ধন্বন্তরী কালীপুজো উপলক্ষে মজিলপুর জমজমাট

0
875
dhannwantari kali, majilpur
papiya mitra
পাপিয়া মিত্র

জমে উঠেছে মন্দিরপ্রাঙ্গণ। সবে মাত্র গতকাল গিয়েছে কার্তিক অমাবস্যা, কালীপুজোর রাত। বহু মানুষ এসেছেন দূরদূরান্ত থেকে। রয়েছেন এখানকার যাত্রীনিবাসে। জাঁকজমক করে পালিত হচ্ছে উৎসব। নানা পসরা নিয়ে বসেছেন বহু দোকানদার। সকল বর্ণ-ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের সমাগমে ধন্বন্তরী কালীপ্রাঙ্গণ এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

আদিগঙ্গার মজা গর্ভের উপর দিয়ে বারইপুর-লক্ষ্মীকান্তপুর রেললাইন ও বারুইপুর-বিষ্ণুপুর রাস্তা। সেই রাস্তার পুবে মজিলপুর আর পশ্চিমে জয়নগর গ্রাম। গঙ্গার মজা অংশের অনেক জায়গা পরে জলপূর্ণ হয়ে ‘গঙ্গা’ নাম নিয়েছে। মজিলপুরের তেমনই এক পদ্মফোটা জলাশয়কে বলা হয় পদ্মগঙ্গা। তার দক্ষিণ তীরভূমি এক সময় ছিল শ্মশান। সে সময় দিনে দিনে তীরে গড়ে উঠেছিল তন্ত্রসাধনার অনেক কেন্দ্র।

কালের বিবর্তনে এক দিন আদিগঙ্গার ধারা শুকিয়ে যায়। মজা গঙ্গাগর্ভে সৃষ্টি হয় বহু গ্রাম-জনপদ। মজিলপুর তেমনই এক গ্রাম। সতেরো শতকে যশোহর থেকে ভৈরবানন্দ স্বামী নামে এক তন্ত্রসাধক ডায়মন্ড হারবার মহকুমার মগরাহাট থানার নাজারা গ্রামে বসবাস শুরু করেন। তন্ত্রসাধনার জন্য বেছে নিলেন মজিলপুরের পদ্মগঙ্গার শ্মশানভূমিকে। সাধনায় সিদ্ধিলাভ করে দেবীর স্বপ্নাদেশ পেলেন স্বামী ভৈরবানন্দ। খোঁজ পেলেন পদ্মগঙ্গার নৈঋত কোণে একটি পাষাণমূর্তির। কষ্টিপাথরের ওপরে খোদিত এক হাত উচ্চতা ও আধ হাত প্রস্থবিশিষ্ট কালিকামূর্তি। ঐতিহাসিক ও পণ্ডিতদের ধারণা, ওই মূর্তি নাকি দ্বাদশ শতাব্দের প্রত্ন নিদর্শন। সেই থেকেই শ্মশানতীরের এক পর্ণকুটিরে দেবীর পুজো হত। সময়ের স্রোতে ওই দেবী পরিণত হন ধন্বন্তরি কালীতে।

দেবীর পাষাণমূর্তি উৎসবকালে স্পষ্ট বোঝা যেত না বলে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত দারুমূর্তি। দেবীর আবির্ভাবতিথি, ফলহারিণী, তালনবমী, দীপান্বিতা ও রটন্তী কালীপুজোয় বিশেষ পুজো হয়। প্রতি বছর বৈশাখ মাসের শুক্লা প্রতিপদ তিথি থেকে এক পক্ষকাল ধরে দেবী-অঙ্গের পরিবর্তন করা হয়। ভুবনেশ্বরী, নরসিংহী, সংকটাকালী, মাতৃসাধনা, গণেশজননী, মা জগদীশ্বরী, বিপত্তারিণী, কৃষ্ণকালী, জগদ্ধাত্রী, জাহ্নবী, অন্নপূর্ণা, ইন্দ্রাণী, কালীয়দমন, দক্ষিণাকালী ও ষোড়শী মূর্তিতে রূপের পরিবর্তন প্রথা ১২৭৪ বঙ্গাব্দ থেকে হয়ে আসছে।

মানুষের মনে প্রশ্ন, এই কালী ধন্বন্তরি কেন? বহড়ু-মজিলপুর অঞ্চলে একটা সময়ে অনেক লতাপাতা উদ্ভিদের ভেষজগুণে মানুষের রোগমূর্তি ঘটত। পুরাণে বর্ণিত দেবতাদের চিকিৎসক ছিলেন ধন্বন্তরি। কথিত, মজিলপুরের দেবী কালিকার প্রসাদে এবং সেই সঙ্গে এখানকার কিছু ভেষজ লতাপাতার গুণে অত্যাশ্চর্য রোগমূর্তি ঘটেছে। ফলে সেই থেকে এই কালী ‘ধন্বন্তরি’তে পরিণত হয়েছেন।

ছবি – সুমন সাহা

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here