শিশুবিক্রিতে জড়িত থাকার অভিযোগে জলপাইগুড়িতে ধৃত এনজিও কর্ণধার

0
161

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: বেআইনি ভাবে শিশুদত্তক ও শিশু নিখোঁজের ঘটনায় অবশেষে গ্রেফতার হলেন একটি বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্ণধার চন্দনা চক্রবর্তী । শনিবার রাতে জলপাইগুড়ি শহরে সংস্থার দফতর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে সিআইডি-র স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ। তাঁর গ্রেফতারির খবরে আলোড়ন পড়ে যায় শহর জুড়ে।

কলকাতা ও শিলিগুড়ির সিআইডি আধিকারিকদের বিশেষ দলটি শুক্রবার জলপাইগুড়ি আসে। চন্দনা চক্রবর্তীর বাড়ি, অফিস ও দু’টি হোমে তল্লাশি চালায় তারা। শনিবার দিনভর তাঁকে জেরা করেন সিআইডি-র স্পেশাল অপারেশন গ্রুপের আধিকারিকেরা। জেরার মুখে অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি চন্দনা দেবী। শেষ পর্যন্ত রাতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। জলপাইগুড়ি শহরে তাঁর ৪নং ঘুমটির অফিস থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বহু নথিপত্র। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বেশ কয়েকটি ল্যাপটপ ও কম্পিউটারও। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের আরও এক আধিকারিক ও তিন কর্মীকে।

homeনর্থ বেঙ্গল পিপলস ডেভেলপমেন্ট সেন্টার নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্ণধার ছিলেন চন্দনা চক্রবর্তী। এই সংস্থার ‘অধীনে আশ্রয়’ এবং বিমলা ‘শিশুগৃহ’ নামে দু’টি হোম রয়েছে। তার মধ্যে ‘বিমলা শিশুগৃহে’ উদ্ধার হওয়া নবজাতক ও শিশুদের রাখা হত। অভিযোগ ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ‘বিমলা শিশুগৃহ’ থেকে ১৭টি নবজাতক ও শিশুকে নিয়মবহির্ভূত ভাবে দত্তক দেওয়া হয়। তার মধ্যে আবার ৬টি শিশু নিখোঁজ। বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ ওঠে মোটা টাকার বিনিময়ে হোমের আড়ালে শিশুবিক্রির কারবার চলছে। এই নিয়ে গত বছর মে মাসে জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানায় জেলা শিশুসুরক্ষা সমিতি। প্রশাসনের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নামে রাজ্য নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দফতর।এরই মধ্যে নিরাপত্তার খাতিরে গত ২২ জানুয়ারি ‘বিমলা শিশুগৃহে’ থাকা ১৪টি শিশু ও নবজাতককে অন্য হোমে সরিয়ে নিয়ে যায় প্রশাসন।

শনিবার চন্দনা চক্রবর্তীকে গ্রেফতারের পর জলপাইগুড়ির জেলা পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, তাঁদের সন্দেহ চন্দনাদেবী কোনো শিশুপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তাই তাঁকে রবিবার আদালতে তুলে নিজেদের হেফাজতে চাইবে পুলিশ। যদিও গ্রেফতার হওয়ার পরও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চন্দনা চক্রবর্তী।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here