পাকিস্তানের ‘অদৃশ্য’ মহিলা কর্মীদের কাছে এই নারী দিবসটা ‘স্পেশাল’

0
126

করাচি: জেহরা খানের কাছে এ বারের নারী দিবসটা অন্য রকম। চার মাস হল বাড়িতে-কাজ-করা মহিলাদের সংস্থা ‘হোম বেস্‌ড উইমেন ওয়ার্কার্স ফেডারেশন’কে (এইচবিডব্লিউডব্লিউএফ) আইনি স্বীকৃতি দিয়েছে সিন্ধু প্রদেশের সরকার। এই সংস্থার সচিব জেহরা।

চার মাস আগে এই দিনেই এই সংস্থাকে আইনি স্বীকৃতি দিয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন সিন্ধু প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সঈদ মুরাদ আলি শাহ। এর ফলে সিন্ধু প্রদেশের বাড়িতে-কাজ-করা প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ মানুষ সরকারি সুযোগসুবিধা পাবেন। উল্লেখ্য, এই পঞ্চাশ লক্ষ মানুষের মধ্যে অধিকাংশই মহিলা।

জেহরার মতে, আইনি স্বীকৃতি পাওয়ার ফলে সরকারের শ্রমিক কল্যাণ বোর্ডে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করাতে পারবেন এই কর্মীরা। এর ফলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং ঘরবাড়ি সংক্রান্ত সুযোগসুবিধা পাবেন তাঁরা। সেই সঙ্গে মিলবে অবসরের পরের সুযোগসুবিধাও।

বিজ্ঞাপন

কী কাজ করেন এই কর্মীরা?

‘অদৃশ্য’ কর্মী হিসেবে দেশ জুড়ে পরিচিতি এই কর্মীদের।  চার দেওয়ালের মধ্যে থেকে পোশাকআশাক, জুতো, ক্রীড়া সামগ্রী তৈরি করেন এঁরা। গোটা পাকিস্তান জুড়ে এ রকম কর্মীদের সংখ্যা প্রায় এক কোটি কুড়ি লক্ষ, যার মধ্যে আশি শতাংশ কর্মীই মহিলা। কিন্তু পাকিস্তানের অর্থনীতিতে এঁদের অবদান অস্বীকৃতই। জেহরার কথায়, সরকারি স্বীকৃতি না থাকার ফলে দালালদের ওপর নির্ভর করেই দিন চলে এই কর্মীদের। এর ফলে ঠিকঠাক মজুরিও জোটে না এঁদের। উলটে দালালদের থেকে ভালো মজুরি দাবি করলে বিতাড়িত হতে হয়।

hbwwf1
কর্মীদের সঙ্গে জেহরা

আইনি স্বীকৃতির জন্য অবশ্য কম কাঠখড় পোহাতে হয়নি জেহরাদের।

কর্মীদের এই অবস্থার উন্নতি ঘটাতে অনেক দিন ধরেই আন্দোলন করছেন জেহরা। বাড়িতে-কাজ-করা মহিলাদের নিয়ে ২০০১-এ একটি মিটিং করেছিলেন জেহরা। সেখান থেকেই পথ চলা শুরু করে এইচবিডব্লিউডব্লিউএফ। চার বছরের মধ্যে আরও বড়ো হয় এই সংস্থাটি। সমাজে এই মহিলা কর্মীদের কত বড়ো অবদান সে ব্যাপারে তাঁদের অবগত করতে থাকে এই সংস্থাটি।

প্রথম দিকে সরকারের কাছে ঠিকঠাক জল সরবরাহ করা, ময়লা পরিষ্কার করার দাবি করলেও, ধীরে ধীরে নিজেদের অধিকারের দাবি জানাতে শুরু করেন তাঁরা। দাবি ওঠে  কর্মী হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য।

জেহরার কথায়, “পাকিস্তানের বেশ কয়েক জন শ্রমিক নেতার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেছি। তাঁদের মতামত নিয়েছি।” সাংসদ এবং রাজনীতিকদের অফিসে ঘণ্টার পর ঘণ্টার বসে থাকতে হয়েছে তাঁদের। অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে হয়েছে কখন তাঁদের কথা কেউ মন দিয়ে শোনে। “ঘণ্টার পর ঘণ্টা সিন্ধু প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর অফিসে বসে থেকেছি। দেখেছি অন্য দাবিদাওয়ার মধ্যে আমাদের দাবির ফাইলটা সবার নীচে চলে যেতে”, আক্ষেপের সুরে বলেন জেহরা।

কিন্তু অবশেষে তাঁদের দাবি মানা হয়েছে। এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করেছে সিন্ধু প্রদেশের সরকার। পাকিস্তানের চারটি প্রদেশের মধ্যে সিন্ধুই প্রথম যারা এই কর্মীদের আইনি স্বীকৃতি দিয়েছে। জেহরার মতে, “সিন্ধু প্রদেশ বা পাকিস্তানের নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার শ্রমিক আন্দোলনের কাছে এটা একটা ঐতিহাসিক জয়।”

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here