অন্দরসজ্জা: যদি ‘রঙ’ দিলে না প্রাণে

0
399

moitryমৈত্রী মজুমদার

“মনে কর আমি নেই, বসন্ত এসে গেছে/ কৃষ্ণচূড়ার বন্যায় চৈতালি ভেসে গেছে…”

বিবিধভারতীতে সুমন কল্যানপুরের গাওয়া সেই কবেকার এই গানটা শুনতেসন্ শুনতে হঠাৎ মনে হল সত্যি তো কত কত বত আমরা পার করে ফেলি এই ইঁট কাঠ কংক্রিটে ঠাসা শহরটার অলিতে গলিতে যন্ত্রের মতো ঘুরতে ঘুরতে। কিন্তু তার গোলকধাঁধারও যে রঙ পালটায় তার হদিস করার সময় কি পাই?

এই যে গলির মাথার পার্কে বড় হয়ে ওঠা মন্দার, রাধচূড়া, কৃষ্ণচূড়ায় লালহলুদের মেলা বসতে চলেছে; ওই যে সেদিন দুপুরের উষ্ণ পরশের মাঝে দুকলি কোকিলের ডাক শোনা গেল আর গতকাল অফিসফেরতা গলদঘর্ম হয়ে বাস থেকে নামতেই দখিনা বাতাসের মিষ্টি একটা ঝলক প্রাণের ভিতর পর্যন্ত স্নিগ্ধতায় ভরে দিল, সেগুলো কি জীবনের অংশ নয়? অথচ দেখুন কতদিন যে এসব ভালো করে খেয়ালই করিনি সেটাও মনে পড়ে না।

কি বন্ধুরা আপনাদেরও কি সেই হাল? যদি তাই হয় তাহলে আমার নিজের জন্য ভাবা সমাধানটা শেয়ার করে ফেলি আপনাদের সঙ্গে।

ঋতুরাজ বসন্ত ঢুকে পড়েছে ঘরে আর তাকে সম্মান জানানোর সহজ এবং অব্যর্থ উপায় হল নিজেকে আর নিজের ঘরকে রাঙিয়ে নেওয়া। কিন্তু ঘর বলে কথা, যেমন তেমন করে যা ইচ্ছে রঙ তো আর করা যায় না, তাই সহজে,কম খরচে নিজের মনের মতো করে ঘর রাঙানোর উপায় আমি দেব আপনাদের।

১. আপনার ঘরে থাকা ভীষণ পছন্দের রঙিন একটি পেইন্টিং বা ফটোগ্রাফ বা কার্পেট বেছে নিন। এবার ভালো করে ভেবে নিন ঠিক কী কী কারণে এর রঙগুলি আপনার পছন্দের। এবার এর মধ্যে থাকা রঙগুলির সঙ্গে মিলিয়ে আপনি আপনার ঘরের বাকি আসবাবপত্র, পর্দা, কুশন, শো-পিস ব্যবহার করুন ঘরটিতে। এতে আপনার ঘরে থাকা সব ক’টি উপকরণের মধ্যে একটি সামঞ্জস্য বজায় থাকবে আর আপনাকে অনুপ্রেরণা জোগানো উপাদানটিও পাবে তার সঠিক গুরুত্ব।

R-1

২. ঘরে  দুই-এর বেশি রঙ ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ৬০:৩০:১০ অনুপাতের নিয়ম অনুসরণ  করুন। ঘরে থাকা ৬০ ভাগ জিনিসের ক্ষেত্রে যে রঙটি ব্যবহার করবেন সেটি হতে হবে যথা সম্ভব হাল্কা, ধরে নিন ঘরের দেওয়াল, মেঝে ইত্যাদি; বাকি ৩০ ভাগ জিনিসে তার থেকে খানিকটা উজ্জল রঙ ব্যবহার করুন। যেমন ধরুন সোফা বা চেয়ার এর কভার, পর্দা ইত্যাদি। আর পুরো ঘরে নাটকীয়তা এনে দিতে বাকি দুটো রঙের সঙ্গে কোন সম্পর্ক না থাকা একটি অতি উজ্জ্বল আর সাহসী রঙ ব্যবহার করুন কুশন কভার, ফ্লাওয়ার ভাস ইত্যাদিতে, একে বলা হয় অ্যাকসেন্ট(Accent) যোগ করা।

R-2

মনে রাখবেন এই গুরুত্বপুর্ণ নিয়মটি সব ধরনের ডিজাইনের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

৩. আপনারা নিশ্চয় লক্ষ করেছেন যতই আমরা ঘরের বিভিন্ন জিনিসে নানান রঙের ব্যবহার করিনা কেন ঘরের সিলিং সবসময় সাদা বা কাছাকাছি কোন হাল্কা রঙেরই হয়ে থাকে। তার একটা কারণ আছে। আমাদের মনে গাঢ় রঙ ভারি আর হাল্কা রঙ হাল্কা ওজনের পরিচায়ক তাই ঘরে রঙের ব্যবহারের ক্ষেত্রে উল্লম্ব ভাবে নিচের দিকে, যেমন মেঝে, কার্পেট ইত্যাদিতে গাঢ় রঙ, মাঝামাঝি যেমন টেবিল সোফা, আসবাবপত্রে মাঝারি আর, ওপরের দিকে যেমন দেওয়াল,পর্দা ইত্যাদিতে হাল্কা রঙ ব্যবহার করা উচিত।

R-3

৪. যদি বেশি উজ্জ্বল রঙ এর ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা বোধ করেন কিন্তু সেই সঙ্গে ঘরকে একটু অন্য রকমও করে তুলতে চান তাহলে নির্দ্বিধায় সাদা-কালো রঙের বিভিন্ন জিনিস ব্যবহার করতে পারেন আপনার বাড়ির বিভিন্ন জায়গায়। নানান রঙের মাঝে মাঝে ধবধবে সাদা বা গাঢ় কালো রঙের অ্যাক্সেসরিগুলো দারুন নাটকীয়তা এনে দেবে আপনার অন্দরমহলে।

R-4

নিজের ঘরকে রাঙিয়ে তুলতে অনুপ্রেরণা পেতে পারেন যেকোনো জায়গা থেকে, ঘাসের মাঝে ফুটে থাকা বুনো ফুল, পিচের রাস্তায় পড়ে থাকা নানারঙ্গের শুকনো পাতা, বা আপনার পছন্দের শাড়ি বা ড্রেস। যে কোনো কিছুই আপনার কল্পনার রঙে মিশে রাঙিয়ে তুলতে পারে আপনার ঘর বাড়ি।

R-5_R-5A

তবে আর দেরি কেন মেতে উঠুন বসন্ত উৎসবে।

R-6a

(ছবি ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংগৃহীত)

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here