেছিল। পুলিশ ও র‍্যাফ গ্রামে গ্রামে মাইকে ভাঙড়বাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্যে আবেদন জানিয়েছিল। ফলে ভাঙড়ের গ্রামগুলির বাসিন্দারা মনে করছিলেন, প্রশাসন এ বার তাঁদের দাবিদাওয়ার প্রতি সদর্থক মনোভাব নিতে পারে। কিন্তু রেডস্টারের দুই নেতানেত্রী গ্রেফতারের ঘটনার পরে প্রশাসন সম্পর্কে ভাঙড়ের আন্দোলনরত গ্রামবাসীরা হতাশ।

রেডস্টার নেত্রী শর্মিষ্ঠার গ্রেফতারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই বুধবার গভীর রাত থেকেই ফের হাড়োয়া রোড অবরোধ করে জনতা। রাতেই বাগডোবা, শ্যামনগর এলাকায় গাছের গুঁড়ি ফেলে ফের হাডোয়া রোড অবরোধ করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালেও চলছে অবরোধ। জমি-জীবিকা, বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, আপাতত পিছু হঠার কোনো প্রশ্নই নেই। প্ৰশাসন পাওয়ার গ্রিড প্রকল্প বাতিল না করলে এবং ধৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি না দিলে অনির্দিষ্ট কালের জন্যে হাড়োয়া রোড অবরোধ করে রাখা হবে।

বিজ্ঞাপন

এ দিন সিপিআই (এমএল) রেডস্টারের পক্ষে শংকর দাস বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যেই ভাঙড়ের নিরীহ গ্রামবাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। তাই এবার লড়াই আরও তীব্র করা হবে। আন্দোলন কোন পথে পরিচালিত হবে, তা স্থির করা হবে স্থানীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী। পাশাপাশি, প্রদীপ-শর্মিষ্ঠার গ্রেফতারের বিরুদ্ধে কলকাতাতেও বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।

এ দিকে ভাঙড়ে আন্দোলনরত জমি-জীবিকা, বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির ভিতর আন্দোলনের রূপরেখা নিয়ে ইতিমধ্যে নানা মতামত উঠতে শুরু করেছে বলে সূত্র্রের খবর। দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতা গ্রেফতার হওয়ার পরে আন্দোলন কোন পথে পরিচালিত করা হবে, তা নিয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট ভাবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে কমিটির তরফে জানানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, খামারআইটে পাওয়ার গ্রিডের সামনের এলাকায় স্থানীয় গ্রামবাসীরা দিনভর হাড়োয়া রোড অবরুদ্ধ করার পর থেকে প্রশাসনের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি হিসাবে যাবতীয় আলাপ-আলোচনা চালাচ্ছিলেন প্রদীপবাবু, শর্মিষ্ঠা চৌধুরীরাই। এই দুই নেতানেত্রীকে সিআইডি গ্রেফতার করার পরে স্বভাবতই ভাঙড়ের পরিবেশ আন্দোলন কিছুটা দিশাহীন হল।

গ্রামবাসীরা বৃহস্পতিবার সকাল হতে না হতেই  স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নেমে পড়েছেন। অন্ততপক্ষে ১০ থেকে ১৫ হাজার গ্রামবাসী হাড়োয়া রোড অবরোধ করে রেখেছেন। পুলিশ কিংবা র‍্যাফ-এর দেখা মিলছে না। এখন জোর করে পুলিশ ঢুকতে গেলে ফের পরিস্থিতি অশান্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ভাঙড় আন্দোলনের রাশ স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে। রেডস্টারের পক্ষ থেকে যদিও দাবি করা হয়েছে, শহরাঞ্চলের নেতৃত্ব গ্রামবাসীদের সঙ্গে রয়েছেন। তাঁরাই পরবর্তী পদক্ষেপগুলি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতা প্রদীপ-শর্মিষ্ঠার গ্রেফতারের পরে গ্রামবাসীরাও দাবি করছেন, এখন আন্দোলনের রাশ কমিটির হাতে। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। এই স্বতঃস্ফূর্ততাকে সরকার তথা প্রশাসন কী ভাবে এখন মোকাবিলা করেন, সেটাই দেখার। 

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here