এবিভিপি-র বিরুদ্ধে কারগিল-শহিদ কন্যার তোপ ফেসবুকে

0
154

নয়াদিল্লি : বাবা ক্যাপ্টেন মনদীপ সিং যুদ্ধ করেছিলেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে, কারগিল ফ্রন্টে শহিদ হয়েছিলেন। সেই বাবারই রক্ত যে তাঁরও শরীরে বইছে তার প্রমাণ দিলেন মেয়ে গুরমেহর কৌর।

গুরমেহরের লড়াইয়ের মাধ্যম সোশ্যাল মিডিয়া, তাঁর শত্রু অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ তথা এবিভিপি। দিল্লির কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজেপি-র ছাত্র সংগঠন যে দৌরাত্ম্য চালাচ্ছে, যে হুমকি দিচ্ছে তার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন গুরমেহর। বুধবার দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে রামজস কলেজের লিটেরারি ফেস্টকে কেন্দ্র করে এবিভিপি যে তাণ্ডব চালিয়েছে, তারই প্রতিবাদ করেছেন তিনি। ‘হ্যাশট্যাগ স্টুডেন্টসএগেনস্টএবিভিপি’ দিয়ে প্রতিবাদী পোস্টার হাতে নিয়ে প্রোফাইল পিকচার পোস্ট করেছেন লেডি শ্রীরাম কলেজের ইংরিজি অনার্সের ছাত্রী গুরমেহর। পোস্টারে লেখা, “আমি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। আমি এবিভিপি-কে ভয় পাই না। আমি একা নই। ভারতের সব ছাত্রছাত্রীই আমার সঙ্গে রয়েছেন।’’

gur-1ফেসবুক পোস্টে গুরমেহর লিখেছেন, “নিরীহ ছাত্রছাত্রীদের ওপর এবিভিপি-র এই নৃশংস আক্রমণ বিতৃষ্ণা সৃষ্টি করে। এটা বন্ধ হওয়া দরকার। এটা শুধুমাত্র প্রতিবাদীদের ওপর হামলা নয়, গণতন্ত্রের প্রতিটি ধারণার ওপর আক্রমণ, যে গণতন্ত্রকে নিজেদের অন্তরে সযত্নে লালন করেন প্রতিটি ভারতীয়। এই রাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রতিটি নাগরিকের আদর্শ, নৈতিকতা, স্বাধীনতা এবং অধিকারের ওপর আক্রমণ। যে পাথর আমাদের ওপর ছুড়ছ, তা আমাদের গায়ে লাগছে বটে, কিন্তু আমাদের ধ্যানধারণায় আঘাত করতে পারবে না। আতঙ্কের পরিবেশের বিরুদ্ধে একটা প্রতিবাদের পথ হল আমার এই প্রোফাইল ছবি। তোমরা যদি ভারতের কোনো রাজ্যের ছাত্রছাত্রী হও, কোনো ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী হও, তোমরা যদি এবিভিপি’র বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে চাও, তা হলে আমার মতো সেলফি তুলে তা ফেসবুকে প্রোফাইল ছবি করো। ‘হ্যাশট্যাগ স্টুডেন্টসএগেনস্টএবিভিপি’ ব্যবহার কোরো। আর তার সঙ্গে এই মেসেজটা কপি পেস্ট করে দিও। ভারতের প্রতিটি ছাত্রছাত্রীর এক হওয়ার সময় এসেছে। জয় হিন্দ! জয় গণতন্ত্র!’’         

গুরমেহরের এই পোস্ট ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। ‘লাইক’ পড়েছে অসংখ্য। শেয়ার হয়েছে প্রচুর। বহু ফেসবুক ইউজার তাঁদের প্রোফাইল ছবির জায়গায় গুরমেহরের মতো প্রতিবাদী পোস্টার হাতে সেলফি দিয়ে পোস্ট করছেন। তাঁর ফেসবুক বার্তা যে এত সাড়া ফেলে দেবে ভাবতে পারেননি গুরমেহর। বুধবারের ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেছেন, “যখন এই নৃশংস ঘটনা ঘটে আমি সেখানে ছিলাম না। পরে আমি জানতে পারি সংঘর্ষে আমার কয়েক জন বন্ধু আহত হয়েছে, তাদের দিকে পাথর ছোড়া হয়েছে, আমি এত বিচলিত হয়ে যাই যে নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি। আমার প্রতিবাদ জানানোর জন্য সোশ্যাল মিডিয়াকেই বেছে নিই।” উল্লেখ্য, রামজস কলেজ কর্তৃপক্ষ জেএনইউ-এর উমর খালিদ ও সহেলা রশিদের আমন্ত্রণ বাতিল করায় ছাত্রছাত্রীরা যখন প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন, তখন এবিভিপি-র কর্মীরা তাঁদের উপর হামলা চালায়। ফলে ২০ জন আহত হন।

স্বাভাবিক ভাবে সংখ্যায় কম হলেও গুরমেহরের এই পোস্টের সমালোচনাও হয়েছে, কেউ কেউ সোজা ভাষায় গালিগালাজও করেছে। কেউ তাঁকে অ্যান্টি-ন্যাশনাল’ বলেছে, কেউ বলেছে, ওর বাবা কীসের জন্য প্রাণ দিয়েছিল তা ও বুঝতে পারেনি।

টুইটারে এ সবেরও জবাব দিয়েছেন গুরমেহর। বলেছেন, “তথাকথিত জাতীয়তাবাদীদের প্রতিক্রিয়ায় আমি বিরক্ত।” শনিবার আরও একটি টুইটে গুরমেহর বলেছেন, “আমরা কি জাতিয়তা-বিরোধীদের জন্য লড়াই করছি? না। আমরা কাদের জন্য লড়ছি? ছাত্রছাত্রীদের জন্য, বাক স্বাধীনতার জন্য, নিরাপদ সারস্বত ক্ষেত্র পাওয়ার জন্য।”

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here