স্পেনের কাব্য নিয়ে আলোচনায় কবি ফ্রান্সিসকো মুনিওজ সোলের

0
103

saptamiসপ্তমী ঘোষ

কলকাতা বইমেলায় এসে তিনি অভিভূত। অশোক সরকার মেমোরিয়াল লেকচার দিতে এসে নিজের মাতৃভাষায় অকপটে মনের ভাব প্রকাশ করলেন স্পেনের কবি ফ্রান্সিসকো মুনিওজ সোলের।

দক্ষিণ স্পেনের শহর মালাগা থেকে আগত এই কবি শোনালেন ৬০-এর দশক থেকে স্পেনীয় কাব্যের বিবর্তনের ইতিহাস। বললেন, তাঁর দেশের বিভিন্ন দশকের কবি ও কবিতার মনন ও চিন্তাভাবনা আলাদা। প্রত্যেক দশকের বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য ধরা পড়ল তাঁর বক্তৃতায়। জানালেন, তাঁর দেশের বিভিন্ন শতকের কিছু কবির নাম, যাতে বাংলার মানুষের সঙ্গে কিছুটা পরিচয় ঘটে তাঁদের।   

বিজ্ঞাপন

সোলের আরও জানালেন, বিকৃত বা অসংলগ্ন ভাবে নয়, কঠোর গবেষণা, সম্পাদিত তথ্যসমূহ, জ্ঞান ও সমুচিত উপলব্ধি থেকে সঞ্চিত তথ্য বিশ্লেষণ করে এই কাব্যের বিবর্তনের ইতিহাস তৈরি করেছেন তিনি ও তাঁর সহকর্মী ফ্রান্সিসকো মোরালেস ও আলবার্তো ত্বররেশ গার্সিয়া। তাঁর শহরের কবিরা এক সঙ্গে গঠন করেছে কবিদের সংগঠন, যার মাধ্যমে তাঁরা সাহিত্যের নানা কাজ এক সঙ্গে করে থাকেন।

অশোক সরকার মেমোরিয়াল লেকচারে প্রথা মেনে উপস্থিত ছিলেন পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ডের কর্ণধাররা। লেখককে স্বাগত জানানোর পর তিনি প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিলেন, তাঁর মাতৃভাষা ছাড়া অন্য কোনো ভাষায় স্বছন্দ না হওয়ার জন্য। নিজের ভাষার মধ্য দিয়েই বোঝালেন, কলকাতা বইমেলায় এসে তিনি কতটা অভিভূত। বক্তব্যের শেষে নিজের লেখা বই থেকে তুলে আনলেন নানা কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে কখনও ফুটে উঠল প্রেম, কখনও একাকিত্যের যন্ত্রণা, আবার কখনও পাওয়া গেল সুদূর প্রান্তের তাঁর নিজের দেশের মাটির গন্ধ। 

যিনি রাঁধেন তিনি চুলও বাঁধেন। তা আর এক বার প্রমাণ হল। স্পেনের কবি ফ্রান্সিসকো মুনিওজ সোলের এক জন ফুটবলারও, দীর্ঘদিন কোচিং করেছেন। এই কোচিং-এর সুবাদেই কলকাতার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। কারণ আতেলেতিকো দে কলকাতার দুই ফুটবলার তাঁর হাতেই তৈরি হয়েছেন। তবে এই ফুটবলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে ৮ বছর আগেই। এখন তিনি শুধুই কাব্যজগতের সঙ্গে যুক্ত। অনুষ্ঠানের শেষে জানালেন, অবসর গ্রহণের পর তিনি ভারতে আসতে চান। এখানে এসে ইংরেজি শিখবেন এবং পাশাপাশি ভারতীয় সংস্কৃতিকেও কাছ থেকে দেখবেন তিনি।   

ছবি: শৌর্য মেউর

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here