নিজেকে দেশপ্রেমিক বোঝাতে সিনেমা হলে জাতীয় সংগীতের সময় দাঁড়ানোর প্রয়োজন নেই, বললেন বিচারপতি চন্দ্রচূড়

0
283

নয়াদিল্লি দেশপ্রেমের নামে নীতি-পুলিশরাজ চলতে পারে না। এ কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় তো পরিষ্কার বলেই দিয়েছেন, নিজেকে দেশপ্রেমিক প্রমাণ করার জন্য সিনেমা হলে জাতীয় সংগীত বাজানোর সময় দাঁড়ানোর কোনো প্রয়োজন নেই। আর এ ভাবেই নিজেদেরই জারি করা নির্দেশ সংশোধনের ইঙ্গিত দিল সুপ্রিম কোর্ট।

এগারো মাস আগে সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, সিনেমা হলে সিনেমা দেখানোর আগে জাতীয় সংগীত বাজাতে হবে। কিন্তু সোমবার শীর্ষ আদালতের তিন সদস্যের ডিভিশন বেঞ্চ সেই নির্দেশ সংশোধনের ইঙ্গিত দিল। দেশপ্রেমের নামে নীতি-পুলিশরাজ বন্ধ করার জন্য সুপ্রিম কোর্ট এই পথে হাঁটতে পারে।

আগেকার নির্দেশ ঘাঁটাঘাঁটি না করার জন্য কেন্দ্র যে আবেদন জানিয়েছিল তা খারিজ করে দিয়েছে প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র, বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় এবং বিচারপতি খানবিলকরকে নিয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ। সিনেমা হল বা অন্য কোনো অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত বাজানো সংক্রান্ত নিয়ম বা নীতিনির্দেশ প্রণয়ন করার জন্য ডিভিশন বেঞ্চ কেন্দ্রকে বলেছে। ডিভিশন বেঞ্চ বলেছে, এই সব ব্যাপারস্যাপার প্রশাসনিক এক্তিয়ারে পড়ে এবং যে কাজগুলো প্রশাসনিক এক্তিয়ারে পড়ে সেই কাজগুলো আদালতকে করার কথা বলতে পারে না কেন্দ্র।

শীর্ষ আদালত গত বছর ৩০ নভেম্বর এক নির্দেশ জারি করে বলেছিল, “নিজেদের মধ্যে দেশাত্মবোধ, জাতীয়তাবোধ জাগিয়ে তোলার জন্য সমস্ত সিনেমা হলে সিনেমা দেখানোর আগে জাতীয় সংগীত বাজাতে হবে। তৎকালীন বিচারপতি দীপক মিশ্রের জারি করা ওই অন্তর্বর্তী নির্দেশের পর সুপ্রিম কোর্টে বহু আবেদন পেশ করা হয়েছে। ওই আবেদনগুলির মূল বক্তব্য হল শীর্ষ আদালতের ওই নির্দেশের আওতায় আদালত-সহ সমস্ত সরকারি অফিস ও স্কুলগুলিকে নিয়ে আসা হোক।

কেন্দ্রের তরফে অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপাল সুপ্রিম কোর্টের এগারো মাস আগে জারি করা নির্দেশ কড়া ভাবে সমর্থন করেন। তিনি বলেন, ধর্ম, বর্ণ, জাতি, অঞ্চল সহ বিপুল বৈচিত্র্য আছে আমাদের দেশের। এদের একত্র করার জন্য একটা শক্তি দরকার। জাতীয় সংগীত বাজালে সাধারণ মানুষের মনে একটা বিশ্বাস জন্মাবে যে তারা ভারতবাসী।

ডিভিশন বেঞ্চ কিন্তু তাঁর মতের সঙ্গে একমত হতে পারেনি। বিশেষ করে বিচারপতি চন্দ্রচূড় আগেকার নির্দেশের প্রবল সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, দেশাত্মবোধের নামে নীতি-পুলিশের রাজত্ব চলতে পারে না।

বিচারপতি চন্দ্রচূড় বলেন, “কাল আপনারা বলবেন সিনেমা হলে টি শার্ট আর শর্টস পরে যাওয়া যাবে না। কারণ এটা জাতীয় সংগীতের প্রতি অবমাননা। এর শেষ কোথায়? কোথায় নীতি-পুলিশরাজ শেষ হবে? সিনেমা হলে মানুষ যায় অবিমিশ্র বিনোদনের জন্য। সে কী করবে, কী করবে না তা আমরা ঠিক করে দেব কেন? জাতীয় সংগীত চলাকালীন কেউ যদি না দাঁড়ায় তা হলে কেন আমরা ধরে নেব সে যথেষ্ট দেশপ্রেমিক নয়?”

সুপ্রিম কোর্ট আগেকার নির্দেশ সংশোধন করে এ দিন কোনো নির্দেশ জারি করেনি বটে, তবে আগেকার নির্দেশ সংশোধন করে শীর্ষ আদালত ‘শ্যাল’-এর জায়গায় ‘মে’ করতে পারে তার যথেষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে অর্থাৎ ‘জাতীয় সংগীত বাজাতে হবে’-র বদলে ‘জাতীয় সংগীত বাজানো যেতে পারে’ করা হতে পারে।

এই মামলার পরবর্তী শুনানি ৯ জানুয়ারি।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here