আপনি আচরি ধর্ম, অঙ্গদানে এগিয়ে এলেন নদিয়ার শিক্ষক-শিক্ষিকারা

0
490
primary teachers of nadia
srila pramanik
শ্রীলা প্রামাণিক

চক্ষুদান এবং অঙ্গদানের সূত্রে বেশ কিছু মুমুর্ষু মানুষ নতুন করে জীবন ফিরে পেয়েছেন। সম্প্রতি এই রাজ্যে এবং এই রাজ্যের বাইরেও একাধিকবার এই দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। চক্ষুদান এবং অঙ্গদানের মতো বিষয়ে ক্রমেই আগ্রহী হচ্ছেন মানুষ। এ বার সেই কাজে যাতে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি করে আগ্রহী করতে ব্যতিক্রমী পথে হাঁটল নদিয়া জেলার প্রাথমিক শিক্ষকরা।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের উদ্যোগে শুক্রবার সাধারণতন্ত্র দিবসের দিন চক্ষুদান এবং অঙ্গদানের জন্য অঙ্গীকারে স্বাক্ষর করলেন প্রায় শ’ দেড়েক শিক্ষক-শিক্ষিকা। শিক্ষক-শিক্ষিকারা এগিয়ে আসায় আগামী দিনে মানুষ আগ্রহী হবেন বলেই মনে করছেন তাঁরা।

শুক্রবার কৃষ্ণনগরের বর্ণপরিচয় ভবনে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের দফতরে এই অঙ্গদানের কর্মসূচি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে রক্তদান শিবিরের পাশাপাশি অঙ্গদানের অঙ্গীকারপত্রে স্বাক্ষর করেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। জেলা স্বাস্থ্য দফতর এবং লায়ন্স ক্লাব রানাঘাট (পশ্চিম)-এর সহায়তায় এবং নদিয়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের উদ্যোগে এ দিনের অনুষ্ঠানে ৮৫ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা রক্তদান করেন। পাশাপাশি মরণোত্তর চক্ষুদানের অঙ্গীকারে স্বাক্ষর করেন ৫০ জনের মতো শিক্ষক-শিক্ষিকা। মরণোত্তর অঙ্গদানের অঙ্গীকারে স্বাক্ষর করেন প্রায় ১০০ শিক্ষক-শিক্ষিকা।

এই ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে মুমুর্ষু রোগীদের প্রাণ বাঁচাতে এবং চিকিৎসাশাস্ত্রের গবেষণায় সহায়ক হবে বলেই মনে করছেন সকলে। কৃষ্ণনগরের শঙ্কর ফাউন্ডেশন এবং চাকদহের বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক মঞ্চ নামে দু’টি সংস্থার কাছে তারা অঙ্গীকারে স্বাক্ষর করেন। শিক্ষক শিক্ষিকাদের পাশাপাশি অঙ্গদানের অঙ্গীকারে স্বাক্ষর করেন নদিয়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান রমাপ্রসাদ রায় নিজেও। শিক্ষক-শিক্ষিকারা স্বেচ্ছায় এই উদ্যোগে সামিল হয়েছেন।

এ দিন যাঁরা অঙ্গদানের অঙ্গীকারে স্বাক্ষর করেছেন তাঁদের একজন শান্তিপুরের একটি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক চঞ্চল চক্রবর্তী বলেন, “এই উদ্যোগের কথা জানতে পেরেই এগিয়ে এসেছি অঙ্গদানের অঙ্গীকার করতে। শিক্ষকরাই সমাজকে পথ দেখায়। তাই এই উদ্যোগের ফলে আরও বহু মানুষ আগ্রহী হবেন এই কাজে এগিয়ে আসতে।” শিক্ষক-শিক্ষিকারা এই ধরনের কাজে এগিয়ে আসায় মানুষ আরও বেশি করে সচেতন হবেন এবং অঙ্গদানের মতো বিষয়ে আগ্রহী হবেন বলেই আশাবাদী সকলে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান রমাপ্রসাদ রায় বলেন, “নি:স্বার্থ দানেই বেশি আনন্দ। সাধারণ মানুষকে এই বিষয়ে আরও বেশি করে আগ্রহী এবং সচেতন করে তোলার জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষিকারা এগিয়ে আসায় মানুষ আরও বেশি আগ্রহী হবেন।” এই বছর স্বল্প সময়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাতে বেশী প্রচার করা যায়নি। তবুও তাতে বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা সাড়া দিয়েছেন। নদিয়ায় মোট প্রাথমিক স্কুলের সংখ্যা ২৬৫২। শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার ৮০০। আগামী বছরে একই উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং আরও বেশি শিক্ষক-শিক্ষিকা এগিয়ে আসবেন বলে তাঁরা আশাবাদী, জানিয়েছেন রমাপ্রসাদবাবু।

এর পাশাপাশি, সম্প্রতি রাজ্য প্রাথমিক স্কুল ক্রীড়ায় দ্বিতীয় হয়েছে নদিয়া জেলা। এ দিন সেই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া জেলার বিভিন্ন প্রাথমিক স্কুলের ক্রীড়াবিদ পড়ুয়াদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তাদের হাতে সোয়েটার তুলে দেওয়া হয়।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here