শিমলা, নৈনিতাল, মুসৌরীতে মরশুমের প্রথম তুষারপাত, সম্ভাবনা উজ্জ্বল দার্জিলিং-এ

0
304
shimla snowfall

ওয়েবডেস্ক: হিন্দিতে একটা কথা আছে, “দের আয়ে দুরস্ত আয়ে।” অনেক দিনের অপেক্ষার পর অবশেষে হাসি ফুটল হিমাচল, উত্তরাখণ্ডের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। অবশেষে তুষারপাতে সাদা হল দুই রাজ্যের অধিকাংশ জায়গাই। মরশুমের প্রথম বরফ পেল শিমলা, নৈনিতাল এবং মুসৌরী। এখন অপেক্ষায় দার্জিলিং।

এই মরশুমে শীত তুলনায় অনেক বেশি পড়লেও বরফের দেখা প্রায় নেই বললেই চলে। শেষ বার হিমাচল এবং উত্তরাখণ্ডে বরফ পড়েছিল গত বছর ১১ এবং ১২ ডিসেম্বর। কিন্তু সে বার রাজ্যগুলির সব জায়গা তুষারপাত পায়নি। বরফের অপেক্ষা ক্রমে বাড়ছিল শিমলায়। সেই সঙ্গে মাথাচাড়া দিচ্ছিল জলের সমস্যাও, কারণ গত পাঁচ মাসে মাত্র একবার সে অর্থে ভালো বৃষ্টি হয়েছে এই সব জায়গায়।

অবশেষে চল্লিশ চিনের খরা কাটিয়ে বরফ পড়ল। মঙ্গলবার শিমলা ছাড়াও বরফ পড়েছে মানালি, ম্যাকলিয়ডগঞ্জ, খাজিয়ার, ডালহৌসির মতো টুরিস্ট স্পটগুলিতেও। বরফ পড়ার খবর পেতেই চণ্ডীগড় থেকে মানুষ শিমলায় উঠতে শুরু করেন। এর ফলে শিমলার রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হয়। আবহাওয়া দফতরের মতে শিমলার ম্যালে ৮ সেন্টিমিটার এবং কাছের জাখু পাহাড়ে দশ সেন্টিমিটার বরফ পড়েছে। অন্য দিকে বরফের প্রত্যাশা মিটেছে নৈনিতাল, মুসৌরীর মানুষেরও। সেখানেই ৬ থেকে ৭ সেন্টিমিটার বরফ পড়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

বরফে চাদরে মুসৌরী
বিজ্ঞাপন

হিমাচল, উত্তরাখণ্ডের পরে এ বার তুষারপাতের সম্ভাবনা ক্রমশ জোরালো হচ্ছে দার্জিলিং-এও। যে পশ্চিমী ঝঞ্ঝাটি হিমাচল এবং উত্তরাখণ্ডে তুষারপাত দিয়েছে, তার ফলেই বরফ পড়তে পারে দার্জিলিং-এ। পশ্চিমী ঝঞ্ঝাটি এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী রয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমার কর্ণধার রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা।

তিনি বলেন, “বুধবার দুপুরের দিকে ওই ঝঞ্ঝাটি দার্জিলিং এবং সিকিম অঞ্চলে ঢুকবে। আশা করা যায় এর প্রভাবে সিকিম তো বটেই, দার্জিলিং-এও বরফ পড়বে।” তবে যদিও বা দার্জিলিং-এ বরফ না পড়ে, সান্দাকফু এবং ফালুটে যে বরফ পড়বেই সে ব্যাপারে অনেকটা আশাবাদী রবীন্দ্রবাবু।

এই মুহূর্তে দার্জিলিং-এর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা শূন্যের ওপরেই রয়েছে। তবে আবহাওয়া দফতর থেকে জানানো হয়েছে, তুষারপাতের জন্য সর্বনিম্ন তাপমাত্রাকে শূন্যের নীচে নামতে হবে তার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

সরস্বতী পুজো, নেতাজির জন্মদিন, প্রজাতন্ত্র দিবসকে ঘিরে বাঙালি এখন এমনিতেই ছুটির মুডে, এর ওপর যদি দার্জিলিং-এ তুষারপাত হয়, তা হলে যে পাহাড়ে মানুষের ঢল নামবে তা বলাই বাহুল্য।

 

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here