বিয়ের গয়না কেনার আগে দেখে নিন কী পরবেন? আর কেন পরবেন?

0
92
মৈত্রী মজুমদার

বিয়ের সাজের অন্যতম হল ক’নের অলঙ্কার।শুধুমাত্র সাজ হিসেবেই নয়, পরিবারের আভিজাত্য, সামাজিক প্রভাব প্রকাশের ক্ষেত্রেও ক’নের অলঙ্কার , বহু প্রাচীন কাল থেকেই অন্যতম উপায় হয়ে উঠেছে।আবার অন্যদিক থেকে দেখতে গেলে বিয়ের সময় পাওয়া অলঙ্কার স্ত্রীধন হিসেবে প্রাচীন অবলা নারীকুল থেকে আজকের সব নারীদের মনোবল বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এক বিশেষ ভূমিকা নিয়েছে।

তাহলে কি শুধু এই জন্যই বিয়ের ক’নেকে বিভিন্ন গয়না পরানো হয়? নাকি এর পিছনে আরও অন্য কোনো গুঢ় অর্থ আছে এদের? চলুন জেনে নিই।

গয়নার মধ্যে সবথেকে উল্লেখযোগ্য আর আকর্ষণীয় হল গলার হার বা নেকলেস।সব গয়নার মধ্যে সব থেকে বড়ো এবং সর্বাপেক্ষা মধ্যবর্তিনী এই গয়নাটি ঠিক কী কী কারণে গুরুত্বপূর্ণ তা জেনে নিন।

আরও পড়ুন: এই মরশুমে বিয়ে করছেন? কনের সাজের ট্রেন্ডগুলো জানেন তো?

গলার হার হৃদয়ের সবচেয়ে কাছে থাকে আর তাই এটি ভালবাসা আর নিবেদনের চিহ্ন। একই সঙ্গে এটি সুরক্ষারও ইঙ্গিতবাহী। যেহেতু এটি মুখাবয়বের ঠিক নীচেই থাকে তাই যে কোনো পরপুরুষের সম্মোহিনী দৃষ্টি এড়াতে প্রাচীনকালে অভিজাত পরিবারের সুন্দরী মহিলারা সোনার নেকলেসকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতেন।

এবার আজকের দিনে দাঁড়িয়ে ব্যবহারিক দিক থেকে দেখতে গেলে যে কোনো পোশাকে তাৎক্ষনিক নাটকীয়তা যোগ করতে নেকলেসের জুড়ি মেলা ভার।তাই বিয়ের পোশাকে আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে বেছে নিন ঠিক নেকলেসটি।

বিয়ের দিন আপনার পোশাক অবশ্যই হবে জাঁকজমকপূর্ণ, আবার গলার হারটিও তাই। সেক্ষেত্রে যদি কলার বোন লাগোয়া গলার হার বাছেন তাহলে দুটি ব্যাপারই আলাদা করে চোখে পড়বে।

যদি আপনার গলার উচ্চতা বেশি হয়, সেক্ষেত্রে উপরিউক্ত গলার হারের ওপরের দিকে একটি চোকার পরতে পারেন। সেক্ষেত্রে দুটিরই নকশায় মিল থাকা চাই।

আর যদি আপনার মরাল গ্রীবা না হয় তাতেও কুছ পরোয়া নেহি। নেকলেসের সঙ্গে একটি লম্বা সীতাহার জাতীয় গলার হার যোগ করুন। এক্ষেত্রেও নকশায় মিল থাকা চাই।

যদি আপনার জমকালো শাড়ির বা লেহেঙ্গার জরিদার ব্লাউসটি কিছুটা সাদামাটা হয় তাহলে আপনি বিয়ের প্রধান নেকলেস হিসেবে সাতলারা (সাতনুরি) হার বেছে নিন। এতে গলা থেকে নাভি পর্যন্ত একটি কমপ্লিট লুক পাওয়া যাবে।

সাতনুরি ছাড়াও লম্বা ও মোটা চেন ও একটি জমকালো পেন্ডেন্ট থাকা দক্ষিণী ধাঁচের ‘হারম’ এখন খুবই ফ্যাশনে আছে। তবে সেক্ষেত্রে বাকি গয়নাও মিলিয়ে কিনতে হবে।

গরমের সময় আপনি বিয়ের ক’নে হিসেবে যদি সিম্পল লুক পছন্দ করেন সেক্ষেত্রে একটি মোটা ও জমকালো গলা লাগোয়া হারই উপযুক্ত।

এবার আসি হারের নকশার কথায়।

বাঙালি সাবেকি গয়নার দিকে দেখলে দেখা যায় শুধু সোনার নকশা কাটা গয়নারই বেশি চলন। তবে আজকের দিনে দাঁড়িয়ে বিয়ের পোশাকও যেমন কেবল মাত্র বেনারসি শাড়িতে আটকে নেই সেরক মগয়নাও তার সীমা বাড়িয়ে হিরে, পোলকি, জড়াউ (জড়োয়া ), মুক্ত, সেমি প্রেসাস স্টোন ফিনিশ, দক্ষিণী ভারী নকশা ইত্যাদি সব কিছুকেই আপন করে নিয়েছে।তাই সাজের পরিধি আর পরিভাষাও আজ বহুমুখী।

তাই পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে ঠিক গয়না বাছুন। ভারী ও সাবেকি গাঢ় রঙের পোশাকের সঙ্গে শুধু সোনার গয়না যেমন মানানসই।

তেমনই প্যাস্টেল শেডের হালকা শিফন বা নেটের পোশাকের সঙ্গে হিরের বা মুক্তোর গয়না বেশি মানানসই।আবার জরিপাড় বুটিদার পোশাকের সঙ্গে পোলকির জুড়ি মেলা ভার।

তবে একটা কথা মনে রাখবেন, বিভিন্ন ধরনের গয়না একসঙ্গে মেলাবেন না। ভিন্নভিন্ন ধরনের গয়না, ভিন্ন পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে পরুন। বিয়ের অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে ভিন্নভিন্ন গয়নায় সেজে উঠুন।

বিয়ের কনের জন্যে সব থেকে মঙ্গলময় গয়না বিয়ের হার, তাই এটি কেনার আগে ভালো করে সবদিক ভেবে নিন। কারণ একদিন এই বস্তুটিই আপনার বিভিন্ন অনুভুতির প্রকাশক হয়ে উঠবে।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here