পদত্যাগে বাধ্য হলেন ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন

0
106

ওয়াশিংটন: মাসখানেকও কাটেনি ট্রাম্প প্রশাসনের। একটার পর একটা ঝটকায় বিপাকে তারা। এ বার পদত্যাগে বাধ্য হলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন।

কয়েক সপ্তাহ ধরেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে তাঁর। তাঁকে সরানোর জন্য চাপ বাড়ছিল ট্রাম্পের উপর। শেষ পর্যন্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে তাঁর কী কথা হয়েছিল, তা ফাঁস হয়ে যায়। এর পর জানা যায়, গত মাসেই তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল স্যালি ইয়েটস হোয়াইট হাউজকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন মাইকেল ফ্লিনকে সহজেই ব্ল্যাকমেল করা যায়। ট্রাম্পের অভিবাসন সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা ‘আইনসম্মত নয়’ বলে মার্কিন বিচার দফতরকে পরামর্শ দেওয়ার দায়ে এই ইয়েটসকে অবশ্য হোয়াইট হাউজ পরে সরিয়ে দেয়। কিন্তু এ বার সরে যেতে হল ফ্লিনকে। আপাতত নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব সামলাবেন অবসরপ্রাপ্ত লেফটন্যান্ট জেনারেল জোসেফ কিথ কেলেগ।

রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত সের্গেই কিসলিয়েভ ও ফ্লিনের মধ্যে যে কথোপকথন হয়, তার নথি থেকে জানা গিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শপথ নেওয়ার আগেই দু’ জনের মধ্যে রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কথা হয়। মাইকেল ফ্লিন রাশিয়ার দুতকে আশ্বাস দেন, আগের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জারি করা রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা এ বার তুলে নেওয়া হবে। তখন কিন্তু ফ্লিন ভাবী প্রেসিডেন্টের ট্রানজিশন টিমের মধ্যে রয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হননি। এ খবর জানাজানি হতেই প্রশ্ন ওঠে, কোন ক্ষমতায় ফ্লিন রাশিয়াকে এই আশ্বাস দিতে পারেন?  তখন ফ্লিনের হয়ে ব্যাট ধরেন, ভাবী ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। তিনি জানান, রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কিসলিয়েভের সঙ্গে ফ্লিনের কথা হয়নি।

সব ব্যাপারটা সামনে আসতেই ফ্লিনের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বহু ডেমোক্র্যাট সদস্য। তাঁরা তাঁর পদত্যাগ দাবি করতে থাকেন। অবশেষে ইস্তফা দিলেন ফ্লিন।

ফ্লিন তাঁর পদত্যাগপত্রে কবুল করেছেন, তিনি ভাবী ভাইস প্রেসিডেন্টকে বিপথে চালিত করেছেন। তিনি বলেছেন, “আমি অনিচ্ছাকৃত ভাবে ভাবী ভাইস প্রেসিডেন্টকে ভুল তথ্য দিয়েছিলাম।… আমি আন্তরিক ভাবে প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমা চেয়েছি।”

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here