নবজাতিকাকে রেখে পালাল মা, মেডিক্যাল কলেজেই বড়ো হচ্ছে সে

0
200

কলকাতা: নারীদের অধিকার, নারীদের ক্ষমতায়ন নিয়ে আজ আমরা সরব। সেই সূত্রেই বুধবার পালিত হল আন্তর্জাতিক নারী দিবস। অথচ এখনও যে কন্যাসন্তান জন্মানো সমাজের কাছে একটা অভিশাপ তা এই কলকাতার বুকেই প্রমাণ হয়ে গেল।  অসুস্থ কন্যাসন্তানকে হাসপাতাল রেখে পালিয়ে গেলেন মা। হ্যাঁ, এমনই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

নিজের মা তাঁর কন্যাসন্তানকে হাসপাতালে ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছেন। এখন হাসপাতালের নার্সরাই সেই অনাথ শিশুর মায়ের ভূমিকা পালন করছেন। যখন এই নবজাতিকাটি মায়ের অভাব বোধ করে কান্না জুড়ছে, তখনই নার্সরা তাকে কোলে তুলে আদর করছেন, ভুলিয়ে দিচ্ছেন তার দুঃখ।

কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শবনম খাতুন নামে এক মহিলা গাইনো বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন। সেখানেই তিনি যমজ সন্তানের জন্ম দেন। আর এই যমজের মধ্যে একটি কন্যা। দু’টি শিশুর মাথা জোড়া ছিল। ডাক্তারি পরিভাষায় এই রোগকে বলা হয় মেনিঙ্গোমায়লোসিল। হাসপাতালের এসএসসিইউসি বিভাগে অস্ত্রোপচারের পর এই যমজকে আলাদা করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগে শিশুদু’টির চিকিৎসা চলার সময় মা হঠাৎ হাসপাতাল থেকে উধাও হয়ে যায়। সঙ্গে পুত্রসন্তানটিকে নিয়ে যায়। শবনম খাতুন নাম সে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। তার ঠিকানা দেওয়া ছিল বেলেঘাটায়। কিন্তু পুলিশ গিয়ে দেখে সেই ঠিকানা পুরোপুরি ভুয়ো। এর পর থেকে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগেই রয়েছে এই কন্যাসন্তানটি। এখানেই নার্সদের যত্নআত্তিতেই সে বড়ো হচ্ছে।  

হাসপাতাল সুপার শিখা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “শিশুটির দেখাশোনার দায়িত্ব হাসপাতালই নিয়েছে। শিশুটির সমস্ত খরচ হাসপাতাল বহন করছে। আর এই বিভাগের নার্সদের পরিচর্যায় সে বড়ো হচ্ছে। তবে এই শিশুটিকে কোনও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বা কোনও ব্যক্তিবিশেষ দত্তক নিতে চাইলে তাদের হাতে তাকে তুলে দেওয়া হবে।”

পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগের প্রধান ডাঃ সুকান্ত দাস বলেন, “কন্যাসন্তানটির কিছু ত্রুটি ছিল। মাথায় জল জমেছিল, পিছনে একটা বড়ো টিউমার ছিল। যেটিকে আমরা মেনিঙ্গোমায়লোসিল বলে থাকি। এখানে আমরা ওর অস্ত্রোপচার করি। তার পরই তার মা পালিয়ে যায়। এখন আমাদের বিভাগের নার্সদের পরিচর্যায় বড়ো হচ্ছে। এখন বেশ ভালো আছে।”

পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগের নার্স পপি পট্টনায়ক বলেন, “দু’টি শিশুর মাথা জোড়া ছিল। আমাদের বিভাগে অস্ত্রোপচার হয়। তার মা কন্যাসন্তানটিকে এই বিভাগের ওয়ার্ডে ফেলে পালিয়ে যায়। আর ছেলে সন্তানটিকে নিয়ে চলে যায়। হাসপাতালের তরফে থানায় এফআইআর করা হয়। কিন্তু পুলিশ খোঁজ নিয়ে দেখে মহিলা ভুয়ো ঠিকানা দিয়েছে। এর পর এখন এই বিভাগের নার্সদের পরিচর্যাতেই সে বেড়ে উঠছে।” একই কথা বললেন ওই বিভাগেরই আরেক নার্স পৌলমী চক্রবর্তী।

 

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here