এটাই কি ভগিনী নিবেদিতার বাড়ি? অধিগ্রহণের পরেও উঠছে প্রশ্ন

0
284
nivedita1
শৈবাল বিশ্বাস

নিবেদিতার সার্ধ শতবর্ষ উপলক্ষে সারদা মিশন, রামকৃষ্ণ মিশন ও পশ্চিমবঙ্গ সরকার বেশ কয়েকটি কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এর মধ্য‌ে প্রধান দু’টি কার্যক্রম হল বাগবাজারে ভগিনী নিবেদিতার বাড়িটি অধিগ্রহণ করা এবং লন্ডনে নিবেদিতা যে বাড়িতে থাকতেন সেখানে একটি স্মৃতিফলকের উন্মোচন। দু’টি কাজই ভালো ভাবে সাঙ্গ হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে নিবেদিতার যে বাড়িটি অধিগ্রহণ করা হল সেটি কি সত্য‌িই নিবেদিতার বাড়ি? অধিগ্রহণ করার আগে বিতর্ক দানা বেঁধেছিল বাড়িটির ঠিকানা নিয়ে। কিন্তু অধিগ্রহণের পর যখন সেটিকে সংগ্রহশালা হিসাবে জনসাধারণের সামনে তুলে ধরার প্রশ্ন এল, তখন দেখা গেল নিবেদিতার বাড়ির বর্ণনার সঙ্গে অধিগ্রহণ করা বাড়ির বর্ণনা মিলছে না।

সারদা মিশন, রামকৃষ্ণ মিশন এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকার বরাবরই বলে এসেছে, ভগিনী নিবেদিতা থাকতেন বাগবাজারের ১৬ নম্বর বোসপাড়া লেনে।  ১৮৯৮ সালে কলকাতায় এসে ভগিনী নিবেদিতা আসলে উঠেছিলেন বোসপাড়া লেনে মা সারদার বাড়িতে।কিন্তু অচিরেই বিবেকানন্দ বুঝতে পারলেন, ভগিনী এখনও হিন্দু আচার রপ্ত করে উঠতে পারেননি। অসুবিধা হচ্ছে ভেবে তাঁকে ১৬ নম্বর বোসপাড়া লেন বাড়িটি ভাড়া করে দেওয়া হল। এই বাড়িতেই তিনি স্কুল খুললেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে আদৌ কি তিনি ১৬ নম্বর বোসপাড়া লেনে স্কুল খুলেছিলেন? প্রত্য‌ক্ষদর্শী উজেলা রেঁম তাঁর বিবরণে বারবার বলেছেন, ভগিনী আসলে থাকতেন ১৬ এ, বোসপাড়া লেনে, যেটি সেন্ট্রাল অ্য‌াভেনিউ তৈরি হওয়ার সময় ভেঙে ফেলা হয়। সেই বাড়ির বর্ণনা দিতে গিয়ে রেঁম লিখেছেন, সেটি ছিল একটি ‘হাট’ বা খোলার চালের বাড়ি। বাড়ির একেবারে দরজা থেকে সিঁড়ি উঠে গিয়েছিল। ভিতরে ছিল প্রশস্ত দালান। সেই দালান দেখে রেঁম খুশি হয়েছিলেন। নিবেদিতাও দালানটি পছন্দ করতেন, সেখানে অনেক রকম গাছ বসিয়েছিলেন। পরে তিনি ১৭ নম্বর বোসপাড়া লেনে উঠে যান। বিবেকানন্দর সঙ্গে নিবেদিতাকে  যে বার বিদেশ যেতে হয় সে বার ফিরে এসে কিন্তু তিনি ১৬এ-তেই ছিলেন।

১৬ নম্বর বোসপাড়া লেন বলে যে বাড়িটি অধিগ্রহণ করা হয়েছে, সেটির বর্ণনার সঙ্গেও রেঁমর বর্ণনা মিলছে না। এই বাড়িতে একেবারে দরজা থেকে সিঁড়ি নেই। বাড়িটি পাকা এবং দোতলা। ভিতরে ছোটো দালান আছে বটে, কিন্তু কোনো মতেই তাঁকে প্রশস্ত বলা যায় না। একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে বাড়িটির একটা বাড়ি পরেই গিরিশ অ্য‌াভেনিউ বা সেন্ট্রাল অ্য‌াভেনিউ শুরু হয়েছে। এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে আসল বাড়িটি ভাঙা পড়েছে। বাড়িটি অধিগ্রহণ করতে গিয়ে হাইকোর্টে সরকারকে মামলার সম্মুখীন হতে হয়। সেখানেও সরকার এই বাড়িটিতেই যে নিবেদিতা ছিলেন তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারেনি।

nivedita2

বাড়িটিতে পুননির্মাণ কাজ চালাতে গিয়ে রেঁম বা রবীন্দ্রনাথ-নিবেদিতা সাক্ষাৎকারের প্রত্য‌ক্ষদর্শীর বিবরণের সঙ্গে মেলানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সারদা মিশনের পক্ষ থেকে অবশ্য‌ বলা হয়েছে, সংগ্রহশালা গড়ার জন্য‌ আপাতত দর্শনার্থীদের জন্য‌ বাড়িটি বন্ধ থাকছে। কিন্তু আসল সত্য‌ কি তাই? অধিগ্রহণের পর বেশ কয়েক বছর কেটে গেলেও এখনও সংগ্রহশালা তৈরি করা সম্ভব হল না কেন? ইতিহাস জানেন বা বিবেকানন্দর বিশিষ্ট বন্ধু কিরণচন্দ্র দত্তর ‘বাগবাবাজার’ বইটি যাঁরা পড়েছেন তাঁরা প্রকৃত সত্য‌ জানেন। কিন্তু দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকা সত্ত্বেও কেউই মুখ খুলতে চান না।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here