অন্দরসজ্জা: বাচ্চাদের ঘর

0
568

moitryমৈত্রী মজুমদার

সে একদিন ছিল যখন পাঠশালা ফাঁকি দিয়ে অপুরা একছুটে চলে যেতে পারত মাঠে বা আমবাগানে আবার সেখান থেকে দুর্গাদিদির হাত ধরে দৌড়তে দৌড়তে মাঠঘাট, বনবাদাড়, কাশফুলের জঙ্গল পার হয়ে যেত রেলগাড়ি দেখার আশায়।

 আজ  আর  সেদিন নেই। পাঠশালা  পলায়ন  তো দূরস্থান, পৃথিবীর আলো  দেখার পর আঠারো মাস কাটতে না কাটতেই পিঠে ব্যাগ আর জলের বোতল নিয়ে আজকের অপু-দুর্গা দের যেতে হয় প্লে স্কুলে। আর প্রকৃতির অপার রহস্যের সন্ধান এবং সমাধান দুটোই নির্ভরশীল হয়ে পড়ে বই আর ইন্টারনেট-এর ওপর। সে যাই হোক, ‘যস্মিন কালে যদাচার…’ । এসব কথা বলার আসল কারণ হল, এমতাবস্থায় বাচ্চা মানুষ করার ক্ষেত্রে বাড়িতে বাচ্চাদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা অভিভাবকদের জন্যে একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

সব চ্যালেঞ্জে পাশে থাকতে না পারলেও, আপনার বাচ্চাদের ঘরদোর সময়োপযোগী করে সাজিয়ে তোলার ক্ষেত্রে খবর অনলাইনের ঘরদোর বিভাগ আপনার পাশে অবশ্যই থাকবে।

বাচ্চাদের জন্য ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে কয়েকটা কথা মনে রাখা জরুরি।

প্রথমত বাচ্চাদের স্বনির্ভর হিসেবে বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব ঘর থাকা খুবই জরুরি। তাইযত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাদের ঘর আলাদা করে দিন।

খুব ছোটো বাচ্চা হলেও সেই ঘরে তাদের খেলার বা পড়ার ব্যবস্থা রাখুন যাতে সেই ঘরের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

বাচ্চাদের প্রয়োজনীয় সব জিনিস যাতে তাদের নিজেদের ঘরেই রাখা যায়, সেদিকে দৃষ্টি দেওয়া জরুরি। তাহলেই নিজের জিনিসের দায়িত্ব নিতে নিতে তারা একদিন দায়িত্বশীল নাগরিক হয়ে উঠবে।

এবারে আসি বাকি কথায়।

বাচ্চাদের ঘরে প্রাথমিক জরুরি সরঞ্জাম হল, বিছানা, পড়ার টেবিল চেয়ার, আর বইখাতা, জামাকাপড়, খেলাধুলোর সরঞ্জাম রাখার জন্য স্টোরেজ। এগুলো ঠিক থাকলেই বাকি সাজানোর ব্যাপারটা আপনাআপনি হয়ে যাবে।

1

এবার বাচ্চাদের ঘরের ক্ষেত্রে যে জিনিসটা মনে রাখা দরকার তা হল বয়সের সঙ্গে সঙ্গে এদের চাহিদা আর পছন্দ কিন্তু বদলাতে থাকে, আর সেই বদল বেশ তাড়াতাড়ি হয়। বাচ্চা বলে হয়তো আপনি খুব রঙচঙে সুন্দর একটি ঘর বানালেন।

কিন্তু অল্প বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার আর এইসব রঙ ভাল লাগলো না, বা  তার শারীরিক বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে আসবাবের মাপ দ্রুত ছোটো হয়ে পড়ল। একটি বাচ্চার জন্মের পর থেকে ১৮ বছর বয়স হওয়ার মধ্যে হয়তো আপনাকে তিন থেকে চারবার ঘরের সজ্জা বদলাতে হতে পারে।  তাই একটু বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ করতে হবে।

সব থেকে উপযুক্ত কাজ হল এক্ষেত্রে একটি  বেসিক রঙের আসবাবপত্র তৈরি  করে বাকি দেওয়ালের রঙ, পর্দার, কুশনের, কার্পেটের রঙ ইত্যাদি বদলে বদলে ঘরের সজ্জা বদল করুন।

3

ঘরের সমস্ত কিছু নিউট্রাল রঙের মানে সাদা বা বেজ বা ব্রাউন রেখেও শুধুমাত্র  ফারনিশিং বদলে আপনি ঘরে বদল আনতে পারেন।

4

বাচ্চাদের ঘরের ক্ষেত্রে যত বেশি মেঝে খালি রাখা যায় ততই ভাল। তাই  বাড়িতে একাধিক বাচ্চা থাকলে তাদের ঘরের জন্য বাঙ্ক বেড একটি  যুগোপযোগী ব্যবস্থা। একাধিক বাচ্চা না থাকলেও এ ব্যবস্থা করা যেতে পারে। কারণ বাড়িতে বাচ্চাদের বন্ধুদের নাইট আউটের জন্যই হোক বা আপনার  অতিথিদের বাচ্চাদের জন্য এই ব্যবস্থা  স্বাচ্ছন্দ্য এনে দেবে।

5

যতটা  সম্ভব  বাচ্চাদের ঘরের আসবাবপত্র একটি বা খুব বেশি হলে দুটি  দেওয়াল লাগোয়া করে বানানো ভাল। তাতে কম জায়গায় কাজ হয়ে যাবে আর  মেঝেতেও জায়গা থাকবে খেলার।

6

বাচ্চাদের ঘরে স্টোরেজ-এর জায়গা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই যত সম্ভব স্টোরেজ রাখুন। এক্ষেত্রে শুধুমাত্র আলমারি, পড়ার টেবিল এসব ছাড়াও বুদ্ধি খাটিয়ে  বসার জায়গা, সিলিং এমনকি বাঙ্ক বেডের সিঁড়িকেও স্টোরেজ হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন।

7.1

বাচ্চাদের ঘরে প্লাসটিক বাস্কেট বা টাব ইত্যাদি ব্যবহার করুন খেলনা ইত্যাদি রাখার জন্য, যেগুলি পরবর্তীকালে বদলে যাবে। ঘরের মেঝেতে কার্পেটের ব্যবহার  বাচ্চাদের ঘরের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কার্পেট পাতা থাকলে যেকোনো সময় বাচ্চারা মেঝেতে খেলাধুলো, পড়াশোনা করতে পারবে। কখনো পড়ে গেলেও ব্যথা কম পাবে।

7

বাচ্চাদের ঘরের সজ্জার ক্ষেত্রে থিম ডেকোরেশন কিন্তু খুবই বেশি ব্যবহৃত হয়। এসব ক্ষেত্রে ঘরের আসবাবপত্র থেকে শুরু করে সবকিছুই একটি বিশেষ থিমের অনুসরণ বানানো যেতে পারে।

8

থিম অনুযায়ী বানানো আসবাব খরচ সাপেক্ষ আবার সেগুলি তাড়াতাড়ি বদলানো আরও খরচ সাপেক্ষ। তবে উপায়? কম খরচে করতে চাইলে দেওয়ালের রঙের ব্যবহার এবং সফট ফারনিশিং-এর ব্যবহারেও থিম গড়ে তোলা সম্ভব।

9

তবে  আর একটা মধ্যপন্থী উপায় আছে। থিম মানেই কিন্তু বড়োসড়ো ব্যাপার নয়। বরং একটা নির্দিষ্ট বিষয়ের বারংবার ব্যবহার। তাই যদি এরকম থিম ভাবা যায় যা অনায়াসসাধ্য এবং একই সঙ্গে যা কিছুদিন পর কম খরচে পালটে ফেলা যায় তাহলে আর থিমসজ্জায় আপত্তি কি।

10

বাচ্চাদের ঘর বাচ্চাদের সঙ্গে নিয়ে সাজান। রঙিন কাগজের  মালা, শিকলি ঝোলাতে পারেন। দেওয়ালে রঙিন কাগজের প্যাটার্ন লাগাতে পারেন, বাচ্চাদের আর্ট ক্লাসে নিজের হাতে তৈরি নানা ধরনের বস্তু বা হাতে আঁকা ছবি ফ্রেমে বাঁধিয়ে দেওয়ালে ঝোলাতে পারেন। দেখবেন চোখের সামনে কীভাবে একটা সাদামাটা ঘর উজ্জ্বল আর উৎসবময় হয়ে উঠবে। 

inside-decoration

ঋত্বিক  বলেছিলেন, “ভাবো ভাবো, ভাবা প্র্যাকটিস কর”।   সেরকম ভাবে ভাবতে পারলে… আপনার বাচ্চার জন্য তার ঘরের পরিসরেই হয়তো বা ট্রি হাউজ বানিয়ে ফেলতে পারবেন।

12

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here