উত্তর নেই, তবু প্রশ্ন রেখে যায় ‘মন্দবাসার গল্প’

0
464

মধুমন্তী চট্টোপাধ্যায় : 

জটিল জীবন, সম্পর্কের চাওয়া-পাওয়া নিয়ে অন্য রকম এক ভালোবাসার কথা বলে গেল তথাগত ভট্টাচার্যের ছবি ‘মন্দবাসার গল্প’। গোধূলিবেলায়, লেকে বসে, গায়ে বসন্তের হাওয়া লাগিয়ে বাদাম চিবোনো ভালোবাসা নিয়ে ছবি বানালে মধ্যবিত্ত বাঙালির মন ভরে না। তাই হয়তো একটু অন্য ভাবে গল্প বলা। এই গল্প জুড়ে রয়েছে অহনা (পাওলি দাম)। জাতীয় পুরস্কার পাওয়া চিত্র পরিচালক অহনা। রয়েছে অহনার মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বন্ধু সায়ন্তন চৌধুরী (পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়)।

নতুন ছবি শুরু করেও মাঝপথে পিছিয়ে আসে অহনা। ছবির নায়ক ঋক (ইন্দ্রাশিস)-এর সঙ্গে ১৫ বছর আগে মারা যাওয়া প্রেমিক ঋত্বিক (কৌশিক সেন)-এর আশ্চর্য মিল অহনাকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় পুরোনো সময়ে। কাজে মন দেওয়া তো দূরের কথা, স্বাভাবিক জীবন থেকে মুখ ফিরিয়ে অতীতকে ক্রমশ আঁকড়ে ধরে সে। কবি নাজিম হিকমত বলেছিলেন, বিংশ শতাব্দীতে শোকের আয়ু বড় জোর এক বছর। অথচ ১৫ বছর পরেও অহনা ঋত্বিককে ভুলতে পারে না। এখানেই ভিড় করে নানা প্রশ্ন। ১৫ বছরের মধ্যে সে পরিচালনার কাজ একেবারে যে করেনি, তা তো নয়, তার কাজ তাকে এনে দিয়েছে জাতীয় সম্মান। এ হেন শিল্পী কাজের ব্যাপারে এতই খামখেয়ালি ? আর শুধু গিটার বাজানো, ঠোঁটে সিগারেট চাপার স্টাইলে মিল  পেয়েই এত সহজে ছবির নায়িকাকে অতীতে ফেরানো যায়? তথাগতবাবু হয়তো সে রকমই মনে করেন, আর ঠিক সে কারণেই চিত্র পরিচালকের ঘর বোঝাতে দামি আসবাবের সঙ্গে রঙিন দেওয়ালে সত্যজিতের একটা পোর্ট্রেট রাখা আবশ্যক। অহনার পরিচালকসত্তা আর কোন উপায়েই বা বোঝানো যেত!

প্রথমার্ধে মনে হয়েছিল সিনেমার প্রয়োজনে চরিত্রগুলোর ওজন বাড়াতেই তাদের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে ভারী ভারী কিছু পেশা। সায়ন্তনের চরিত্রে যে এমনটা হয়নি, ভুল ভাঙল ছবির শেষ দিকে। দ্বিতীয়ার্ধ মোটের ওপর বেশ জমজমাট। সাসপেন্সটাও ভালোই রেখেছেন পরিচালক। তবে মুশকিল হ’ল, ডাঃ সায়ন্তন চৌধুরীর চরিত্র নিয়ে কিছু বলতে যাওয়া মানেই গল্পটা বলে ফেলা। তাই ও প্রসঙ্গ থাক। শুধু বলতে পারি পাওলি, পরম দু’জনের অভিনয়ই যথাযথ, বিশ্বাসযোগ্য। তবে আসল নায়ক কিন্তু ছবি শেষের টুইস্টটাই। সমাজ ও ব্যক্তি মানুষের বিচ্ছিন্নতা নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলে শেষ হয়ে যায় ‘মন্দবাসার গল্প’। উত্তর এল কই?

অনুপমের গান (আলাদা করে ভালো লাগলেও) এ ছবির সম্পদ হয়ে উঠতে পারেনি। ছবির প্রয়োজনে গান আসেনি, বরং গানের প্রয়োজনে এসেছে অহেতুক কিছু দৃশ্য। রূপঙ্করের গলায় শেষ গানটাই যথেষ্ট ছিল সারা ছবির জন্য। পরমব্রত,ছবির শেষে টুইস্ট, আর শেষ দৃশ্যে রূপঙ্করের গান, এই তিনটি ফ্যাক্টর একসঙ্গে থাকাটা- অনিচ্ছে সত্ত্বেও মনে করিয়ে দেয় সাম্প্রতিক এক বাংলা ছবির কথা। তবে ছবির দৈর্ঘ্য অহেতুক না বাড়ানোর জন্য পরিচালকের পরিমিতিবোধ প্রশংসনীয়।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here