অনুশীলনই সাফল্যের চাবিকাঠি, মনে করেন গুয়াতেমালার রাষ্ট্রদূতের স্ত্রী

0
105

shotabdi (1)শতাব্দী ঘোষ

যে কোনো সাফল্যের চাবিকাঠি হল অনুশীলন, এমনটাই মনে করেন ভারতে গুয়াতেমালার রাষ্ট্রদূত খিওবান্নি কাস্তিয়োর স্ত্রী লেসলি কাস্তিয়ো।

লেসলির সঙ্গে কথা হচ্ছিল কলকাতা বইমেলায় কোস্তা রিকার প্যাভিলিয়নে বসে। এখানে যাঁরা স্প্যানিশ শিখছেন, তাঁদের জন্য কিছু পরামর্শ চেয়েছিলাম লেসলির কাছে। তিনি বললেন, যে কোনো ভাষা শেখা এবং জানার ইচ্ছা খুবই ভালো। সব ভাষারই মতো স্প্যানিশ শেখারও পদ্ধতি হল অনবরত অনুশীলন করা। আজকাল ইন্টারনেটের সুবিধা আছে। সেখানে বিভিন্ন লিংকে গিয়ে ছোটোদের গল্পের বই পড়ে, ছোটো ছোটো কবিতা পড়ে, আলোচনার মাধ্যমে সেগুলোর পাঠোদ্ধার করে এবং নিজে ছোটো ছোটো কবিতা লেখার চেষ্টা করে নিজের শব্দভাণ্ডার বাড়ানো যায়। এ ভাবে ভাষার প্রতি আকর্ষণও বাড়ে।

লেসলির স্বামী পাঁচ মাস হল গুয়াতেমালার রাষ্ট্রদূত হয়ে ভারতে এসেছেন। লেসলি নিজেও ওই একই দূতাবাসের কর্মী। ভারতে এসেই কলকাতায় আসার সুযোগ পেয়ে লেসলি খুবই খুশি। কলকাতার আতিথেয়তা তাঁকে মুগ্ধ করেছে। তিনি জানালেন, গুয়াতেমালাতেও পারিবারিক বন্ধন খুবই দৃঢ়। ভারতের মতোই তাঁদের দেশেও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভালোবাসা ও ঘনিষ্ঠতা রয়েছে।

পারিবারিক বন্ধনের কথা উঠতেই লেসলির পরিবার সম্পর্কে জানতে চাইলাম। কাস্তিয়ো দম্পতির তিন সন্তান। সব চেয়ে ছোটোটি মেয়ে, ১৩ বছর বয়স। বাবা-মায়ের সঙ্গে দিল্লিতে থাকে। ও পড়াশোনার জন্য কলকাতায় আসতে পারেনি। আর দু’টি সন্তান পুত্র, বড়োটি ২৬ এবং পরেরটি ২৩, দু’ জনেই গুয়াতেমালায়।

জানতে চাইলাম, এ রকম বড়ো মাপের আন্তর্জাতিক বইমেলায় কখনও গিয়েছেন কিনা, ওঁদের দেশে এ রকম বইমেলা হয় কিনা।

লেসলি অকপটে জানালেন, এ রকম বড়ো মাপের আন্তর্জাতিক বইমেলায় যাওয়ার সুযোগ কখনও হয়নি। তিনি জানালেন, তাঁদের দেশেও বইমেলা হয়, তবে তা আন্তর্জাতিক নয়। কলকাতার সাহিত্যচর্চা দেখে তিনি মুগ্ধ। তবে তাঁর দেশেও যে সাহিত্যের কদর আছে, সে কথা জানাতে ভুললেন না। তাঁদের কবি মিগেল আঙ্গেল আস্তুরিয়াস ১৯৬৭ সালে নোবেল পুরস্কার পান। আরেক জন সাহিত্যিক আগোস্তো মোনতেররোসোর জন্যও তাঁরা খুব গর্বিত।

লেসলি ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্ক’ নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। পরবর্তী কালে ‘কূটনীতি’ নিয়েও পড়েছেন। তিনিও গুয়াতেমালার কূটনৈতিক দূত। তাঁর স্বামী খিওবান্নি ১৫ বছর ধরে গুয়াতেমালার রাষ্ট্রদূত, নানা দেশ ঘোরার সুযোগ হয়েছে।

লেসলিকে বললাম, কোস্তা রিকা মধ্য আমেরিকার খুব ছোট্টো দেশ হয়েও এ বারের কলকাতা বইমেলায় অতিথি দেশ হয়ে প্রচুর পরিচিতি লাভ করেছে। আপনার কি মনে হয় না আপনার দেশও এ রকম একটা মঞ্চ পাক?

“হ্যাঁ, সেটা হলে তো খুবই গর্বের ব্যাপার হবে। নিজের দেশকে বাইরে পরিচিত করানো খুবই গর্বের কাজ। আমি চাই, গুয়াতেমালাকে লোকে চিনুক, তার সাহিত্য-সংস্কৃতি সম্পর্কে সকলে জানুক।”

গুয়াতেমালা দেশটা সম্পর্কে কিছু জানতে চেয়েছিলাম। লেসলি বললেন, কোস্তা রিকার মতোই গুয়াতেমালা মধ্য আমেরিকায়। আয়তনে কোস্তা রিকার চেয়ে একটু বড়ো, জনসংখ্যাও কিছু বেশি, ১৫ মিলিয়নের (দেড় কোটি) মতো। বছরভর বসন্তকাল। জীববৈচিত্র্যে ভরপুর। জাতীয় পাখির নাম ‘কেটজাল, তার মানেই দেশের মুদ্রা, এখানকার মুদ্রায় এর ছবিও আছে। কোস্তা রিকার জাতীয় ফুল যেমন বেগুনি অর্কিড, তেমনই গুয়াতেমালায় সাদা অর্কিড। একে ‘সাদা সন্ন্যাসী অর্কিড’ বলা হয়। এখানকার প্রধান খাদ্য ভাত নয়, ভুট্টার আটা। সঙ্গে কালো বিনস্‌। এ ছাড়া মাছ, মাংস, ফল, সবজি তো আছেই। ফলের মধ্যে রয়েছে কলা, আপেল, আম, নাশপাতি ইত্যাদি। ২২টি প্রশাসনিক ভাগ আছে গুয়াতেমালায়। এক একটি ভাগের নিজস্ব ভাষা ও পরিধান আছে, যদিও দেশের সরকারি ভাষা স্প্যানিশ। ১৮২১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর স্প্যানিশ সাম্রাজ্যের হাত থেকে স্বাধীনতা পায় গুয়াতেমালা।

লেসলি চান ভারতের সঙ্গে তাঁদের দেশের সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও দৃঢ় হোক। দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান হোক। তাঁর আশা, এক দিন গুয়াতেমালাও কলকাতার আন্তর্জাতিক বইমেলায় ‘অতিথি দেশ’ হওয়ার মর্যাদা পাবে।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here