সাবর্ণ সংগ্রহশালার প্রদর্শনী চিনিয়ে দিচ্ছে প্রতিবেশীকে, নিয়ে যাচ্ছে সংগীতের অতীতে

0
115

হেমন্তর কিছু রেকর্ড ও বুকলেটের প্রচ্ছদ। একেবারে বাঁ দিকে ‘দাবেদার’-এর রেকর্ড, ছবিতে উত্তমকুমার।

papya_mitraপাপিয়া মিত্র:

বনেদিয়ানার ঘেরাটোপ ছেড়ে পারিবারিক ঐতিহ্য রক্ষার দায়বদ্ধতা বহন করে চলেছে সাবর্ণ সংগ্রহশালা। বড়িশার বড়বাড়ি, সপ্তর্ষি ভবনে শুরু হয়েছে সংগ্রহশালার প্রদর্শনী। চলবে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন প্রদর্শনী খোলা সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা। এ বারের প্রদর্শনীর থিম নেপালের শিল্পকর্ম। সহায়তা করেছে নেপাল সরকার।  

saborno-leadনানা সম্ভারে সাজিয়ে তুলে সংগ্রহশালাটিকে জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন রায়চৌধুরী পরিবারের ৩৫তম প্রজন্ম দেবর্ষি রায়চৌধুরী। উদ্যোগ তাঁর হলেও উৎসাহ জুগিয়েছিলেন জেঠিমা সুজাতা রায়চৌধুরী। উদ্দেশ্য, নবীন প্রজন্মের কাছে সংগ্রহশালার গুরুত্ব ও সেটিকে রক্ষা করার দায়িত্ববোধ।

বারো বছর ধরে চলছে সংগ্রহশালার প্রদর্শনী। ২০১৪ থেকে বেছে নেওয়া হচ্ছে ‘থিম’। এসেছে বাংলাদেশ, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা। আর এ বার নেপাল। সেখানকার পোশাক, সূচিশিল্প, পতাকা, অস্ত্র, মুদ্রা-সহ নানা সামগ্রী আলোকিত করেছে গ্যালারি।

saborno-4নেপালের শিল্পকর্মের পাশাপাশি প্রদর্শিত হয়েছে আরও অনেক কিছু। তুলে ধরা হয়েছে প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘জামাইষষ্টী’র নির্মাতা অমর চৌধুরীকে (অমরেন্দ্রনাথ রায়চৌধুরী)। অপ্রকাশিত দু’টি গল্প ‘অদৃষ্টের পরিহাস’ ও ‘ডক্টর ডাম্ব’-এর পাণ্ডুলিপি-সহ তাঁর পোশাক, হাতে লেখা সংলাপ নিজের চোখে দেখে নেওয়ার এ এক বিরল সুযোগ। এই বাংলার মাটি যে কত সোনার ফসল জন্ম দিয়েছে তার আরও এক উদাহরণ প্রণব রায় ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। প্রদর্শনীতে রাখা হয়েছে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের রেকর্ডিং-এর ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে হারিয়ে যাওয়া কিছু রেকর্ড ও বুকলেটের প্রচ্ছদ। কাজগুলি যত্ন সহকারে করে চলেছেন জয়দীপ চক্রবর্তী, যাঁর পিসি বীণাপাণি মুখোপাধ্যায় ছিলেন হেমন্তবাবুর প্রথম ছাত্রী। আছে সাবর্ণ পরিবারের সন্তান প্রণব রায়ের হারমোনিয়াম, যা দিয়ে সঙ্গীতসাধনা করেছেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ও।

saborno-2শতবর্ষ উত্তীর্ণ গীতিকার প্রণব রায়ের কথায় বহু গান গেয়েছেন হেমন্ত। তারই কিছু রেকর্ড রাখা হয়েছে প্রদর্শনীতে। গানকে জীবিকা হিসেবে বেছে নিয়ে পথ চলতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে যখন বিধ্বস্ত অবস্থা হেমন্তর, তখন শৈলেশ দত্তগুপ্ত তাঁকে ওডিয়ান কোম্পানিতে গান গাওয়ালেন। ‘আকাশের দুটি তারা’ ও ‘পরদেশি কোথা যাও’। তুমুল জনপ্রিয়তা। কলম্বিয়া তখন রেকর্ডিংটি কিনে নিয়ে নিজেদের লেবেলে রেকর্ডিং করে। সেই নিদর্শনও এখানে আছে। প্রথম রবীন্দ্রসঙ্গীত, তখন বলা হত আধুনিক গান, রবীন্দ্রনাথের কথায় ও সুরে। সেই রেকর্ড যেমন আছে, আছে প্রণব রায়কে লেখা চিঠিও।  

saborno-5
বিরল ছবি। হেমন্তর ডান দিকে গীতিকার প্রণব রায়।

হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের রেকর্ডিং-এর আশি বছরের পূর্তির লোভ সামলাতে পারেননি মেমারি ও শিলিগুড়ির দুই দর্শক। শুনে গিয়েছেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কন্ঠের তাঁদের পছন্দের গান। ১৯২৮ সালের একটি গ্রামোফোন জায়গা করে নিয়েছে এখানে। আরও একটি রেকর্ড উল্লেখ্য, যেটি ‘দাবেদার’ সিনেমার। পরবরতীকালে যেটি ‘মেরা ধরম মেরা করম’ নামে মুক্তি পায়। সেখানে ধর্মেন্দ্রর মামার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন উত্তমকুমার। হেমন্তকুমার অনুরাধা পাড়োয়ালের সঙ্গে দ্বৈত গেয়েছিলেন। লন্ডন থেকে বের হওয়া হিন্দিতে ‘বাল্মীকি’ রেকর্ডটিও আছে। এ ছাড়া আছে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের স্বাক্ষর করা স্বরলিপি।

saborno-3এ সবের পাশাপাশি স্থান পেয়েছে চল্লিশটি দেশের টুপি, কলকাতার প্রায় চারশো বছর আগের ইট। সাবর্ণবাড়ির দুর্গাপ্রতিমার রেপ্লিকা ও কুলদেবীর ছবি-সহ নানা জিনিস। প্রদর্শনীটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র থেকে কারিগরি বিভাগের পড়ুয়ারাও। আজ, মঙ্গলবার প্রণব রায় দিবস পালিত হবে। থাকবেন তাঁর পুত্র প্রদীপ্ত রায়।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here