বেবিফুডে পোকা, পুলিশের দ্বারস্থ জলপাইগুড়ির পরিবার, যাবেন ক্রেতা আদালতেও

0
772
worms in babyfood

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: নামী বহুজাতিক সংস্থার বেবিফুডের নতুন কৌটো। তা থেকে খুলে এক চামচ  খাওয়ানো হয়েছিল দেড় মাসের শিশুপুত্রকে। সঙ্গে সঙ্গে বমি শুরু হয় তার। স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তিনি জানিয়ে দেন খাদ্যে বিষক্রিয়া থেকেই এমন হয়েছে। খাদ্য মানে তো সেই বেবিফুড। সন্দেহ হতেই বাড়ি ফিরে সেই বেবিফুডের কৌটো একটু নাড়াচাড়া করতেই চক্ষু চড়কগাছ শিশুর মায়ের। আতঁকে উঠেছিলেন তাঁর পরিবারে অন্যরাও। কৌটোর মধ্যে কিলবিল করছে কালো রঙের অসংখ্য পোকা।

জলপাইগুড়ির শহর সংলগ্ন কৃষিবাগান এলাকার বাসিন্দা সুব্রত দাস এবং অর্চনা দাস। সুব্রতবাবু সিআরপিএফ-এ কর্মরত। তাঁদের দেড়মাসের পুত্রসন্তানই খেয়েছিল এই পোকাধরা বেবিফুড।

শিলিগুড়ির এক শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ প্রেসক্রিপশনে ওই নামী বহুজাতিক সংস্থার বেবিফুডটি খাওয়ানোর পরামর্শ দেন। গত ৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় অর্চনাদেবী জলপাইগুড়ি শহরের বউবাজার এলাকার লাইফ কেয়ার নামে একটি ওষুধের দোকান থেকে ৫২৫ টাকা দিয়ে সেই বেবিফুডের ৫০০ গ্রাম ওজনের কৌটো কিনে নিয়ে যান। বাড়ি যাওয়ার পর শিশুটির ঠাকুমা এক চামচ পাউডার গুলে শিশুটিকে খাইয়ে দেন। এর পরেই তার বমি শুরু হয়। বেশ কয়েক বার বমির ফলে অসুস্থ হয়ে পড়ে শিশুটি। এর পর তাকে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হলে, তিনি জানান খাদ্যে বিষক্রিয়া থেকে এমন হয়েছে। চিকিৎসার পর শিশুটি কিছুটা সুস্থ হলে তাকে বাড়ি ফিরিয়ে আনা। সন্দেহ হওয়ায় বেবিফুডের কৌটো খুলে পরীক্ষা করেন পরিবারের লোকেরা। বুঝতে পারেন গন্ধটা স্বাভাবিক নয়। পাউডারটাও জমাট বেঁধে গিয়েছে। কিন্তু তার পরও বাকি ছিল।

বিজ্ঞাপন

একটা চামচ দিয়ে নাড়াচাড়া করতেই নীচ থেকে কিলবিল করে বেরিয়ে আসে অসংখ্য কালো রঙের পোকা। স্বাভাবিক ভাবেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন শিশুটির মা। স্বামী কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন। তিনি আত্মীয়দের ঘটনাটি জানান। পর দিন শিশুটিকে এক শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যান। চিকিৎসার পর সে আপাতত সুস্থ।

পর দিন সেই ওষুধের দোকানে ঘটনাটি জানান তাঁরা। ওষুধ দোকানের মালিক তন্ময় ঠাকুর জানিয়েছেন, বন্ধ কৌটোর ভেতর কী আছে তা তাঁদের জানার কথা নয়। তিনি কৌটোটি ফিরিয়েও নিতে চাননি বলে অভিযোগ। এর পরেই শিশুটির পরিবার বহুজাতিক কোম্পানির কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করে অভিযোগ জানালে তারা প্রতিনিধি পাঠিয়ে বেবিফুডের কৌটো নিয়ে যেতে চান। যদিও তাতে রাজি হননি শিশুর পরিবার। তারা থানায় এবং ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

শিশুর মা আর্চনাদেবীর বক্তব্য, এই বেবিফুড খেয়ে আর বড়ো অঘটন ঘটতে পারত তাঁর সন্তানের।

শিশুর পিসেমশায় বাপ্পা দাস জানিয়েছেন, এই ধরনের বহুজাতিক সংস্থাগুলি শিশুখাদ্য নিয়ে যাতে সাবধান তার জন্যই তাঁরা আইনি ব্যবস্থা নেবেন। মঙ্গলবার কোতোয়ালি থানায় এসে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে কথাও বলেন তিনি। বুধবার থানায় অভিযোগ দায়ের করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্চনাদেবী।

এ দিকে ওই ওষুধের দোকানের মালিক তন্ময় দাস জানিয়েছেন, এ ক্ষেত্রে তাঁদের কিছু করার নেই। দায় ওই সংস্থার। তবে তাঁর বক্তব্য, এক সঙ্গে অনেক কৌটো এসেছে ওই সংস্থার। কিন্তু এ রকম কোনো অভিযোগ আসেনি।

যদিও পিছু হটতে নারাজ শিশুর পরিবার। তাঁরা এর একটা বিহিত চান, যাতে পরবর্তী কালে এই অবাঞ্জিত ঘটনা থেকে রেহাই মেলে।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here